টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

কমলের ভবিষ্যত নিয়ে টেনশনে এমপি কাজল!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৭৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আহমদ গিয়াস:
সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলমার্ক কেলেংকারির ঘটনায় রাজনীতিতে ব্যাকফুটে চলে গেছেন বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সাইমুম সরওয়ার কমল। এমনকি এই ঘটনায় আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে গেল মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এতে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় হল, কমলের অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে বেশ টেনশনে রয়েছেন ভোটের রাজনীতিতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
জানা যায়, গত মাসের শেষদিকে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কলেংকারি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠলে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালক সাইমুম সরওয়ার কমল কক্সবাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। সোনালী ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার পরে কমলের লক্ষনীয় পরিবর্তন, রাজকীয় চলাফেরা ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। সমালোচকদের মতে, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার পর ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন কমল। আর সেই চেরাগ ঘষেই রাতারাতি বাড়ী, গাড়ী, টাকা ও জমিসহ অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
তাদের মতে, ‘আলাদিনের চেরাগ’ আরব্য উপন্যাসের একটি জনপ্রিয় গল্প হলেও কমলের জন্য সোনালী ব্যাংক সত্যিই আলাদিনের চেরাগ। যা তাকে সাধারণ মানুষ থেকে বিত্তশালী মানুষে পরিণত করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় রাজনীতিতে আপাতত বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। এই ঘটনা সামাল দিতে গত মাসের শেষদিকে রাজধানী ঢাকায় গেছেন তিনি। কিন্তু প্রায় ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনও নির্বাচনী এলাকায় ফিরেননি।
কমলের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার সোনালী ব্যাংক পরিচালকের পদ হারানোর পর মুষড়ে পড়েছেন তিনি। তার ঘনিষ্ট অনেকেই বারবার ফোন করেও তার সাড়া পাচ্ছে না। অতিঘনিষ্ট হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কারো ফোন ধরছেন না।
সূত্র জানায়, সরকারী কোন পদ পদবী না থাকায় সরকারী কর্মকর্তারা তাকে আগের মত পাত্তা দেন কীনা- এনিয়েও সন্দিহান কমল। ফলে নতুন কোন পদ পদবীর ব্যবস্থা না করে তিনি সহজেই ঢাকা ছাড়তে নারাজ।
সূত্র আরো জানায়, হলমার্ক কেলেংকারির ঘটনায় রাজনীতিতে ব্যাকফুটে চলে গেছেন সাইমুম সরওয়ার কমল। এমনকি এই ঘটনায় আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড তার বিকল্প হিসাবে সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর কথা ভাবছেন। এবিষয়ে মিসেস কানিজ ফাতেমা মোস্তাককে এমাসের গোড়ার দিকে রাজধানীতে ডেকে পাঠানো হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর দলীয় সভানেত্রীর সাথে মিসেস মোস্তাকের সাক্ষাতও হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় হল, কমলের অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে বেশ টেনশনে রয়েছেন ভোটের রাজনীতিতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
সূত্র মতে, হলমার্ক কলেংকারির ঘটনায় গত মাসের শেষদিকে সাইমুম সরওয়ার কমল রাজনীতিতে ব্যাকফুটে চলে যেতে শুরু করলে এমপি কাজল কমলের বিরুদ্ধে কোন কিছু না লিখতে সাংবাদিকদের একাধিকবার অনুরোধ করেন। অনেকের কাছে বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হলেও ভোটের মাঠের দক্ষ খেলোয়াড় এমপি কাজলের পক্ষে তাই ছিল স্বাভাবিক। কারণ কমলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত হওয়ার কারণে নতুন করে রাজনৈতিক ছক তৈরী করতে হচ্ছে এমপি কাজলকে। বিশেষ করে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী প্রার্থী হলে বৃহত্তর ঈদগাঁও বেল্টে এমপি কাজলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। আর রাজনীতির এসব মারপ্যাচের কারণে সর্বদা কমলের মঙ্গলই কামনা করছে এমপি কাজল সমর্থিতরা!

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT