টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

৭ মাসে পর্যটনের রাজস্ব কমেছে ৬ কোটি টাকা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১২
  • ৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের রাজস্ব আয় অস্বাভাবিক হারে কমতে শুরু করেছে। বিগত সাড়ে ৭ মাসে পর্যটন করপোরেশন রাজস্ব আয় কমেছে ৬ কোটি টাকার ওপরে।গত ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি পর্যটন সংস্থা পর্যটন করপোরেশনের রাজস্ব আয় কমে যেতে শুরু করে। পর্যটন করপোরেশনের অন্যতম আয়ের উৎস ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি শপ। এখান থেকেই করপোরেশনের বড় ধরনের রাজস্ব আয় হতো। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা আয় কমতে থাকে বলে পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।তবে এ ব্যাপারে পর্যটন করপোরেশন এতদিনেও কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে পারেনি। করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে বারবার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এসব ঘটছে বলে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন। মূলত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর থেকেই পর্যটন করপোরেশন এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানো শুরু করে। বিমানবন্দর ডিউটি ফ্রি শপ থেকে করপোরেশন বিদেশি মদ ও সিগারেট বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতো। রাজস্ব বোর্ড গত ২০ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে এক আদেশ জারি করে। এই আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী যাত্রীরা এক বোতল মদ ও এক কার্টুন সিগারেটের বেশি কিনতে পারবেন না। এর আগে একজন যাত্রীদের মদ ও সিগারেট কেনার ক্ষেত্রের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।

তবে পর্যটনের বিক্রি বন্ধ থাকলেও বিমানবন্দরে অপর একটি বেসরকারি শপ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ নিয়ে একের অধিক বোতল মদ ও সিগারেটের কার্টুন বিক্রি করছে। আর বিষয়টির ফয়সালা করতে না পারায় এ নিয়েও পর্যটন করপোরেশনের কেউ কেউ তাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এরপর থেকে পর্যটন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানো শুরু করে। এরপর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জামাল হোসাইন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লেখা এক চিঠিতে পর্যটন করপোরেশনের ডিউটি ফ্রি শপ থেকে রাজস্ব বোর্ডের এই আদেশ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পর্যটন করপোরেশনকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হোক।

অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন করপোরেশনের কেউ কেউ ডিউটি ফ্রি শপের কতিপয় কর্মী ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এসব পণ্য বাইরে বিক্রি করে দেয়। এই অভিযোগ থেকেই এনবিআর এ ধরনের একটি আদেশ জারি করেছে।

করপোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। বিমানবন্দর একটি সুরক্ষিত জায়গা। এখান কারো পক্ষে এ ধরনের পণ্য নিয়ে বের হওয়া সম্ভব নয়। আর যদি কেউ তা করে থাকে তা দেখার জন্য যারা রয়েছেন, তারা কী করছেন?”

তিনি একাধিক মদের বোতল বিক্রির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “একটি দলে হয়তো ২০ জন যাত্রী রয়েছেন। এখান থেকে দু’জন দুটি পাসপোর্ট দিয়ে ২০ বোতল মদ নিয়ে নিলেন। কিন্তু একজন ২০ বোতল মদ কেনেন না।”

এ বিষয়ে পর্যটন করপোরেশন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) জামাল আবদুন নাসের বাংলানিউজকে বলেন, “পর্যটন করপোরেশনের শুল্কমুক্ত বিপণি পরিচালনায় কাস্টমসের স্ট্যান্ডিং অর্ডারের অনুচ্ছেদ-৮ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটন একজন যাত্রী একাধিক মদের বোতল ও সিগারেটের কার্টুন কিনতে পারতেন। এনবিআরের সিদ্ধান্তের ফলে এখন একটি পাসপোর্টের বিপরীতে এক বোতল মদ ও এক কার্টুন সিগারেটের বেশি কিনতে পারছেন না।”

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT