ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত রাখে

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট, ২০১৬ ৮:০২ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ **

ছাত্রছাত্রীদের মাদকাসক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়া, নৈতিকতার অধঃপতন, খেলাধুলা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা না করা। শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা বোঝাতে পাঠ্যসূচিতেও বিশেষ পাঠ্য রাখা দরকার। মাদকাসক্তদের কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারেরও আয়োজন করতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

►  শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে হলে আগে শর্ষের ভূত তাড়াতে হবে। শিক্ষক নিজেই মাদকাসক্ত, এমন উদাহরণ আমাদের কম নেই। জঙ্গিবাদ উসকে দেন এমন শিক্ষকের কথাও আজকাল জানা যায়। আমাদের এখন দরকার পূতপবিত্র শিক্ষক।

আজহারুল ইসলাম সরকার

আহ্বায়ক, শিক্ষা ঐক্য, নরসিংদী, ঢাকা।

► শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মিলে মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। যৌথ কমিটি গঠন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হবে। সঙ্গে থাকবে ডগ স্কোয়াড। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাত্ক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মো. শাহাবুদ্দিন

মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম।

► শিক্ষার্থীদের ওপর মা-বাবা, শিক্ষক সবার নজর রাখতে হবে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করতে হবে। পুলিশ তো জানে, কোথায় কোথায় মাদক বিক্রি হয়। তারা নির্বিকার কেন? অনেক পুলিশ টাকার বিনিময়ে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। অসাধু পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিজিবিকেও বলব, সীমান্তে পাহারা বাড়ান। অসৎ সদস্য বিজিবিতে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কারণ মিয়ানমার ও ভারত থেকেও অনেক মাদক আসছে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস কলাবাগান, ঢাকা।

►  শিক্ষা কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ—এসব বিষয় থাকতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলা বাড়াতে হবে। সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

►  শিক্ষাঙ্গন থেকে অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতি আগে দূর করতে হবে। কারণ এর প্রভাবেও অনেক শিক্ষার্থী মাদক ধরছে।

ফকির আব্দুল্লাহ আল ইসলাম

বাগেরহাট সদর।

► শিক্ষাঙ্গন থেকে সর্বস্তরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে চোরাচালানের সম্পর্ক রয়েছে। এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সমাজের প্রভাবশালীরা, যাদের মধ্যে সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও আছে। তাই ক্ষমতাসীন দলও দায় এড়াতে পারে না। অস্ত্র কেনাবেচার কাজেও মাদক ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাদক ব্যবসাও কমে আসবে।

আসাদউল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

►  নিজ নিজ ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে একজন ছাত্র বা ছাত্রী মাদকের হাতছানিতে সাড়া দিতে পারে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের মায়ের মতো। মাকে পবিত্র রাখার দায়ও আমাদেরই। তাই মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার অঙ্গীকারে সবাইকে একাট্টা করতে হবে।

হাফিজুর রহমান

মংলা, বাগেরহাট।

► ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে সচেতন হতে হবে। ক্লাসে এ নিয়ে শিক্ষকদের মুখ খুলতে হবে। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে শাস্তি নিশ্চিত করা।  মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা মুখে বললেই হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে।

তরিকুল ইসলাম

মতলব ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর।

►  ‘বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়/এখানে সভ্যতার ফুল ফোটানো হয়’। আজ অনেক হাই স্কুলের কোনো কোনো শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষক সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে।

মমিন হৃদয়

কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

►  মাদককে ‘না’ বলার জন্য ব্যক্তির নিজের ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ যত মাদক আছে সবই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। একজন শিক্ষার্থী বিষয়টি যদি উপলব্ধি করতে পারে সে কোনো দিনই মাদকাসক্ত হতে পারে না। এই সচেতনতা তৈরির দায়টি সমাজকে নিতে হবে। শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। তখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক প্রবেশ করতে পারবে না। মাদক গ্রহণ না করলে ব্যক্তি উপকৃত হবে, সমাজও লাভবান হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইপা রানী পাল

সাখোয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

►  শিক্ষাঙ্গনে মাদক বিস্তারের মূল কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড কমে যাওয়াও আরেকটি কারণ। আমাদের খেলাধুলার মাঠ কমে যাচ্ছে। কিশোর, তরুণ ও যুবসমাজ একটু ভালো সময়ের আশায় মাদককে বেছে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে ছাত্রসংগঠনগুলোর আরো সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

