কেজি স্কুলের নৈরাজ্য-৪: স্কুল গুলো পড়াচ্ছে অপ্রয়োজনীয় বই, বিক্রি করছে লাইব্রেরি গুলো

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১২:২৬ : পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :: কক্সবাজারের কেজি স্কুল গুলোর কর্তৃপক্ষকে ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত বই ছাত্র ছাত্রীদের না পড়ানোর জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গত ১৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের কেজি স্কুল গুলোর কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কড়াভাবে বারণ করলেও প্রশাসনের এই নির্দেশনা কেউই মানছেনা। একই সাথে ছাত্র ছাত্রী ও অভিবাবকদের ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত বই ক্রয় করতে বাধ্য না করার জন্য কক্সবাজারের কেজি স্কুল গুলোর কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করলেও ছাত্র ছাত্রী ও অভিবাবকদের তাঁরা এ বিষয়ে কৌশলে চাপ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত বই কিনাচ্ছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা সদরের লাইব্রেরি গুলোর মালিকদের গত ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত অননুমোদিত ও অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি না করার জন্য নিষেধ করলেও তা তারা মানছেনা। লাইব্রেরি মালিকেরা বিভিন্ন ভূঁইপোড় প্রকাশনীর সাথে যোগসাজশ করে নিজেরা বই ছাপিয়ে এনে বইয়ের গায়ে ৪/৫ গুন বেশি মূল্য লিখে দিয়ে সেসব বই দেদারসে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কড়া হুশিয়ারি তাদের জন্য কিছুই না।

বৃহস্পতিবার ১৬ জানুয়ারি দিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার জেলা শহরের রহমানিয়া লাইব্রেরি, মোহাম্মদী লাইব্রেরি, অন্বেষা লাইব্রেরি তাদের দোকানে ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত অননুমোদিত ও অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি করছেন প্রকাশ্যে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এহসানুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি সিবিএন-কে বলেন, কক্সবাজার শহরের উল্লেখিত ৪ টি লাইব্রেরি সরকারি বিধি নিষেধের কোন তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার কু-উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত অননুমোদিত ও অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি করছেন। যা তাঁর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও অবহিত আছেন।

এবিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার শহরের রক্ষিত মার্কেটে অবস্থিত রহমানিয়া লাইব্রেরির মালিক নুরুল ইসলামের কাছ থেকে জানার জন্য বার বার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোনে রিং বাজার পরও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে কক্সবাজার জেলা কিন্ডারগার্ডেন স্কুল এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ও নতুন বাহারছরায় অবস্থিত হাজী ছিদ্দিকিয়া প্রি ক্যাডেট এন্ড মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম সেলিম সিবিএন-কে জানান, তাঁর স্কুলে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ক্লাস পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং ক্লাস গুলোতে আগের নিয়মেই ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত বই পড়ানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছরা শহীদ তিতুমীর ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নেছারুল হক থেকে জানতে চাইলে তিনি সিবিএন-কে বলেন, সীমিত আকারে ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত বই পড়ানো হচ্ছে। যে গুলো পড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ব্যাকরণ বই উল্লেখযোগ্য। তবে তিনি আগেই জানিয়েছেন, তাদের এসব বই প্রকাশনী থেকে শহরের একমাত্র মোহাম্মদী লাইব্রেরি আনেন বলে, সে লাইব্রেরিতেই বই গুলো পাওয়া যায়। অন্য কোন লাইব্রেরিতে সে গুলো পাওয়া যায়না।

একই বিষয়ে কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কস্থ ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হামিদা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি সিবিএন-কে বলেন-গ্রামার জাতীয় বই গুলো আমরা ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত বই পড়াচ্ছি। আবার ন্যাশনাল কারিকুলাম বর্হিভুত এই বই গুলো অভিবাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের নিজস্ব লাইব্রেরি থেকে কিনে নিচ্ছে বলে তিনি সিবিএন-কে জানান।


সর্বশেষ সংবাদ