টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হুমকির মুখে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ৯৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Chardike_Leadটেকনাফ নিউজ ডেস্ক…..দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সাগরের স্বচ্ছ নীল পানির বুকে জেগে থাকা আরণ্যক সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রবাল-শৈবাল আর সামুদ্রিক নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী। সাগরে স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর প্রকৃতির মিতালি দেখতে প্রতিদিন ছুটে যান দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক। কিন্তু দর্শনার্থীদের অবাধ যাত্রা, মানুষের চাপ, নির্বিচারে শিকার ইত্যাদি কারণে হুমকির মুখে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। সেই সঙ্গে বিপন্ন পুরো সেন্ট মার্টিন। প্রকৃতির দান সেই সেন্ট মার্টিন নিয়ে চারিদিকে দেখ চাহি’র আমাদের আজকের আয়োজন। চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ ফটো সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন ঝন্টুর তোলা ছবিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার মুস্তফা নঈম ও মাহফুজুর রহমান হেলাল
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন যা ইংরেজিতে সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড নামে পরিচিত। ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত টেকনাফ থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনা ছাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে দ্বীপটির অবস্থান। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ উপজেলার একটি দ্বীপ এবং ইউনিয়ন যা স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত। যদিও প্রাশাসনিকভাবে এটি একটি ইউনিয়ন এবং গ্রাম, তবে গ্রামের বিচারে বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামের মতো এটি নয়। সাগরপাড়ের কিনারা ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল হোটেল আর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দিন-রাত পদাচারণা এর স্বাভাবিক গ্রাম্য পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৫০ প্রজাতির মাছ, ৫ প্রজাতির দুর্লভ কাছিম, ১৫ প্রজাতির সাপ, ৩০০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ২০০ প্রজাতির পাখি (দেশি ও পরিযায়ী মিলিয়ে), ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৫ প্রজাতির টিকটিকি-গিরগিটি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে; রয়েছে পাথুরে শিলা ও হরেক রকম শৈবালের রাজ্য। স্থানীয়ভাবে পেজালা নামে পরিচিত ঝবধ বিবফং বা অ্যালগি (অষমধব) এক ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল সেন্ট মার্টিনে প্রচুর পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে, তবে লাল অ্যালগি (জবফ অষমধব) বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়াও রয়েছে ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে স্পঞ্জ, শিল কাঁকড়া, সন্ন্যাসী শিল কাঁকড়া, লবস্টার ইত্যাদি। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল করাল, রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ুক্কু মাছ ইত্যাদি। সামুদ্রিক কচ্ছপের (গ্রিন টার্টল ও অলিভ টার্টল প্রজাতি) ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে জায়গাটি খ্যাত। এসব কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বলা হয়েছে বিশ্বের দুর্লভতম স্থানের একটি। বিশেষ করে স্বল্প আয়তনের আর কোনো স্থানে এমন নৈসর্গিক দৃশ্য ও বহুল প্রজাতির উদ্ভিদ বা জীব প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায় না।
সেন্ট মার্টিনে মাইলের পর মাইল জুড়ে এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী দেখা যায়, সেগুলোই প্রবাল। মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা দেখতে দেয়ালের মতো এই প্রবাল প্রাচীর কিন্তু গঠিত হয় আসলে এক ধরনের প্রাণীর শরীর থেকে। প্রজাতিভেদে এদের আকৃতি ভিন্ন হয় এবং এরা দলবদ্ধ জীবনযাপন করে। অপরিণত দেহযন্ত্রবিশিষ্ট কোটি কোটি প্রবাল জমে সৃষ্টি হয় প্রবাল প্রাচীরের। হাজার হাজার বছর ধরে এসব প্রবাল তাদের শরীরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমিয়ে থাকে। ফলে একসময় তা জমে শক্ত হয়ে যায়। এভাবেই বছরের পর বছর প্রবাল জমে আস্তে আস্তে গড়ে উঠতে থাকে প্রবাল প্রাচীর। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় কোরাল রিফ বা প্রবাল প্রাচীরটি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে, যার নাম গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। প্রবাল সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় এবং কম গভীরতাসম্পন্ন সাগরে বসবাস করে। সাগরের বুকে চরে বেড়ানো জলজ প্রাণীদের অন্যতম বিচরণস্থল এই প্রবাল প্রাচীর, যা সমুদ্রপিয়াসী মানুষেরও আকর্ষণের বিষয়। কেবল পর্যটকদের আকর্ষণই নয়, মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা এ প্রবাল প্রাচীর সামুদ্রিক ঝড় থেকে রক্ষা করে সাগরতীরের স্থলভাগকেও। সুনামি কিংবা জলোচ্ছ্বাসের বিপরীতে প্রাকৃতিক দেয়ালের মতো কাজ করে থাকে এ প্রবাল প্রাচীর। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় আমাদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপটিও প্রবাল দিয়ে গড়ে উঠেছিল। তার সঙ্গে পলি যুক্ত হওয়ায় দ্বীপটিতে গড়ে ওঠে উদ্ভিদবৈচিত্র্য আর এই কারণেই সেন্ট মার্টিনকে বলা হয় বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর দান সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল প্রাচীর আজ হুমকির মুখে। এর পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অতি লোভ কাজ কারছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের পানিও উষ্ণতর হয়ে উঠছে, যা প্রবাল জমার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় ক্ষতি করছে পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, সেন্ট মার্টিনের অধিকাংশ প্রজাতির প্রবাল ও শৈবাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবাধে আহরণ ও পর্যটকবাহী জাহাজ থেকে নির্গত তেলের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের প্রবাল-শৈবাল। পাশাপাশি ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে এখনও কিছু প্রবাল-শৈবাল থাকলেও অবাধে আহরণের কারণে শিগগির তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বেআইনিভাবে প্রবাল-শৈবাল সাগর থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন পর্যটকদের কাছে। যদিও উপকূলীয় ও জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে পরিবেশ অধিদফতর ১৯৯৫ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুসারে (গেজেট ১৯৯৯) সঙ্কটাপন্ন ওই এলাকায় প্রবাল, শৈবাল, শামুক, ঝিনুক সংগ্রহ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে মাছ, কচ্ছপ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতিকারক যে কোনো ধরনের কাজ; পাথুরে ও প্রবাল শিলা আহরণ, যে কোনো নির্মাণ কাজে পাথুরে ও প্রবাল শিলার ব্যবহার। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যদিও এসব আইনের তোয়াক্কা করছে না কেউই। পরিবেশ অধিদফতরেরও আইন বাস্তবায়নে তেমন আন্তরিকতাও চোখে পড়ছে না কারও।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাল প্রাচীর সংলগ্ন সৈকতগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের আগমন বেশি হয়ে থাকে। সেন্ট মার্টিনও এ থেকে ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে মাত্রাতিরিক্ত পর্যটক ভ্রমণ করতে আসছেন। আর তাদের জন্য সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে বড় বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁ। এসব হোটেল এবং রেস্তোরাঁর বর্জ্য ক্রমেই দূষিত করে ফেলছে সাগরতীরের পানি। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী শতাব্দীর আগেই পৃথিবীর প্রবাল প্রাচীরগুলো নষ্ট হয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। তাদের অভিমত, পরিবেশ দূষণের মূল প্রভাবটা প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের চেয়েও খারাপ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের জীবজগতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জাপানের শিজুয়োকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত বাংলাদেশী জীববিজ্ঞানী মো. নজরুল ইসলাম সম্প্রতি প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিডব্লিউ রেডিওকে বলেন, ‘আমাদের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল। কিন্তু আমাদের অযত্ন ও অবহেলার কারণে সেটা সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারছি না। সিওএস, নানা ধরনের সার এবং রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তলানি জমে যাচ্ছে। সমুদ্র সৈকতে যথেচ্ছ নির্মাণ কাজের ফলে চিরহরিত্ বৃক্ষসহ বনায়ন ধ্বংস হচ্ছে। বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড। অধিকতর উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সমুদ্রপৃষ্ঠ। এসব কারণে প্রবাল জগত্ ধ্বংস হচ্ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে অধিক হারে মত্স্য শিকার। এছাড়া মাছ ধরার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে ধ্বংসাত্মক উপায়। বিশেষ করে বড় বড় মাছ ধরতে ডিনামাইট ব্যবহার করায় সেন্ট মার্টিনের সমুদ্রতলের উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের ভীষণভাবে ক্ষতি হচ্ছে।’