আবদুস শাকুর

জিনজিরা, ঢাকা।

► স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করতে হবে। মাসে একবার অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সচেতনতামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতার কথা পাঠ্যসূচিতে রাখতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও বাড়ানো উচিত, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে। স্কুল-মাদ্রাসায় কোনো ভেদাভেদ না রেখে সমন্বিত পাঠ্যপুস্তক চালু করতে হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থাকতে হবে। এ বিষয়ে দেশবাসী আশান্বিত হবে যদি শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত হয়।

আবদুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

► শিক্ষাঙ্গনের কাঠামো বা অবকাঠামো নির্ণয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশিত পথে হতে হবে। খেলার মাঠ থাকতে হবে। স্কুলে শরীরচর্চা ও স্পোর্টস টিচার বাধ্যতামূলক করে ছাত্রদের শারীরিক বিকাশের সঙ্গে মানসিক ভিত তৈরির বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

► সমস্যা চিহ্নিত, এখন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাধান সম্ভব বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

 বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে হলে পরিবার, সমাজ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাঙ্গনের কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের সাময়িকভাবে শিক্ষাঙ্গনের বাইরে রাখতে হবে এবং সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময় পরেও তারা নেশার কবল থেকে মুক্ত হতে না পারে, তবে স্থায়ীভাবে শিক্ষাঙ্গন থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সব পক্ষকে নিয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

►  পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠ্য বইয়ের ব্যবস্থা করা এবং বিরতির সময় বিভিন্ন ইনডোর খেলার ব্যবস্থা করা দরকার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হবে।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে কর্তৃপক্ষের যেমন কঠোর নজরদারি দরকার, তেমনি দরকার শিক্ষার্থীদের একান্ত সহযোগিতা ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। শিক্ষাঙ্গন চত্বরে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করতে হবে।

ফজলুর রহমান বকুল

কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

► শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হলে শিক্ষার্থীদের এর কুফল সম্পর্কে জানাতে হবে। নিয়মিত সচেতনতামূলক সেমিনার করতে হবে। মাদক কোনো সমস্যার সমাধান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে।  মাদক রুখতে স্কুল-কলেজে সহপাঠ কার্যক্রম বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীর মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কঠোর ভূমিকাও প্রত্যাশিত।

মাসুম আহমেদ

ময়মনসিংহ।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে হলে সর্বপ্রথম অনুপ্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। বহিরাগতরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে ইভ টিজিংয়ে লিপ্ত হয়, মাদক সেবন করে।

আনাস

উত্তরা, ঢাকা।

►  শিক্ষাঙ্গনকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রথমত, ছাত্রছাত্রীদের বোধশক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। পরীক্ষায় মাদকের কুফল সম্পর্কিত সৃজনশীল প্রশ্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে।

মেহেদী হাসান হিমেল

মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষক ও পরিবারের সচেষ্ট থাকা জরুরি। মাঝেমধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো ক্লাসে তুলে ধরতে হবে।

ওয়াসিম রহমান সানী

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ কবি পরিষদ, ঢাকা।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে প্রথমে নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, সপ্তাহে একবার হলেও ছাত্রদের মধ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি রাখতে হবে। মাদকের কুফল সম্পর্কে তাদের বারবার সাবধানও করতে হবে।

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

►  মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গনে সভা-সেমিনার করতে হবে। তা ছাড়া স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে কুইজ, বিতর্ক প্রভৃতি প্রতিযোগিতা করা যেতে পারে। মাদক সেবনকারী তরুণ-তরুণীদের ঘৃণা না করে যদি শিক্ষক বা শিক্ষিকারা সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন, তবে অনেক তরুণ-তরুণী মাদক থেকে বের হয়ে আসবে। তা ছাড়া মাদক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অজ্ঞতা দূর করার জন্য ক্লাসে আলোচনা করলেও মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা যেতে পারে।

শামীম মাহমুদ

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর।

► অনেক পরিবারের গুরুজনরাই নেশায় আসক্ত। এ ক্ষেত্রে একজন তরুণের নেশায় হাতেখড়ি খুব সহজেই হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে ওই তরুণের ওপর পরিবারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই ছোটবেলা থেকেই তার জন্য একটা পুরোপুরি মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায় পরিবারের। আবার বিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকও নেশাসক্ত। এ পর্যায়ে তাঁদেরও অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। অনেক উঠতি তরুণই নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করতে গিয়ে টুকটাক সিগারেটে টান দিচ্ছে। এই টুকটাক অভ্যাসটিই তাকে ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত করে তুলতে ভূমিকা নেবে।

আব্দুল্লাহ্ আল হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার, ঢাকা।

► শিক্ষাঙ্গনে যাতে মাদক প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হলে তাকে সংশোধনাগারে পাঠাতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

► প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পাঠ্যপুস্তকেও অধ্যায় থাকতে হবে।

