টেকনাফে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কর্মশালা সম্পন্ন

প্রকাশ: ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ৯:০৫ : অপরাহ্ণ

ইয়াছিন আরাফাত,হৃীলা:
টেকনাফে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় টেকনাফ সীবীচ সংলগ্ন সেন্ট্রাল রিসোর্ট হলরুমে ইউএনডিপির সহযোগিতায় হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম,ইয়ুর্থ ফোরাম ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে নিয়ে (আন্তঃ-সম্প্রদায়িক সংহতি প্রচারের জন্য জবাদিহি ম্যাকিনে কর্মশালা) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কনসালটেন্ট কেফায়েত উল্লাহ সাজ্জাদ ও জয়ের সঞ্চালনায় টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,ইউএনডিপির জেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর চৌধুরী মোঃ খালিদ হোসাইন এরশাদ।

প্রধান অতিথি ছিলেন,হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী।
বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন,টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যুগ্ন-সম্পাদক নুরুল হোসাইন, হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি হারুন রশিদ সিকদার,হোয়াইক্যং আলি আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল চৌধুরী মুছা।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যুগ্ন-সম্পাদক অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির চৌধুরী,সিপিএফ সদস্য ফরিদুল আলম, ইয়ুর্থ ফোরামের সভাপতি মোঃ সালমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন,হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও শিক্ষকবৃন্দ সহ প্রমুখ।

বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত সহিংসতার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী সংকটময় সময়ে স্মরণ কালে ভয়াবহ সহিংসতা ও নারকীয় গণহত্যা সংগঠিত হয়।

রোহিঙ্গা আসার কারনে স্থানীয় জনসাধারণ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউএরডিপির সিটুআরপি প্রকল্পের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন এবং সামাজিক উন্নয়ন নিরীক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে টেকনাফ উখিয়া উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম,ইয়ুর্থ ফোরাম,মেডিয়েটর ফোরাম সহ গঠণ করেছে এবং এ সামাজিক বাস্তবতায় আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে জাতি সংঘ উন্নয়ন সহযোগীতায় পরিচালিত কমিউনিটি রিকভারি এন্ড রেজিলেন্স প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যক্রম স্থানীয় কমিউনিটিতে বিশেষ গ্রহনযোগ্যতা লাভ করেছে।

টেকনাফে রোহিঙ্গা শুধু পরিবেশগত নীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না বরং রোহিঙ্গাদের কারণে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তা হচ্ছে উখিয়া-টেকনাফের সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়।বহু বিবাহ, বাল্য বিবাহ নারী নির্যাতন, মাদক এর সকল অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গিয়ে স্থানীয় স্থিতিশীল সামাজিক অবকাঠামোর উপর নেমে এসেছে মারাত্মক বিপর্যয়।

আশ্চর্যজনক ভাবে এই এলাকাগুলো শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও বেড়ে গেছে এর কারণ হলো,এনজিওগুলো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের চাকরী দিচ্ছে, যার ভবিষ্যৎ ফলাফল নেতিবাচক। এই এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি ভিজিএফ ইত্যাদি নানামুখী সেবা কার্যক্রম যা ইউনিয়ন পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই নানা ধরনের পরিচালিত হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই নানান ধরণের অনিয়ম,রাজনৈতিক এবং ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে টাকার লেনদেন হয় এবং সঠিক ব্যক্তিবর্গ নির্দিষ্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

ফলে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক,পারিবারিক, পারিপার্শ্বিকতা,নীতি-নৈতিক এবং সৌহার্দ সম্প্রীতির প্রতিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং সমাজে সুশাসন না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সামাজিক অপরাধীরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ ও জনসচেতনতা রোধ সৃষ্টি করে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আর কোনো বিকল্প নেই।

তাই আমরা এখানে সবাই একত্রিত হয়েছি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে কিভাবে সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কিভাবে সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন করা যায় এবং বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধে এবং মাদক নির্মূলে কি ভূমিকা পালন করা যায়- যার জন্য এই কর্মশালার আয়োজনে এসব কথার বিষয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।


সর্বশেষ সংবাদ