টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

৩ বছর পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা সোমবার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মমদ কাশেম, টেকনাফ … দীর্ঘ ৩ বছর পর ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্র“পের’ ৮ তম সভা সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্টিত হচ্ছে। বৈঠকে যোগ দিতে ৯ সদস্য বিশিষ্ট মিয়ানমার প্রতিনিধি দল ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে টেকনাফ স্থল বন্দরের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘাট দিয়ে টেকনাফ হয়ে কক্সবাজার পৌঁছেছেন। চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর আয়োজনে বৈঠকে ৯ সদস্যের মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন সে দেশের রাখাইন স্টেট চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান অং অং থান। ২০ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবু মোর্শেদ চৌধুরী। বৈঠকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে টেকনাফের সী-বীচস্থ ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিজাত হোটেল ‘সেন্ট্রাল রিসোর্টে’ ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ৭ তম সভা অনুষ্টিত হয়েছিল। টেকনাফ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোঃ দিদার হোসেন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এতথ্য নিশ্চিত করে জানান মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্র“পের’ ৮ তম পূর্ব নির্ধারিত সভা ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারী অনুষ্টিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সহিংসতার কারণে দ্বি-পক্ষীয় এ সভা হয়নি। তাছাড়া সভার পরবর্তী তারিখও জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১২ সনের ৮ জুন মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিম-রাখাইন জাতিগত সংঘাত সহিংস ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি উক্ত ঘটনার পর টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য, টেকনাফ-মংডু ট্রানজিট পাস এবং ইমিগ্রিশন যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ১ বছর পর ২০১৩ সালের ১৮ মে টেকনাফের সী-বীচস্থ ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিজাত হোটেল ‘সেন্ট্রাল রিসোর্টে’ ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ৭ তম সভা অনুষ্টিত হয়েছিল।
বৈঠক প্রসঙ্গে আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান এর আগেও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাত দফা বৈঠক হয়েছিল। এসব বৈঠকে দুই দেশের অভ্যন্তরে ‘সীমান্ত বাজার’ বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা ‘মংডু’ শহরে কয়েক দিনের জন্য সীমান্ত বাজার বসাবেন। এর উদ্দেশ্য মিয়ানমারে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করা। একইভাবে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা টেকনাফে এ রকম বাজার বসাবেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় উত্থাপিত টেকনাফের ব্যবসায়ীরা সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য মিয়ানমারের মংডুতে গিয়ে তিন দিন থাকতে পারেন। সেখানে অবস্থানের সময় ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়ে এবার আলোচনা হবে। তাছাড়া ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য চোরাচালানকে নিরুৎসাহিত করে সীমান্ত বাণিজ্যকে গতিশীল করার নানা উপায় বের করা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
টেকনাফ স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, বাংলাদেশি সিমেন্ট, ওষুধ, অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, কোমল পানীয়, খাদ্য পণ্যের চাহিদা রয়েছে মিয়ানমারে। দীর্ঘ ২২ বছর আগে টেকনাফ স্থলবন্দর চালু হলেও সমস্যা থেকে গেছে অনেক। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য বাছাই করতে মিয়ানমারে গেলে সঙ্গে মুঠোফোন ও ক্যামেরা নিতে পারেন না। মংডুর বাইরেও যেতে দেওয়া হয় না। কিন্তু মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা টেকনাফে এসে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে পারেন। তাঁদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহার করতে বাঁধা দেওয়া হয় না। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এ সমস্যার সুরাহা করা দরকার।
তথ্যানূসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল টেকনাফের সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউজে ১ মে ২০১১। ২য় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল মায়ানমারের মংডু টাউনশীপে ৭ জুলাই ২০১১। এই সভা দু’টিতে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তৎকালীন টেকনাফের ইউএনও আ.ন.ম.নাজিম উদ্দিন। ৩য় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল কক্সবাজার লং-বীচ হোটেলের সম্মেলন কক্ষে ২২ আগষ্ট ২০১১। মংডু টাউনশীপে ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮ অক্টোবর ২০১১। কক্সবাজার জেলা প্রশাকের সম্মেলন কক্ষে ১৮ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে ৫ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ২৯ মে ২০১২ মায়ানমারের আকিয়াবে ৬ষ্ঠ সভার পর দীর্ঘ প্রায় ১ বছর আর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। শেষোক্ত ৪টি সভায় বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন কক্সবাজারের এডিসি জেনারেল। সভায় ১৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অপর সদস্যরা হলেন টেকনাফের ইউএনও, টেকনাফস্থ ২ বিজিবির ১জন প্রতিনিধি, টেকনাফ সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার, বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক), টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস রাজস্ব অফিসার, টেকনাফ ইমিগ্রিশন অফিসার, ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের জিএম, বাংলাদেশ ফ্রুজেন ফুড এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক, বাংলাদেশ-মিায়ানমার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ফ্রুজেন শিল্ড ফিস্ ইম্পোর্টারস এসোসিয়েশনের সভাপতি, টেকনাফ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোঃ দিদার হোসেন, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি আবু মোরশেদ খোকা, টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী এহেতাশামুল হক বাহাদুর, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আবদুস শুকুর সিআইপি ও মোঃ আবুল হাশেম সিআইপি, এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এসোসিয়েশনের মোঃ শফিক উল্লাহ ও ব্যবসায়ী মোঃ জিয়াবুল সিআইপি। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT