স্বপ্নের দোকান থেকে ৫ টাকায় কাপড় কিনে পথশিশুদের ঈদ

প্রকাশ: ২৮ মে, ২০১৯ ১:২৬ : পূর্বাহ্ণ

হাবিবুর রহমান,কুমিল্লা:: ভাই এই শার্টটার দাম কত? পাঁচ টাকা, ওই গেঞ্জিটার দাম কত? ২ টাকা। প্যান্টের দাম কত? একদাম পাঁচ টাকা। এভাবে দর-কষাকষির মাধ্যমে কুমিল্লা টাউনহল মাঠ থেকে ঈদের নতুন পোষাক কিনলো দুই শতাধিক পথশিশু।

ঈদের পোষাক কিনতে পেরে এসব পথশিশুদের আনন্দ যেন উপচে পড়ছিলো। নতুন পোষাক কিনতে পেরে পুরো টাউনহলে পথশিশুরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠে। তাদের পদচারণায় মনে হয়েছিলো এ যেন ঈদের আগে আরেক ঈদ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সহযোগিতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফর পিচ (সিডিপি) এর ‌‌‌‌‌‘স্বপ্নের দোকান’ শনিবার (২৫ মে) শিশুদের নতুন পোষাকের পসরা নিয়ে বসেছিলো কুমিল্লা টাউন হলে।

‘স্বপ্নের দোকান’ থেকে ঈদের জামা বিনামূল্য বিতরণ না করে বরং নামমাত্র মূল্যে পথশিশুদের কাছে বিক্রি করে। মূলত ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে ‘স্বপ্নের দোকান’ নামমাত্র মূল্যে ঈদের নতুুন জামা বিক্রি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে। তারা যেন ঈদের কেনাকাটার আনন্দটা উপভোগ করতে পারে এটাই ছিলো স্বপ্ন দোকানের মূল উদ্দেশ্য।

স্বপ্নের দোকানের স্বেচ্ছাসেবকরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সর্বোচ্চ কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করে দিনভর পথশিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোষাক বিক্রি করে ঈদের তাৎপর্যকে অর্থবহ করে তুুুলে। এখান থেকে পথশিশুরা সাধারণ ক্রেতাদের মতই দোকান থেকে নিজের পছন্দমতো নতুন পোষাক কিনে নেয়। আর নতুন পোষাকগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় করে সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়তি আনন্দ দেয়ার লক্ষ্যেই এমন মহতি আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সদস্যবৃন্দ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ কমান্ড কুমিল্লা মহানগরের আহবায়ক তাহসিন বাহার সূচনা এমন মহতি কাজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলনে, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর অবশ্যই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে ঈদ আমাদের জন্য বৈষম্যহীন এক অনন্য উপহার। এখানে ধনী-গরিব সবাই একসাথে যেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। দীর্ঘ একমাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদেরকে সে বার্তাটাই দেয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ কমান্ড কুমিল্লা মহানগরের আহবায়ক তাহসিন বাহার সূচনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সামনের দিনে ‌স্বপ্নের দোকান বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে যাবে আর আরো বড় পরিসরে। দিনশেষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাসি মুখ দেখেই হবে আমাদের সবার সার্থকতা। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সকল প্রাণে, সমানভাবে এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।


সর্বশেষ সংবাদ