মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি ! 

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ৮:০২ : পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি !

সারাদেশে যখন পেঁয়াজের তীব্র সংকট তখন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়ত থেকে ফেলা হচ্ছে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ। এসব পচা পেঁয়াজের বস্তা খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তের সামনে যেমন পড়ে আছে তেমনই ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পাড়ে।

খাতুনগঞ্জের হাজী আল হাকিম বাণিজ্যালয় আড়তের সামনে পড়ে আছে ৩০ থেকে ৪০ বস্তা পচা পেঁয়াজ। ওই আড়তের মেঝেতেও পড়ে অসংখ্য পচা পেঁয়াজের বস্তা। পেঁয়াজগুলো গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) টেকনাফ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আড়তের ম্যানেজার মো. সিরাজুল হক। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘কাল টেকনাফ থেকে আমাদের আড়তে এক ট্রাক পেঁয়াজ আনা হয়। পেঁয়াজগুলোর ৬০ শতাংশই পচা। মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে আনার সময় পেঁয়াজগুলো পচে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

শাহাদাত অ্যান্ড ব্রাদার্স, খাজা ট্রেডার্সসহ আরও কয়েকটি আড়তের সামনেও একই অবস্থা। ওইসব আড়তের সামনেও পড়ে আছে পচা পেঁয়াজ।

খাজা ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিয়ানমারের পেঁয়াজের স্টক শেষ পর্যায়ে। চাহিদা থাকায় মিয়ানমার এখন তুলনামূলক খারাপ পেঁয়াজগুলোও রফতানি করে দিচ্ছে। এ কারণে এখন টেকনাফ থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে এগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই আনার পথে পচে যাচ্ছে।’

আড়তদাররা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার বিষয়ে প্রাকৃতিক কারণকে দায়ী করলেও ক্রেতাদের দাবি বেশি দামের আশায় মজুত করে রাখার কারণে পেঁয়াজগুলো পচে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খাইরুল বাশার নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, বড় ব্যবসায়ীদের আড়তে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ। বেশি দামের কারণে কিনতে পারিনি আজ।

নগরীর জামালখান এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা পেঁয়াজ পাচ্ছি না। অন্যদিকে আড়তদাররা পেঁয়াজ মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। মজুত রাখায় ওইসব পেঁয়াজ এখন পচে যাচ্ছে। টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখতেছি আড়তদাররা বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।’

বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতে খাতুনগঞ্জের ময়লার ভাগাড়ে বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ ফেলে যাচ্ছে আড়ত শ্রমিকরা। কর্ণফুলী নদীর পাড়েও বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ ফেলে যাচ্ছেন আড়াতদাররা।

তবে গণমাধ্যমে আসা এই তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও খবর আমার কাছে নেই। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার ময়লার ভাগাড়ে পচা পেঁয়াজের বস্তা ফেলে যাচ্ছেন আড়ত শ্রমিকরা। পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মচারীরা সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলে দিচ্ছেন।’

শুক্রবার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকা থেকে কী পরিমাণ পচা পেঁয়াজের বস্তা অপসারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে শফিকুল মান্নান বলেন, তেমন বেশি না। আমি যতদূর জেনেছি দেড়শ’ থেকে দুইশ’ বস্তার মতো হবে। কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে নগরীর ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ ফেলে দিয়েছেন আড়তদাররা। বিষয়টি জানার পর বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদক বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ব্রিজঘাট এলাকায় গেলেও সেখানে নদীতে ফেলে দেওয়া পেঁয়াজ দেখতে পাননি। তবে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

ব্রিজঘাটের পাশেই মাছ ধরার ট্রলারের কাজ করছেন জাকির হাওলাদার। তার কাছে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে কয়েকজনকে এখানে পেঁয়াজ বেছে নিতে দেখেছি। তারা পচা পেঁয়াজের বস্তাগুলো খুলে ভালো পেঁয়াজগুলো বেছে বেছে আলাদা করছেন। পচাগুলো নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।

তখন এই ঘাটে কী পরিমাণ পেঁয়াজ দেখতে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ বস্তার বেশি হবে না। এরপরে কেউ পচা পেঁয়াজ ফেলতে এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর কাউকে পেঁয়াজ ফেলতে আসতে দেখিনি।


সর্বশেষ সংবাদ