সচল হয়নি বিমান ও নৌবন্দর, বিকল্প পথে রেল চলাচল শুরু

প্রকাশ: ২৭ জুন, ২০১২ ২:১৯ : অপরাহ্ণ

বুধবার সকাল থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বিমান ও নৌবন্দর এখনো সচল হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী-কুমিরার মধ্যবর্তী রেল সেতুটি ভেসে যাবার কারণে গতরাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলীয় জোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বার্তা২৪কে জানান, কুমিরা থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য গন্তব্যে যাত্রীদের এবং চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের কুমিরা স্টেশন পর্যন্ত পৌছার আপাতত ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের কুমিরা স্টেশন পর্যন্ত রেল যোগে নিয়ে সেখান থেকে মূল ট্রেনে আরোহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বুধবার সকাল থেকে শুধু ঢাকাগামী আন্তঃনগর প্রভাতি ছাড়া সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ পূর্বনির্ধারিত সব ট্রেন চলাচল করেছে বলে তিনি জানান।

 

যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিকালে ক্ষতিগ্রস্থ রেলসেতু এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেতু মেরামত কাজ যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

 

তিনি সেতু মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় রেল যোগাযোগ অব্যাহত রাখা ও সর্বোচ্চ যাত্রী সেবা প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

 

সেতু মেরামত তদারকিতে নিয়োজিত রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমদ ফোনে বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “ব্রিজটির বেশিরভাগ অংশ প্রবল পাহাড়ি ঢলে ওয়াশআউট হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ মেরামত শেষ করতে আরো বেশ সময় লাগবে। মেরামত পুরোদমে চলছে। তবে ব্রিজের পার্শ্বে বিকল্প ব্যবস্থায় অস্থায়ীভাবে রেল চলাচলের জন্য মেরামত টিম কাজ করছে বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এখনো সরে না যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু হয়নি। কবে নাগাদ ফ্লাইট অপারেশন শুরু হবে সে সম্পর্কে সিভিল এভিয়েশন অথবা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেননি।

 

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জেটিসমুহে বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন জাহাজে আমদানি-রফতানি পণ্যের ওঠানামা পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন আহমদ। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায়  বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আবস্থারত জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজযোগে পণ্য পরিবহন কাজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু হয়নি।

 

উল্লেখ্য মঙ্গলবারসহ কয়েকদিনের লাগাতার বর্ষণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের সার্বিক জীবনযাত্রাসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রমে দেখা দেয় অচলাবস্থা। পাহাড়, ভূমি, দেয়াল ধস, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও বজ্রপাতে এ পর্যন্ত চট্টগামেই ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বার্তা২৪ ডটনেট/


সর্বশেষ সংবাদ