টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ১৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

imagesঢাকা: দেশের বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর  অস্থিরতা কাটছে না।প্রতিষ্ঠানটিতে বৃহৎ কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে সৃষ্ট এই অস্থিরতা কর্মীদের চরমভাবে হতাশ করেছে। আর এ পরিস্থিতি সামলাতে নিজে থেকেই উদ্যোগী হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টরে জনসেন।

টরে জনসেন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সম্প্রতি সব কর্মীকে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন। বিশাল এই বার্তায় গ্রামীণে গণছাঁটাইয়ের খবরকে গুজব আখ্যা দিয়েছেন তিনি। যেসব বিষয় নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তার প্রত্যেকটি পয়েন্ট উল্লেখ করে গুজব ও বাস্তবতা এই শিরোনামে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ই-মেইল বার্তায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাটিকে সর্বৈব মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্য নেই। তবে এও বলেছেন, কিছু লোককে কাজ অবশ্যই হারাতে হচ্ছে।  বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে- সবাইকে স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

টরে জনসেন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের সিইও কোম্পানির এক হাজার, দেড় হাজার কিংবা আড়াই হাজার লোকবল ছাঁটাই করে এর কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। গ্রামীণফোনের কর্মী কমানোর কোনো এজেন্ডাই নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, মূলত প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো ব্যক্তিকে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে তাদের কর্মদক্ষতা অনুযায়ী বদলির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দুর্ভাগ্যক্রমে এই পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু লোক বাদ পড়ছে।

সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে, তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কিছু পদের প্রয়োজনীয়তাও হারিয়েছে, এমন বক্তব্য তুলে ধরে অনেকটা ছাঁটাইয়ের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, টরে জনসেন ২০১১ সালের মার্চে গ্রামীণফোনের নতুন সিইও হয়ে আসার পর থেকেই কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।  ব্যয় সংকোচনের জন্য টরে জনসেনের ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে। এর আগে তিনি যখন মালয়েশিয়াতে ছিলেন তখন এই কাজে `সুনাম` কুড়িয়ে ছিলেন। জনসেন মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের তার ঘনিষ্ট দু’একজনকেও গ্রামীণফোনে নিয়ে আসেন। তার মধ্যে অন্যতম মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান পাকিস্তানি বশোদ্ভূত হারুণ ভাট্টি। আর হারুণ ভাট্টিই কর্মী ছাঁটাই কাজের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছেন।

টরের ই-মেইল বার্তায় বলা হয়, বর্তমান মার্কেটিং চাহিদা অনুযায়ী গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। এই পদ্ধতিতে সবকর্মীকে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। আর এসবই করা হচ্ছে বৈশ্বিক প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। অনেক বিজনেস ইউনিট গ্রামীণফোনের এই মডেল চালু করেছে, বাকিরা এটি অনুসরণ করবে। গতানুগতিক ছাঁটাইয়ে বৃহৎ সংখ্যক লোক চাকরিচ্যুত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, অর্থ কিংবা কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কারো সঙ্গে আমার (সিইও) এ ধরনের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এমনকি আমিও তাদের এ ধরনের কিছু করতে বলিনি। সুতরাং এ ধরনের খবর পুরোটাই মিথ্যা, যা কিনা পুরো প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি টরে জনসেন পুরোপুরি অস্বীকার করলেও তার ই-মেইল বার্তায়ই চাকরিচ্যুতদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কি কি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করতে চেয়ে বাংলানিউজকে বলেন, “যদি কর্মী ছাঁটাই না হয়ে থাকে তাহলে ছাঁটাই হলে কি কি সুবিধা দেওয়া হবে তার এত ফিরিস্তি দিলেন কেন সিইও।“

এদিকে সূত্র নিশ্চিত করেছে, ব্যয় সংকোচনের কথা বলে দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে চলছে বৃহৎ ছাঁটাই। তবে এর অন্যতম টার্গেট প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা। বিশেষ করে যারা অন্ত:সত্ত্বা বা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। বাংলানিউজ এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ‘কথিত চাকরি রক্ষার পরীক্ষা’ নামেই গ্রামীণফোন কর্মী ছাঁটাই করছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ টেলিযোযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয় গ্রামীণফোন কর্র্তৃপক্ষকে। বৃহস্পতিবার এই চিঠির জবাব দেয় গ্রামীণফোন।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে বিটিআরসি আলোচনায় বসবে। চিঠির উত্তর পূঙ্খানুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ করবেন তারা। এরপর এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

টরের বার্তার একটি অংশ জুড়ে ছিল চাকরি রক্ষায় পরীক্ষার বিষয়টিও। এতে বলা হয়, এই ধরনের পরীক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। এটিকে একটি স্বচ্ছ  প্রক্রিয়া বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিশেষ করে এতে যে ‘লিখিত পরীক্ষা’ নেওয়া হয়, তা মেধা যাচাইয়ের জন্য সেরা পদ্ধতি। তবে গ্রামীণের ছাঁটাই হওয়া ও বর্তমান অনেক কর্মীর মতে এটি স্রেফ ছাঁটাই করার পরীক্ষা। কোনো ধরনের পূর্ববার্তা ছাড়া পরীক্ষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ই-মেইল বার্তার শেষে টরে জনসেন বলেন, এরপরেও গুজবের বিষয়ে কারো মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের কাছে এ বিষয়ে জেনে নিতে পারেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT