তেঁতুলিয়া থেকে হেঁটে টেকনাফের পথে সাইফুল

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১:৪০ : পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

ছুটিতে দেশসুদ্ধ পর্যটক এসে জুটেছে বিশ্বের দীর্ঘতম এ সমুদ্রসৈকতে। আজ শনিবার সকালেও ছিল মানুষের ভিড়। পর্যটকদের কেউ কেউ সমুদ্রজলে গা ভেজাচ্ছেন, কেউ বালুকাবেলায় রোদ পোহাচ্ছেন, এর মধ্যে সৈকতে ছোটখাটো এক জটলা করে একদল শুনছে এক তরুণের বক্তব্য।

মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা তরুণটির এক হাতে প্ল্যাকার্ড আরেক হাতে মাইক। প্ল্যাকার্ডে প্রশ্নপত্র ফাঁস, গুজব নিয়ে নানান সতর্কবাণী লেখা। নাম সাইফুল ইসলাম। বাড়ি দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় সদর উপজেলার আমহার গ্রামে। সেখান থেকেই তিনি হেঁটে এসেছেন দেশের দক্ষিণে কক্সবাজারে। উদ্দেশ্য দেশের মানুষকে সচেতন করা।

সাইফুল দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ২১ জুলাই সকালে বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তেঁতুলতলা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন তিনি। উদ্দেশ্য বরগুনার রিফাত হত্যা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং গুজব-গণপিটুণির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা ।

প্রথম দিন তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের চৌরাস্তার মোড় থেকে পায়ে হেঁটে ৩৮ কিলোমিটার দূরের পঞ্চগড় জেলা শহরে পৌঁছেন। এরপর পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে বগুড়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন সাইফুল। তারপর সাভারের গাবতলী দিয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে কুমিল্লা মহাসড়ক ধরে আসেন চট্টগ্রাম মহানগরে। চট্টগ্রাম থেকে পদযাত্রার ২৭তম দিনে গত শুক্রবার রাত ৯টায় পৌঁছেন কক্সবাজার শহরে।

তরুণের অভিনব এই প্রচারকাজ শুনতে জুটে যান পর্যটকেরা। পর্যটকদের উদ্দেশে সাইফুল বলেন, একটি সমাজ যখন আইন–আদালতের ঊর্ধ্বে ওঠে, তখন আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়, সমাজে অন্যায়, অত্যাচার, হত্যা, খুন-গুম, ধর্ষণ, ব্যভিচার বেড়ে যায়। বিঘ্নিত হয় সামাজিক নিরাপত্তা। নাগরিকদের এসব নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

সাইফুল আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কিছু মানুষ লাভবান হলেও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে সবাইকে তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি ছেলেধরা গুজব নিয়ে দেশে যে গণপিটুনি চলছিল, তা নিয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই অপতৎপরতা রুখে দাঁড়াতে হবে।

সাইফুলের বক্তব্য শুনে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক গোলাম রব্বানী (৫৫) বলেন, জনসচেতনমূলক কাজে এখন তেমন কাউকে পাওয়া যায় না। কমবেশি সবাই ব্যস্ত আখের গোছানো নিয়ে।

সাইফুল জানান, তেঁতুলিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁকে ১৭টি জেলার আনুমানিক ৮৪০ কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটতে হয়েছে। প্রতিদিন তিনি গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন। ২৭ দিনের পদযাত্রায় রোববার তিনি কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে হেঁটে যাবেন ৩৫ কিলোমিটার দূরে উখিয়ায়। সোমবার উখিয়া থেকে টেকনাফ জিরো পয়েন্ট পৌঁছে তাঁর পদযাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটাবেন।

এর আগেও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা নিরসনের জন্য দিনাজপুর ও ঢাকায় মানববন্ধন করেন সাইফুল। সময় পেলে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি পালন করেন। টিউশনি আর টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এমন কর্মসূচি পালন করে মানুষের নজর কাড়েন এই সাইফুল।


সর্বশেষ সংবাদ