টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

হেফাজত মোকাবেলা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: জাতিসংঘ র‌্যাপোর্টিয়ার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

jjjjjjjjবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম: হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা `মোকাবেলা করা` রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নারীর প্রতি  সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার রাশিদা মনজু।

একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সর্বজনীন আইন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘ উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা- ইউএনডিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পাশাপাশি তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

হেফাজতের দাবি বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রাশিদা মনজু বলেন, “হেফাজতের ১৩ দফায় নারী অধিকার বিরোধী যেসব দাবি আছে, সেগুলো পরিহার করে নারীর অধিকার সুরক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।”

জাতিসংঘের র‌্যাপোর্টিয়ার বলেন, “হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি আমি দেখেছি। সেগুলোর একটিতে বলা আছে, নারীরা বাইরে চলাফেরা করতে পারবে না। যেকোনো ধরনের দাবি করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এই ধরনের দাবি মোকাবেলা করে নারীর অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

“সব নারীরই সমানভাবে বাইরে আসার অধিকার আছে” উল্লেখ করে তিনি সরকারকে এ দাবির প্রতি নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের এই বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার বাংলাদেশে বিয়ে, তালাকসহ পারিবারিক নিয়মের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক আইন থাকার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “বিবাহ বিচ্ছেদসহ বাংলাদেশের পারিবারিক আইনগুলো প্রথাগত আইন ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল; যা একেক ধর্মে একেক রকম। এসব আইনে নারীদের মানবাধিকার সুরক্ষার উপাদান নেই। বরং এসব আইনে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতা চর্চা আছে। বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে এসব আইন পুরুষকে বেশি ক্ষমতাবান করেছে।”

এসব কারণে সংলাপের মাধ্যমে এমন একটি সর্বজনীন পারিবারিক আইন তৈরির দাবি জানান রাশিদা মনজু।

তিনি বলেন, “এমন আইন তৈরি করতে হবে, যা দিয়ে সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের নারীদের মানবাধিকার রক্ষা পায়।”

বিদ্যমান আইনে কোন কোন বিষয়ে নারীরা এখন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা চিহ্নিত করার প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি।

তবে এর জন্য ধর্মীয় বিধানগুলো বিলুপ্ত করার প্রয়োজন নেই বলেও আরেক প্রশ্নের উত্তরে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক রীতি-নীতি, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, নিরক্ষরতা, অসচেতনতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস, গোঁড়ামি, দূরদর্শী নারী উন্নয়ন নীতির অভাব, সম্পদে নারীর নিয়ন্ত্রণহীনতা, রাজনীতি ও প্রশাসনে নারীর সীমিত অংশগ্রহণ, নারীর স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট আইনের অভাব আছে।”

সারাদেশে নারী উত্ত্যক্তের প্রবণতা আছে উল্লেখ করে রাশিদা মনজু বলেন, “যৌতুকের কারণে এখনো অনেক মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। শহরে এখনো অনেক বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতিত হয়।”

তিনি বলেন, “পুরুষতান্ত্রিক মন-মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এ দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে না। নারীর ক্ষমতায়ন নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ভূমিকা রাখবে।”

রাশিদা বলেন, “কোন সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু, আমি মনে করি, সরকারের পাশাপাশি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার দিকে লক্ষ্য রেখে সুশীল সমাজ সরকারকে পরামর্শ দেবে। এসব পরামর্শ নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে সাহায্য করবে।”

নারীর প্রতি সহিংসতা বিলোপে বাংলাদেশ সরকারকে সিডও চুক্তির বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১০ দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে বুধবার তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এ সফরে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খুলনা এবং যশোর অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। এ সফরে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে তিনি সরকার, সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেন।

১০ দিনের সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাশিদা মনজু।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ র‌্যাপোর্টিয়াররা সাধারণত সরকার কিংবা সংস্থার কোনো প্রভাব ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল নারীর প্রতি সহিংসতা, তার কারণ এবং পরিণতি বিষয়ে ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশিদা মনজুকে বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার নিযুক্ত করে।

তিনি ইউনিভার্সিটি অব কেপটাউনের জনআইন বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করে থাকেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডারবানের আইন, জাতিগোষ্ঠী এবং জেন্ডার গবেষণা বিষয়ক  শিক্ষক ছিলেন।

এছাড়া তিনি ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনা, ওয়েবস্টার ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT