শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাঁধ লন্ডভন্ড..হাবুডুবু খাচ্ছে শতশত পরিবার

প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০১২ ১১:১৭ : পূর্বাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ…প্রবল বর্ষন ও সাগরের প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতে ২৪ জুন শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাঁধে আবারো বড় ধরনের ভাঙ্গণে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সাগরের জোয়ারের পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া, দক্ষিন পাড়া, মিস্ত্রীপাড়া এবং ঘুলার চরের শতশত পরিবার। বেড়ী বাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গণ, অমাবশ্যার ‘জো’ এবং অবিরাম বর্ষণে টেকনাফের উপকূলীয় জনপদ ব্যাপক ভাবে প্লাাবিত হয়ে জন জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। শতশত  পরিবার  সাগর ও নাফ নদীর লবণাক্ত পানিতে নিমজ্জিত এবং পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের নিকট জরুরী প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। টেকনাফ পৌর এলাকা, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপেই শুধু ১৩০০ পরিবার পানিতে নিমজ্জিত এবং দু’টি স্থানে ৩৫০ ফুট বেড়ীবাঁধ বিধ্বস্থ হয়েছে বলে সরকারী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হয়ে বাঁধ ও চিংড়ি ঘের ডুবে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার চিংড়ি ও মৎস্য প্রকল্প সমূহ থেকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের চিংড়ি এবং বিভিন্ন জাতের মাছ ভেসে গিয়েছে। বিগত এক সপ্তাহ ধরে টেকনাফ উপজেলার সর্বত্র মাঝারী ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮ নং ফোন্ডারের কয়েকটি অংশ বিশেষতঃ শাহপরীরদ্বীপ ও নাজিরপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন এবং নবনির্মিত ও সংস্কারকৃত বাঁধে কাজে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির দারুন কাজ শেষ হতে না হতেই ব্যাপক আকারে ভাঙ্গণ ধরেছে। বর্ষার শুরুতেই বেড়ীবাঁধের এই ব্যাপক ও ভয়াবহ ভাঙ্গনে উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দা চরমভাবে শংকিত হয়ে পড়েছে। শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গণ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ,ন,ম, নাজিম উদ্দীনের নির্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মোঃ আহছান উল্লাহ দুপুরে টেকনাফ পৌর এলাকা, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ৩০০ ফুট বেড়ীবাঁধ সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ, নাজিরপাড়া সংলগ্ন ৫০ ফুট বেড়ীবাঁধ সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়েছে, শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া সংলগ্ন ৩০০ পরিবার, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া সংলগ্ন ২০০ পরিবার, সাবরাং নাজির পাড়া সংলগ্ন ৩০০ পরিবার এবং টেকনাফ পৌর এলাকা জালিয়াপাড়া ও চৌধুরী পাড়া সংলগ্ন ৫০০ পরিবার মোট ১৩০০ পরিবার পানিতে নিমজ্জিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ,ন,ম, নাজিম উদ্দীন জানান- ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেলে ‘ডি’ ফরম পূরণ করে প্রেরণ করা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