রোহিঙ্গারা সব পারে: রোহিঙ্গারা আইডি কার্ড ছাড়া সিম ব্যবহার করে কি ভাবে? প্রশাসনের অভিযান দাবি

প্রকাশ: ১১ জুন, ২০১৯ ৯:১১ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মোবাইলে দেদারছে ব্যবহার করছে বাংলাদেশি সিম। শরণার্থী ক্যাম্প ও আশপাশের বাজারগুলোয় হাত বাড়ালেই বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন কিংবা নিবন্ধন ছাড়াই এসব সিম পাওয়া যায়। এমনকি অবৈধ পথে মিয়ানমারেও তা পাচার হচ্ছে। ফলে ওই দেশে থেকে যাওয়া স্বজনদের সঙ্গে চলছে বাধাহীন যোগাযোগ। আবার এসব সিম ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ও চালিয়ে যাচ্ছে। ভুয়া রেজিস্ট্রেশন হওয়ায় পরবর্তী সময় প্রকৃত ব্যবহারকারীদের ধরতে পারছে না প্রশাসন।

সরেজমিন দেখা যায়, টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে স্থাপিত বাজারে রয়েছে একাধিক মোবাইলের দোকান। সেগুলোয় মোবাইল ও সিম বিক্রির পাশাপাশি রিজার্জ ও বিকাশ লেনদেনও হয়ে থাকে।

এ ছাড়া অনেকে ঝুপড়ি ঘরের ভেতরেও গোপনে এ ধরনের ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছেন। কেবল যোগাযোগই নয়, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রোহিঙ্গরা ফেসবুক, ইমু, হোয়াটসআপ ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি খুলে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এমন একটি ফেক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়ে এক যুবকের ভিডিওবার্তা নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় হয়।

টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের যুবক এনামুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্করা মোবাইল ফোন ও বাংলাদেশি অপারেটরদের সিম ব্যবহার করেন। এগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিকদের আইডি কার্ড দিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত। এ সুযোগে অনেকে আবার অপহরণ, ডাকাতি, খুন, হুমকি দেওয়া ও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণায় এসব সিম ব্যবহার করে। তবে ক্যাম্পের সবাই যে মোবাইল ব্যবহারে সচেতন, তা নয়।’

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় টাওয়ার স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের নেটওয়ার্ক কাভারেজ দিচ্ছে। তা ছাড়া বিভিন্ন অপারেটরদের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটররা ক্যাম্পে গিয়ে নিয়মিত এজেন্ট বা দোকানিদের কাছে সিম ও রিচার্জের টাকা দিয়ে আসেন। ক্যাম্পের আশপাশের অনেক বাজারেও স্থানীয় দোকানিরা অর্থের লোভে রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি করে থাকেন।

থায়ংখালী ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, ‘আমার নিজের তিনটি সিম রয়েছে। একটি সিম থায়ংখালী বাজার থেকে এবং অপর দুটি ক্যাম্পের ভেতরে থাকা দোকান থেকে কিনেছি। প্রতিটি সিম কিনতে হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। কোনো আইডি কার্ড বা আঙুলের চাপ দিতে হয়নি সিমগুলো কিনতে।’

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, ‘সব অপারেটরের সিমই রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে তারা কোনো সিম বৈধ উপায়ে কিনে না। সবই ভুয়া রেজিস্ট্রশনের মাধ্যমে দোকানিরা তাদের কাছে বিক্রি করে। কোনো কোনো রোহিঙ্গার হাতে প্রায় সব অপারেটরের চার থেকে পাঁচটি সিম রয়েছে।’

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের অবাধে মোবাইল ও সিম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় তারা ক্যাম্পের ভেতরে সরকারের বিভিন্ন তৎপরতা দেশের বাইরে ফাঁস করে দিচ্ছে। এমনকি তাদের একটি বড় অংশ এখনো মিয়ানমার সরকারের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে বলে জানা গেছে। হাতে হাতে মোবাইল থাকায় তারা ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য ও ছবি দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয় খুব সহজেই। এ ছাড়া অনেক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও মোবাইলের মাধ্যমে চালিয়ে থাকে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও সিমের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তা ছাড়া আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ক্যাম্পে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’


সর্বশেষ সংবাদ