সম্প্রতি সেন্ট মার্টিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকজন সৈকতে দাঁড়িয়ে পরিবেশ আইনে আহরণ এবং বিক্রি নিষিদ্ধ প্রবাল-শৈবাল বিক্রি করছেন। পর্যটকরাও ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিয়ে এগুলো সংগ্রহ করছেন। প্রবাল বিক্রেতা স্থানীয় কিশোর হামিদ জানায়, তার বড় ভাই সমুদ্র সৈকতের পাথরের স্তূপ থেকে কেটে প্রবাল-শৈবাল আহরণ করে। পরে তাকে এসব প্রবাল-শৈবাল বিক্রির জন্য পাঠায়। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মতো বিক্রি হয় বলে জানায় হামিদ।
সেখানে থাকা পুলিশ ফাঁড়ি এসব বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে তাদের যুক্তি, প্রবাল-শৈবাল আহরণকারীদের উপার্জনের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় তারা এসব কাজ করছেন। তাদের বিকল্প পেশায় পুনর্বাসন ও পর্যটকদের এসব না কিনতে নিরুত্সাহী করা গেলে দ্বীপের পরিবেশ ফিরে আসত বলেও তাদের অভিমত।
সেন্ট মার্টিনের উত্তর ও পশ্চিম এলাকায় প্রবাল-শৈবাল প্রায় বিলুপ্ত হলেও দেশের সর্বদক্ষিণের ছেড়াদিয়া দ্বীপে সামান্য প্রবাল-শৈবালের দেখা এখনও মিলছে। তবে সেখানে গিয়েও দেখা যায় মূল দ্বীপের দৃশ্য। ছোট ছোট কিশোর-কিশোরী দ্বীপের বালুচরে সাজিয়ে রেখে প্রকাশ্যে প্রবাল-শৈবাল বিক্রি করছে। স্থানীয় লোকজন জানান, দিনে কমপক্ষে কয়েক হাজার পর্যটক এই দ্বীপ ঘুরতে আসেন। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখান থেকে প্রবাল-শৈবাল ও শামুক-ঝিনুক নিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রবাল বিক্রি শুধু সেন্ট মার্টিনেই সীমাবদ্ধ নেই, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহর কিংবা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের শতাধিক দোকানেও সেন্ট মার্টিন থেকে সংগ্রহ করা প্রবাল বিক্রি হতে দেখা যায়। এ কারণে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে মূল্যবান জীববৈচিত্র্য। এদিকে স্থানীয় জনগণের কাছে জানা যায়, রাতের বেলা সৈকতে সংশ্লিষ্ট হোটেল-মোটেল ও দোকানের অতিরিক্ত আলো এবং পর্যটকদের জ্বালানো আগুনের জন্য সামুদ্রিক কাছিমের আগমন দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক কাছিমের বংশ বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করছে। সামুদ্রিক কাছিম ও পরিয়ারী পাখিদের আবাসস্থলে পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, দ্বীপটির আশপাশের কেয়াবন ধ্বংস করে অবৈধ হোটেল-মোটেল তৈরি করা, প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে সামুদ্রিক প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, কেয়াফুল ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়, দ্বীপে মত্স্য আহরণের জন্য অবৈধ জাল ব্যবহার করা, নৌকা ও জাহাজের তেল ফেলে সমুদ্রের পানি দূষণ করা, নৌকার নোঙর ফেলে প্রবাল ধ্বংস করা, প্রবাল ও শৈবালযুক্ত পাথরের ওপর হাঁটাচলা করা, যেখানে-সেখানে কাঁটাতারের বেড়ার উপস্থিতিতে জীবজন্তুর গমনাগমনে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করা দ্বীপটির সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয় এবং জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।
পর্যকটকদের আচরণ
অন্যান্য কারণের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পর্যটকদের মাত্রাতিরিক্ত পদভারে এরই মধ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে। এসব পর্যটক দ্বারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশের বহুবিধ ক্ষতি হচ্ছে। যেমন—পলিথিন, বিয়ারের কৌটা, কোমলপানীয়, প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ নানা ধরনের জিনিস ফেলে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করছে সৈকত এবং সাগরের পানিকে। দ্বীপে অবস্থান নেয়া পর্যটকরা রাতে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজিয়ে দ্বীপে আশ্রয় নেয়া প্রাণিকুলকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। এ কারণে রাতে দ্বীপে আশ্রয় নেয়া অনেক প্রজাতির প্রাণী বা মাছ ভয়ে সটকে পড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বের দুর্লভ প্রজাতির অলিভ রিডলে টার্টল (জলপাইরঙা কাছিম) ভয়ে ডিম পাড়া থেকে বিরত থাকছে এবং অন্যত্র চলেও যাচ্ছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক বংশবিস্তারে প্রভাব পড়ছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT