টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সেন্টমার্টিনে পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দ্বীপবাসীর দাবি যত, তত অভিযোগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩
  • ২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

imagesএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার॥ প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দ্বীপবাসীর দাবি যেমন রয়েছে অনুরূপ ভাবে অভিযোগও রয়েছে অহরহ। সেন্টমার্টিনের পরিবেশ বিপন্ন হওয়া নিয়ে স্থানীয়রা নয়, বহিরাগত লোকজন কেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে অধিবাসী জেলে আব্দুল করিম, নূরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমানের দাবি, স্থানীয় জনগণ এই দ্বীপের পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলছেন না।মূলত বহিরাগত লোকজন এবং পর্যটকরাই এর জন্য দায়ী।
তাদের মতে, কার্যকর বিধি-নিষেধ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করতে পারলেই দ্বীপটি রক্ষা পাবে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা সেন্টমার্টিনে প্রবাল, শামুক, ঝিনুক কেনাবেচা নিষিদ্ধ হলেও এটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় কিছু গরিব লোকজন সেগুলো বিক্রি করছে এবং অন্যত্র পাচার করছে।
তারা বলেন, পর্যটকরাও সুযোগ পেয়ে প্রবাল, শামুক, ঝিনুক কিনছেন, কুড়িয়েও নিচ্ছেন। অপরিকল্পিত ভাবে স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ আরো বেশী সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
আবদুল করিমদের মতো আরো অনেকেই বলেন, আমরা এই দ্বীপের মানুষ, এখানকার সব কিছুতেই আমাদের ভাগ আছে। কিন্তু সরকার বিষয়টাকে সেভাবে না নিয়ে মনে হচ্ছে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট করার জন্য আমাদেরই দায়ী করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নিয়ে ইকো ট্যুরিজম বা যেকোনো মাস্টার প্ল্যানই হোক না কেন সেটাতে স্থানীয় জনগণের স্বার্থরক্ষা না হলে আমরা সেটা মেনে নেব না।
তবে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের স্থানীয় অধিবাসী ও বিনিয়োগকারীরা হতাশ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে এখন জমি কেনাবেচা, নামজারি, মিউটেশন এবং সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সরকারি নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। যেসব স্থাপনা এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে তার মধ্যে আড়াইশ অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরও করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর লোক দেখানো অভিযান চালালেও তা নিয়ে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাদের ভুমিকা।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী ফিরোজ আহমেদ খান বলেন, সেন্ট মার্টিনে সব স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রেখেছে সরকার। নতুন করে কোনো স্থাপনা করতে দিচ্ছে না। আমরা একটি ঘরের জায়গায় দুটি ঘর বানাতে পারছি না। সরকার মনে করে আমরা দুটি ঘর তুললেই তা ভাড়া দেব।
এখনকার স্থানীয় অধিবাসী হিসেবে আমরা কি কিছুই করতে পারব না। তবে কিছু কিছু বড় প্রতিষ্টান তাদের নির্মাণ কাজ চারিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে রক্ষা করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা রাখা যাবে না। আমরা চাই এই দ্বীপে ইকো ট্যুরিজম পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। আমরা নিজেরাও কিছু করতে পারব। কোনোভাবেই স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে এখানে কোনো পরিকল্পনা করা যাবে না। পর্যটক আকর্ষণ করতে হবে, বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। আমাদের দাবি সরকার বিষয়টিকে এভাবেই বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যাবেন।
চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান আরো বলেন, দ্বীীপে রাস্তা ঘাটের অনেক সমস্যা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য দ্বীপের চারপাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা দরকার। তাহলে পর্যটকরা রাস্তয় রিকশা কিংবা ভ্যানে চড়ে সেখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
তাঁর মতে, সেন্ট মার্টিনে বহুতল ভবন নির্মাণে ঢালাও সুযোগ না দিয়ে সহনীয় পর্যায়ে রেখে কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থাপনা তৈরির অনুমতি দিতে পারে সরকার।
তিনি বলেন, দ্বীপবাসি পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে স্বাবলম্বী হতে চায়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এখানে পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিন।
কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্টানের লোকজন জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিনে বিনিয়োগের জন্য এরই মধ্যে অনেকে জমি কিনেছেন। কিন্তু সেটা নিজের নামে নামজারি করতে পারছেন না। যেসব হাউজিং কোম্পানি ও ডেভেলপার কোম্পানি সেখানে জায়গা কিনেছে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তারা বিপাকে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, সেখানে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করতে দেয়া দরকার।
তারা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এই প্রবাল দ্বীপে যেসব সমস্যা রয়েছে ভবিষ্যতে তা অনেকাংশেই হ্রাস পাবেব। সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাওয়ার ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে সেখানে যাওয়ার জন্য নেই ভালো কোনো ব্যবস্থা। যা আছে তাতেওযাতায়ত খরচ পড়ছে অনেক বেশি। জেটিগুলোতে নিয়ম মানা হয় না।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরোডে প্রমোদতরি গুলোতে যাত্রী যেমন অতিরিক্ত বহন করা হচ্ছে , তেমনি ভাবে জাহাজগুলোতেও ভাড়া নেয়া হচ্ছে বেশি। ক্যাবিনে ভাড়া প্রায় ৬ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। যা নিয়ে প্রায়ই পর্যটকদের বাদানুবাদ হয়। সিটেও ভাড়া বেশি। তার পরও ঝুঁকির মধ্যেই যাত্রী বহন করা হচ্ছে। জাহাজগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করে। শাহপরীর দ্বীপ জেটিটি চালু হলে সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার সময় কমত, ভাড়াও কমে আসবে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগে একটি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি স্থানীয় জনগণ এবং পর্যটকদেরও।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT