ডিসিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সকালে দায়ের করা মামলাটি সন্ধ্যায় খারিজ

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৪৯ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::  কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ফৌজদারী মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ।

মহেশখালীর উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে ঘুষ দাবি ও নয়-ছয়ের মাধ্যমে একজনের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা অপরজনকে দেয়ার অভিযোগে কেফায়েতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনি মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার মরহুম ডা. আমান উল্লাহ’র ছেলে।

বুধবার দুপুরে করা মামলাটি পর্যালোচনা শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ এবং জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ খারিজ করে দেন বলে জানিয়েছেন জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম আব্বাস উদ্দিন।

তিনি জানান, ফৌজদারী দরখাস্তটি পাওয়ার পর বাদির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড ও মামলার আরজি পর্যালোচনা করে তদন্ত করতে দেয়ার মতো কোনো উপাদান না পেয়ে সন্ধ্যায় মামলাটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

মামলাটি খারিজের প্রতিক্রিয়ায় বাদীর আইনজীবী মো. জাকারিয়া বলেন, আমাদের জবানবন্দি নেয়ার পর আশা করেছিলাম অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা করবেন বিজ্ঞ আদালত। কিন্তু এটি খারিজ করে দেয়ায় আমরা ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছি। সুবিচারের আশায় আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করার উদ্যোগ নেব।

বাদী কেফায়েতুল ইসলাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছিলেন, মাতারবাড়ি মৌজায় ৩ দশমিক ৭৬ একর জমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পেতে রোয়েদাদ ১৩৭ মূলে তাকে ৭ ধারায় নোটিশ দেয়া হয়। সেই অনুসারে গত ১৬ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় মামলার ৩নং আসামি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদের কক্ষে যান ভুক্তভোগী।

এ সময় ১নং আসামি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ অপর আসামিদের যোগসাজশে ৩নং আসামি তাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ফাঁন্দে পড়ে বাদী পক্ষ নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা সাত দিনের মধ্যে দিলে ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য টাকার চেক প্রদানের আশ্বাস দেন মওদুদ আহমদ।

কিন্তু পরবর্তীতে আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতা ও যোগসাজশে ৩৫ শতাংশ ঘুষ নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে ১১নং আসামি মাতারবাড়ির ইসলাম মিয়ার ছেলে অলি আহমদ, জামাল উদ্দিন, মেয়ে তাহেরা বেগম, মো. সেলিম প্রকাশ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, আলী আসকরের মেয়ে রোমেনা আফরোজ এবং মগডেইল এলাকার আবু ছালেককে ১৯ লাখ টাকা দিয়ে দেয়। অথচ এসব আসামির জমি ওই অধিগ্রহণে পড়েনি। ঘুষ নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ায় ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাদী।


সর্বশেষ সংবাদ