জুয়েল বৈদ্য

কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার।

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছাত্রছাত্রীদের সামনে মাদকের ভয়াবহতা বাস্তব উদাহরণসহ তুলে ধরতে হবে। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু দুশ্চরিত্রের শিক্ষার্থী থাকে, যারা আগে থেকেই মাদক সেবনে অভ্যস্ত। তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সপ্তাহে এক দিন এ ধরনের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়ে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। প্রশাসনসহ সবার ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ শুধু শিক্ষাঙ্গন নয়, সমাজও মাদকমুক্ত করতে পারে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

টঙ্গী, গাজীপুর।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত রাখার জন্য প্রথমেই শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। স্কুল-কলেজ, এমনকি মাদ্রাসাও যদি ব্যস্ত বাজারের কাছে হয় অথবা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হয়, সে ক্ষেত্রে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ও অর্থলোভী মানুষ তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য এ ব্যবসায় নেমেছে, তাদের যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের বেলায় অভিভাবকদের চেয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব বোধ করি আরো বেশি। নেশায় আক্রান্ত কোনো শিক্ষার্থীর খোঁজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের জানালে শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

► শিক্ষাঙ্গন মাদকমুক্ত করতে শিক্ষকদের মূল ভূমিকা নিতে হবে। অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

► সারা দেশে ব্যাপক হারে মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঘটেই চলেছে। ফলে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংসের পথে আছে।  শহর পেরিয়ে গ্রামগঞ্জে মাদকের ছোবল পড়ছে। সর্বনাশা মাদকদ্রব্য আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঢুকছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণ করার কথা ছিল, সেখানে অস্ত্র ও মাদক তাদের পেয়ে বসেছে। নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পারিবারিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক হতে হবে। সীমান্তপথ দিয়ে যাতে মাদকের চালান আসতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

►  গ্রামের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের কম টাকায় মাদক সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে এক শ্রেণির মানুষ মাদক গ্রহণ শেখাচ্ছে এবং মাদকসেবী হয়ে গেলে তারা তাদের অল্প টাকায় আর মাদক দিচ্ছে না। পরে তারা হয়ে উঠছে এলাকার একেকজন সন্ত্রাসী! এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অভিভাবকদের সচেতনতা। ‘আপনার সন্তান কী করছে তা খোঁজ রাখলে আপনিই লাভবান হবেন’—এমন স্লোগানে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বিনীত নিবেদন, আপনারা সবার আগে মাদক প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। মাদক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অপরাধও কমে যাবে অনেকাংশে। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ক্লাসে ক্লাসে নৈতিক শিক্ষা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মাদকসেবী কেউ আছে কি না তা খুঁজে বের করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেও মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন বেগবান করা যেতে পারে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে সচেতন হই, নৈতিক শিক্ষার হার বাড়াই।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

►  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কমিটির কাজ নির্ধারণ হয়েছিল মাদকের ক্ষতিকর দিক ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা। ২০০৯ সালে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৩২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১ হাজারে এই কমিটি হয়েছে। কমিটিগুলো কার্যত অকেজো। তাদের তেমন কোনো কাজ করতে দেখা যায় না। গত ১৯ মে রাজধানীতে সরকারি স্কুলের প্রধানদের যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাতে তাঁরা মাদককেন্দ্রিক নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষাঙ্গনকে মাদকের প্রভাবমুক্ত করতে এসব কমিটিকে সক্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যদের সচেতনতাই পারে একটি পরিবার, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা একটি দেশকে মাদকমুক্ত রাখতে। সামাজিক এ ব্যাধিকে নির্মূল করতে সামাজিক আন্দোলনই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

►  সমাজেরই অংশ এই শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষায়তন পবিত্র থাকবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। পবিত্র অঙ্গনে যখন মাদকের মতো ভয়াল জিনিস ঢুকে যায়, বুঝতে অসুবিধা হয় না আমাদের সমাজ কোন অধঃপতনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আগে সমাজকে সংশোধন করতে হবে। আর এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। হাতে গোনা কিছু শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত। এখন বাকি শিক্ষার্থীসমাজের দায় হচ্ছে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকমুক্তির আন্দোলন শুরু করা। জঙ্গি দমনে কমিটি করছি, পাহারা বসানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। মাদকের ব্যাপারেও এমন প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরকারদলীয় অনেক নেতাও জড়িত, প্রশ্রয়দাতাদের মধ্যে মন্ত্রী, এমপিরাও আছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিন। ছাত্র-শ্রমিক সবাই মিলে ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা হবেই।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল

-www.kalerkantho.com


সর্বশেষ সংবাদ