চট্টগ্রাম বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড বাহিনীর সফল কর্মকৌশল

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০১৯ ১১:২০ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনীর সফল কর্মকৌশলের কারণে বাংলাদেশ জলসীমায় পণ্যবাহী বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি ও দস্যুতার ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। কোস্ট গার্ড বাহিনীর টহল টিমের সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি, রাত্রি বেলায় কর্ণফুলী নদীর অভ্যন্তরে মোহনায় এবং বহির্নোঙ্গরে সকল প্রকার চলাচলের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। গত এক বছরে বন্দরের জলসীমায় কোন চুরি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ বিএন শাহ জিয়া রহমান ২৮ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানান, ‘আইএসপিএস কোডের ধারা অনুযায়ী বহির্নোঙ্গরে আগমন ও আবস্থানকারী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনীর উপর ন্যাস্ত। দেশের ভাবমুর্তি রক্ষায় চুরি-দস্যুতা ঘটনা রোধে কোস্ট গার্ড বাহিনীর কিছু কর্মকৌশল, গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে এবং এতে সফলতাও বিদ্যমান। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে বিভিন্ন কাজে শিপিং এজেন্ট-শিপ শ্যান্ডল্যারদের আসা-যাওয়া এবং রাতে কর্ণফুলী নদী অথবা উপকূলীয় খালগুলো হতে যারা বহির্নোঙ্গরে যায় তাদের উপর গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধে কোস্ট গার্ড বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বজার রেখে বাণিজ্যিক জাহাজ হতে অসৎ উদ্যেশ্যে পণ্য বিনিময় বন্ধ করা হয়েছে। জাহাজ নোঙ্গরে থাকাবস্থায় বন্দরের রেজিস্টার্ড ওয়াচম্যান নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বন্দরের জেটি সুবিধা সীমিত বিধায় বাণিজ্যিক জাহাজসমূহকে পরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী অপেক্ষমান হিসেবে বর্হিনোঙ্গরে অবস্থান করে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বর্হিনোঙ্গরে অবস্থান করে। সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্হিনোঙ্গরের বন্দরসীমা উত্তরে মীরসরাই ও দক্ষিনে মহেশখালী পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এরপরেও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনীর সর্বাতœক প্রচেষ্টায় চুরি-দস্যুতার ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। কোস্ট গার্ড বাহিনীর টহল টিমের সংখ্যা বৃদ্ধি, গেয়েন্দা নজরদারি, রাত্রি বেলায় কর্ণফুলী নদীর অভ্যন্তরে, মোহনায় এবং বহির্নোঙ্গরে সকল প্রকার চলাচলের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ কারণে গত একবছরে বন্দরের জলসীমায় কোন চুরি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। এটি কোস্ট গার্ড বাহিনীর অসামান্য সাফল্য, যা অতীতে আর কখনো হয়নি এবং কোস্ট গার্ড বাহিনী পূর্ব জোন এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ জলসীমায় পণ্যবাহী বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি ও দস্যুতার ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশী জাহাজগুলোতে কোন ধরনের চুরি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাসমূহ সংগ্রহ, সংকলন ও প্রচার করার আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশানাল মেরিটাইম ব্যুরো, পাইরেসি রিপোর্টিং সেন্টার এবং রিক্যাপের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনসমূহে উক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রিক্যাপের তথ্যানুযায়ি সর্বশেষ ২০১৮ সালে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এগারটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর আর কোন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার। মূলত সারা দেশের বেশিরভাগ পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যিক জাহাজের মাধ্যমে এ বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে’।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চিটাগাং এর সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি এমএম আবু তৈয়ব বলেন, ‘কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় বন্দরের জলসীমায় চুরি ও দস্যুতার ঘটনা একদম নেই। এতে করে বর্হিবিশে^ চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিশে^ চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম যত বৃদ্ধি পাবে তত এ দেশে বৈদেশিক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে, ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে’।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) মেজর মুহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, ‘বন্দরের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংাদেশ কোস্ট গার্ড পালন করে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ড বাহিনীর সহায়তায় বন্দরের জলসীমায় চুরি ও দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে এনেছে। যা বর্হিবিশে^ চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে’। ##


সর্বশেষ সংবাদ