টেকনাফে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে

প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০১২ ৪:১৫ : অপরাহ্ণ

আল-মাসুদ,হ্নীলা………ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তার মাঝে হারিয়ে যেতে বসেছে টেকনাফের শিশু-কিশোর ও গ্রামীণ জোয়ানদের কাবাডি, মোরাগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, হাঁড়িভাঙ্গা, লুকোচুরি খেলা সহ হরেক রকমের খেলা। টেকনাফের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ খেলা। মাত্র এক যুগ আগেও  এসব খেলার জনপ্রিয়তা ছিল সবার মাঝে। উপজেলার হ্নীলা এলাকার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ে গোল্লাছুট, দাড়িয়াবাঁন্দা, দড়িলাফ, এক্কাদোক্কা, ফুলটোকা, লুকোচুরি খেলার নাম শুনেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সে এ খেলা দেখেনি। শিক্ষার্থীরা জানায়, এখন লেখাপড়ার এতো চাপ যে খেলার সময় পাওয়া যায় না। শুক্রবার ছুটির দিনেও থাকে বাসায় পড়ার চাপ ও প্রাইভেট। তাই কোন শিক্ষার্থীরই খেলাধূলা তেমন ভালো লাগে না। নতুন প্রজম্মের ছেলেমেয়েরা ছোট বেলা থেকে ফুটবল আর ক্রিকেট এ দু’টো খেলারই প্রচলন দেখে আসছে। হা-ডু-ডু, বৌ-মাছি, লাঠিখেলার নাম শুনেছে কিনা কিন্তু খেলার নিয়ম বা কৌশল তাদের জানা নেই। এলাকার পৌড় শ্রেণীর লোকজন জানায়, তাদের কৈশোরকালে তারা তিন পায়ে দৌঁড়, বৌমাছি, সুই-সুতা, দড়ি, সাতচারা, ধাপ্পা, কুতকুত, জুতা চোর, রুটি তাওয়া, এলন্ডি বেলন্ডি, ছোঁয়া-ছোঁয়ি, চেয়ার-দৌড়, ওপোন টু বাইসকো, চোর-পুলিশ, বস্তা দৌড়, লৌহ/বর্শা নিক্ষেপ, হাসরে হাস, সাত-পাতা, বোমপাইট, রস-কস, চার/ষোল গুটি, জামাই-বৌ, চিতল, পুতুল বউ, মার্বেল, লাটিম, ডাঙ্গুলি, বাঘ-গরু, বিস্কুট খাওয়া, চামুচ, বালিশ নামের ইত্যাদি গ্রামীণ খেলা খেলেছে। এখন আর ওইসব খেলা তো দুরের কথা নামও মনে হয় এখনকার ছেলে মেয়েরা শুনেনি। ওসব খেলার স্থলে এখন ডিজিটাল যুগের রকমারি বাস্কেট বল, ভলি বল, কেরাম বোর্ড, ডাবা, ভিডিও গেম্স নামীয় খেলা স্থান পেয়েছে। এ যুগের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া নিয়েই বেশিরভাগ সময়ে ব্যস্ত থাকে। যতটুকু অবসর পায়, সে সময় টিভিতে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলা দেখেই সময় কাটায়। তাছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হ-ডু-ডু, বৌচি, কানামাছি খেলা এখন এ যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে অজানা। স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসরেও বিলুপ্ত প্রায় এ খেলার প্রচলন নেই। একাধিক অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন আর বাচ্চাদের খেলাধূলার জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। বর্ষা মৌসুমে যেসব মাঠে এ খেলাধূলা হত তাতে  এখন গড়ে উঠেছে বসত-ঘর। আবার মাঠ থাকলেও সেখানে হচ্ছে চাষাবাদ। অবসর সময়ে ঘরে বসে টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা দেখে সময় কাটিয়ে দেয়। যারাও বা অতীতে খেলাধুলা করছেন তারা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। আর এ কারণে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এ যুগের শিশুকিশোরদের কাছে এখন স্বপ্নের সিঁড়ি। আর এখন কিশোররা তো কম্পিউটারে ব্লগিং, ফেইসবুক, মোবাইলে কলিং ও ভিডিও গেমস খেলে সময় কাটায়। আর এ কারণে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা হারিয়ে যাচ্ছে। =====


সর্বশেষ সংবাদ