বহুমুখী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নতুন প্রতিষ্টিত হোয়াইক্যং করিমিয়া মাদ্রাসা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ৭:০৮ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টের পাশে নতুন প্রতিষ্টিত করিমিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসাটি এলাকায় কোমলমতি শিশুদের মাঝে বহুমুখী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। অবকাঠামো এবং আর্থিক সংকট থাকা সত্বেও দেশ-বিদেশের শুভাকাংখী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯ জানুয়ারী দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টের সামান্য পুর্ব পাশে অজপাড়া গাঁয়ে মনোরম পরিবেশে নতুন প্রতিষ্টিত করিমিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় বিভিন্ন শ্রেনীতে বালক-বালিকা উভয় গ্রুপের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত।
মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা পরিচালক (মুহতমিম) মাওঃ ক্বারী ইউনুছ আস-সাইফ জানান, মাদ্রাসাটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্টিত। বর্তমানে হেফজ বিভাগ, নাজেরা বিভাগ, সকালের মক্তব, ক্বওমী সিলেবাসে মুতফররকা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত (বালক-বালিকা) চালু করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে শ্রেনী বৃদ্ধি করা হবে। এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে আল্লাহর জমিনে তারঁ দ্বীনকে গালিব করার নিমিত্তে রিজালুল্লাহ তৈরির মাধ্যমে রব্বে কারীমের সন্তুষ্টি অর্জন, দ্বীনি-শিক্ষার পাশাপাশি সুন্নাহসম্মত তারবিয়্যাতের মাধ্যমে আল্লাহর খাঁটি বান্দা তৈরি করা, ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সকল বিষয়ে যোগ্যতা সৃষ্টির মাধ্যমে সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলা। আমাদের বিভাগ সমুহ হলো মক্তব (প্লে ও শিশু বিভাগ), স্ট্যান্ডার্ড নাজেরা (বালক-বালিকা আলাদা বিভাগ), আন্তজার্তিক মানের হিফযুল কুরআন (বালক-বালিকা আলাদা বিভাগ), ইবতেদায়ী থেকে পর্যায়ক্রমে দাখিল (বালক-বালিকা আলাদা বিভাগ), কিতাব বিভাগ: পর্যায়ক্রমে তাকমীলে হাদীস (মার্স্টাস), নাহু-সরফ আরবী সাহিত্য বিভাগ (১বছর কোর্স), মাদ্ররাসার ছাত্রদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিভাগ, তাকমীল সম্পন্নকারীদের জন্য দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগ, বয়স্কদের জন্য ১বছরে ফরযে আইন শিক্ষা কোর্স, বয়স্কদের জন্য ৪০দিনের বিশেষ কোর্স তথা জরুরী মাসআলা-মাসায়েল, ইসলাহী প্রশিক্ষন তথা তা’লীম ও তারবিয়াত (প্রতি জুমাবার)। প্রতিষ্টানের বৈশিষ্ট হচ্ছে হক্বানী আলেম-ওলামাদের তত্ত্বাবধানে দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাফেজ, ক্বারী ও মাওলানা দ্বারা পরিচালিত, সম্পুন্ন নিরিবিলি, মনোরম ও স্বাস্থ্য সম্মত আবাসন ব্যবস্থা, আধুনিক আরবী, বাংলা ইংরেজি হস্তলিপি শিক্ষার সু-ব্যবস্থা, মেধা যাচাইয়ের জন্য সাপ্তাহিক সেমিনার ও মাসিক টেষ্ট পরীক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল হাদিস দোয়া-দরূদ, নামাজ ইত্যাদি শিক্ষাদান, আরবী,বাংলা, উর্দু, ও ইংরেজি ভাষায় যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রবন্ধ লেখা, দেয়ালিকা প্রকাশ ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা, অনর্গল আরবী, বাংলা. ইংরেজি কথোপকথন ও বক্তব্য, আবৃত্তি, ইসলামিক সংস্কৃতিক, প্রাক্টিক্যালি আযান, ইকামত প্রতিযোগিতা ক্বিরাত, খুৎবা ইমামতি ইত্যাদি সহীহ-শুদ্ধরুপে শিক্ষা প্রদান, সকল বিভাগে সিলেবাসভিত্তিক কুরআন হিফযের সু-ব্যবস্থা, আন্তজার্তিক হিফয, ক্বিরাত ও বির্তক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ, মাশক ও প্রশিক্ষনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, আবাসিক শির্ক্ষাথীদের জন্য মানসম্মত নাস্তা ও খাবারের সু-ব্যবস্থা, সুন্নতী পোশাক ও শরয়ী পর্দার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, শিক্ষাথীদের প্রাথমিক চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা, আবাসিক শির্ক্ষাথীদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ।
মাদ্রাসার পরিচালক (মুহতমিম) মাওঃ ক্বারী ইউনুছ আস-সাইফ বলেন, ‘মহান আল্লাহুতা‘য়ালার অফুরন্ত মেহেরবানীর উপর ভরসা করে মুরুব্বীদের পরামর্শ করে মাদ্রাসাটি নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্টা করা হয়েছে। নতুন প্রতিষ্টান হিসাবে অবকাঠামো তথা মসজিদ, শ্রেনী কক্ষ, ছাত্রাবাস, বাউন্ডারী, লাইব্রেরী ইত্যাদিসহ আর্থিক সংকট রয়েছে। মাদ্রাসাটির উন্নয়নে আমি দেশ-বিদেশের শুভাকাংখী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আন্তরিক দু’য়া এবং আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি’। ##


সর্বশেষ সংবাদ