রাজনীতিতে চাপাবাজির বিকল্প নেই

প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪০ : অপরাহ্ণ

হারুনুর রশিদ আরজু::

বাজারে নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্য পণ্যের দাম প্রতিদিন কেবল হু হু করে বাড়তেই আছে। প্রতিটা শবজী 60 টাকার উপরে। পেঁয়াজের দাম আজ তিন মাস ধরে আকাশ ছোঁয়া। 30 টাকার পেঁয়াজ 200-300 টাকা। প্রতিদিন জনগণের হাহাকার কারও কানেই যাচ্ছে না। উল্টো বয়ান দিচ্ছে-পেঁয়াজ না খাওয়ার। পেঁয়াজ ছাড়া কয় পদের রান্না করা যায়। আগামী ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম’ কমবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কথা এতোদিন কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তির মুখে শুনে তেমন অবাক হইনি। কারণ কিছু চিন্তা না করে কথা বলা ওদের স্বভাব। ওরা জনগণের সাথে তামাশা করে আনন্দ পায়।

কিন্তু অবাক হয়েছি আমাদের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের মুখে এমন হতাশার কথা শুনে।
যিনি এখন সবার অভিভাবক হিসেবে আছেন তিনি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খান। সম্প্রতি তিনি এক অনুষ্ঠানে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে বলেছেন, “পেঁয়াজ পচনশীল। ডাক্তাররা বলেন, পানি না খেয়ে মানুষ ২১ দিন বাঁচতে পারে। পেঁয়াজ না খেয়ে আমরা একমাস থাকতে পারি না? আমরা, জনগণ যদি একমাস পেঁয়াজ না খাই, পেঁয়াজের যারা মজুতদার আছে, যারা জোর করে পেঁয়াজ রেখে দিয়েছে, তারা এসে আপনাদের বাপ বলে ডাকবে। বলবে বাবা পেঁয়াজ যে দামে দাও দিয়ে নিয়ে যাও। আমরা এই সুযোগ কেন নিচ্ছি না?”

এতো বড় একজন নেতা যখন বলেন, “এক মাস পেঁয়াজ না খেলে কি মানুষ মারা যাবে? জনগণ এক মাস পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ রাখলে পেঁয়াজের দাম কমতে বাধ্য।” তখন সত্যিই অবাক না হয়ে পারা যায় না। এখন ভাবছি উনারা কীভাবে নেতা হলেন! এসবতো কোনও নেতার কথা হতে পারে না! যখনই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে তখন উনারা আন্দোলন করেছেন সমালোচনা করেছেন হরতাল করেছেন। আর এখন সব দোষ জনগণের ঘাড়ে তুলে দিচ্ছেন? এটা কেমন যুক্তি যে, রাষ্ট্রে সরকার আছে প্রশাসন আছে তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের উপর তাদেরই নিয়ন্ত্রণ চালাবে? আর সরকার অসহায়ের মতো থাকবে? ব্যবসায়ী নামের ডাকাত শ্রেণী বসে বসে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন অন্যায়ভাবে ব্যবসা করবে অথচ তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে না!

এটা কেমন চিন্তা যে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দেবো? তাহলে তো চালের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। বই খাতা কাগজ কলমের দাম বৃদ্ধির কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হবে। স্বর্ণের ভরি বৃদ্ধির কারণে কিংবা কাবিনের মূল্য বেশির কারণে বিয়ে করা বন্ধ করে দিতে হবে। ঔষধের এবং ডাক্তারের ফি বৃদ্ধির কারণে চিকিৎসা করা বন্ধ করতে হবে। গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত বন্ধ করে দিতে হবে। কোনও সমস্যা দেখে সেটাকে ভয় পেয়ে সমাধানের চিন্তা না করে ঘরে বসে থাকার কথা চিন্তা করা পুরুষ মানুষের কাজ হতে পারে না। অন্তত একজন জননেতাতো এমন ভীরু বা কাপুরুষ মনের হতেই পারে না।

আমাদের দেশের নেতাদের ভাষা আন্দোলনে 144 ধারা ভঙ্গ করার সাহসের গল্প রয়েছে। একাত্তরে সম্মূখ যুদ্ধে লড়াই করার গল্প রয়েছে। 90 এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের গল্প রয়েছে। 96 এ তত্বাবধায় সরকারের জন্য আন্দোলনের গল্প রয়েছে। তখন এই নেতারা কেনো ঘরে বসে থাকেননি? বিরোধী দলের না হয় প্রশাসনের উপর কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু সরকারের তো সব ক্ষমতা আছে। সরকার কেনো ব্যবস্থা নিতে পারে না? সরকারের দায়িত্ব কি সমস্যার সমাধান করা, নাকি জনগণকে সন্ন্যাসী হওয়ার উপদেশ দেওয়া? উনারা কথায় কথায় বলেন, “বিএনপির আন্দোলনের মুরদ নেই”। কিন্তু এতোদিনে আপনাদের কার্যকলাপে বাজার নিয়ন্ত্রণেতো কোনো হেডম দেখলাম না। বিএনপির না হয় আন্দোলনে মুরদ নেই, কিন্তু পেঁয়াজের দামসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে আপনাদের হেডম কই? আসলে রাজনীতিতে চাপাবাজির বিকল্প নেই।

লেখকঃ কলামিস্ট ও আবৃত্তিকার।
arzufeni86@gmail.com


সর্বশেষ সংবাদ