১৮ বছরের আগে সন্তান্দের হাতে মোবাইল ফোন দিলে বিপদ: মেয়র

প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৭:০৪ : অপরাহ্ণ

 টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: সামাজিক বৈষম্য, ব্যভিচার, মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরের রয়েল গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে চসিকের বাগমনিরাম ওয়ার্ডের উদ্যোগে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

তিনি ছেলেমেয়েদের হাতে ১৮ বছরের আগে মোবাইল ফোন না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিকের আইনশৃঙ্খলা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর এইচএম সোহেল, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আক্তার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এমদাদুল ইসলাম। বক্তব্য দেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, বাগমনিরাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর, নারীনেত্রী উম্মে হাবিবা আঁখি, শিল্পকলা একাডেমির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বাবুল, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী মুক্তার আহম্মদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম আহমুদুল হক, মো. বশির, ডা. দুলাল দাশ, অ্যাডভোকেট প্রদীপ চৌধুরী, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের মহিলা শাখার সভাপতি শাহানা আফরোজ, আব্দুল আজিজ, মো. জহির আহম্মদ, ডেকোরেশন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম মিল্টন, গোলপাহাড় কালীবাড়ী শ্মশান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইকেল দে, প্রদীপ দে প্রমুখ।

মেয়র বলেন, সামাজিক এ বন্ধনের শিক্ষা আমরা প্রতিটি পরিবার থেকে পেয়ে থাকি। পারিবারিক এ বন্ধন দৃঢ় হলে জবাবদিহি চলে আসে। আর যেখানে জবাবদিহি থাকে সেখানে অপরাধ প্রবণতা কমে যায়। সামাজিক সম্পর্কহীন মানুষ বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। তাই নিজকে ভালো রাখার তাগিদে আমাদের উচিত পরিবার তথা সমাজ থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন না করা।

একসময় আমাদের যৌথ পরিবারগুলোতে দেখা যেত, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি কিংবা মা-বাবার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকার কারণে সন্তানের ভালো-মন্দ তদারকি করতে পারতেন। ফলে সন্তানের মনেও কোনো প্রকার খারাপ বাসনা সহজে বাসা বাঁধতে পারতো না। সামাজিক বন্ধন যত দুর্বল হয়, সমাজে তত বিশৃঙ্খলা অশান্তি বাড়তে থাকে। তাই সামাজিক বন্ধন যুগ যুগ ধরে আমাদের সুন্দরের পথে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

আমাদের মধ্যে রাজনীতিক আদর্শগত ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ নগর থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। এ কাজটি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য চাই সামাজিক আন্দোলন। মাদক আমাদের প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস একে অপরের পরিপূরক। মাদককে সমাজ থেকে নির্মূল করা গেলে সন্ত্রাসও নির্মূল হবে। উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সন্ত্রাস ও মাদক। তাই সমাজ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি উচ্ছেদ করে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব


সর্বশেষ সংবাদ