টেকনাফে সুপার ফখরুলের উপর হামলাকারী কলিমুল্লাহ এখনো অধরা, মামলা-শাস্তি কিছুই হয়নি

প্রকাশ: ৭ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০৬ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : : টেকনাফের রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা (রা:) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার ফখরুল ইসলাম ফারুকীর উপর হামলাকারী কথিত জামায়াত কর্মী ও ইয়াবা কারবারী কলিমুল্লাহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ঘটনার চারদিন পার হলেও রহস্যজনক কারণে হামলাকারী এখনো আটক না হওয়ায় পুরো উপজেলার শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং ছাত্র সমাজের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উল্টো হামলাকারী কলিমুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাকাবকা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। সুপারের হাত ভেঙ্গে দিয়েও বর্বর কলিমুল্লাহ নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হামলার শিকার মাদ্রাসার সুপার। তিনি দিনদুপুরে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। টেকনাফের প্রতিষ্টান প্রধানসহ সচেতন অভিভাবকরা হামলাকারী কলিমুল্লাহকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় তাঁরা বড় ধরণের কর্মসুচী ডাক দিতে বাধ্য হবেন। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কলিমুল্লাহ একজন ইয়াবা কারবারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকার সুবাধে বাংলাদেশ থেকে সিন্ডিকেট তৈরী করে বিদেশে ইয়াবা পাচার করেছে। তার অন্যতম সহযোগি কক্সবাজারে অবস্থানরত আলীখালী এলাকার গবি সোলতানের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৪২) গত ১৬ জুন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহত হওয়ার পর থেকে কলিমুল্লাহ সেই দিল মোহাম্মদের সমস্ত ইয়াবার সা¤্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে। এ খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর সেই কলিমুল্লাহ এলাকা ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সুত্র জানায়। তিনি কক্সবাজারে ভাড়াবাসা নিয়ে বসবাস করারও পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সহযোগি, অস্ত্রধারীদের সেল্টারদাতা ও শত অপকর্মের অন্যতম গডফাদার কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসবে ইয়াবা পাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আবার সেই কলিম সরকারীদলের নেতাকর্মিদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যে পাচার করে যাচ্ছে হাড়িহাড়ি ইয়াবা। ধ্বংস হচ্ছে এলাকার যুব ও ছাত্রসমাজ। এলাকাবাসী আরো জানান, বিদেশ ফেরত কলিমুল্লাহ এতোদিন আন্ডার গ্রাউন্ডে ইয়াবার কালো টাকার বদৌলতে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কৌশলে রীতিমত মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে, তিনি শুনে না কারও কথা মানে না কোন আইন। দিব্যি ঘুরাফেরা করছে এলাকায়। গড়ে তুলেছে ইয়াবার শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তার বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল হাসান বলেন, একজন মানুষ গড়ার কারিগর সুপারের উপর হামলা তা বড়ই লজ্জ্বাজনক। তিনি হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।


সর্বশেষ সংবাদ