টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

২৫ বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবার পর পাশ করলো ৪০ বছরের হাবিবুর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ মে, ২০১৩
  • ১৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ggggggবাংলার চোখ …..রিয়াদুল ইসলাম বাবু বাংলার চোখ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আল্লাহ্ আমার দিকে তাকিয়েছেন বলে আজ আমার এই সফলতা। বউ, বাচ্চা বাড়ির সকলে পড়া লেখা ছাড়তে বলেছিল। শুধু তাই নয় এলাকার অনেকে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে। আমি এসবে কান দেইনি। আমার ইচ্ছা ছিল আমি উচ্চ শিক্ষিত হবো। আজ আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে। আমাকে আর কেউ মূর্খ বলতে পারবে না। কথা গুলো বললেন সদ্য দাখিল পাশ করা মোঃ হাবিবুর রহমান (৪০)। দীর্ঘ ২৫ বছর পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হবার পর ২৬ তম বারে এসে ৪০ বছর বয়সে দাখিল পরীক্ষায় পাশ করে চরম ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জানাগেছে, হাবিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ঠগের হাট এলাকায় একটি অশিক্ষিত পরিবারে জম্ম গ্রহণ করেন। পিতা মৃত তোফাউল্লা ব্যাপারী মা মৃত- খতেজা বেগম। হাবিবুর রহমান ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট্ট। তিনি থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ বার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারেননি হাবিবুর। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার মনোবাসনায় স্কুল পরিবর্তন করে ১৯৯৮ সালে উপজেলার ছকিনা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও বার বার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবুও থামেননি হাবিবুর। এরপর উলিপুর উপজেলার পশ্চিম বজরা মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে পরীক্ষা দিয়ে প্রথম বার অকৃতকার্য হলেও ২য় বার ২০১৩ সালে এসে ৪০ বছর বয়সে জিপিএ ২.৯৪ গ্রেডে পাশ করতে সমর্থ হন। বার বার অকৃতকার্য হবার পর পাশের খবর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন ৩ কন্যা সন্তানের জনক হাবিবুর রহমান। বৃহষ্পতিবার হাবিবুরের একান্ত সাক্ষাতকারে আরও জানায়, যখন পাশের খবর জানতে পারি খুশিতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। আমি পেরেছি, সত্যি পেরেছি। আমার বার বার মনে হচ্ছিল আমি উচ্চ শিক্ষিত হতে পারবো। আমিও একদিন বিএ পাশ করবে। আমাকে কেউ মূর্খ বলতে পারবে না। পরে সরেজমিনে হাবিবুরের বাড়িতে গেলে মহুর্তেই লোকজনের ভীড় জমে যায়। উৎসুক জনতা বার বার বলছিল হাবিবুর দেখালো কিভাবে জয় করতে হয়। এটাই তাদের জন্য একটা শিক্ষা। এ সময় হাবিবুরের স্ত্রী মোর্শেদা জানায় বিয়ের পর আমি বলেছিলার আর পরীক্ষা দেওয়ার দরকার নাই। মানুষ অনেক কথা বলে। সে কারো কথা মানেনি আজ বুঝতে পেরেছি। এটা আগে বুঝলে তাকে আমি সাহায্য করতাম। এখন থেকে সে যেন আরো লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে সাহায্যে করবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT