টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হিমছড়িতে বিনা নোটিশে উচ্ছেদের নামে শতাধিক দোকান ভাংচুর, ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি : ডিএফও’র অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, পর্যটকের দুর্ভোগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক = হিমছড়ি বাজারে উচ্ছেদের নামে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও’র নেতৃত্বে শতাধিক দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসময় প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বনকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছে ১০ জন ব্যবসায়ী। বিনা নোটিশে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে ও ডিএফও আলী কবিরের অপসারণের দাবিতে ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। এতে হিমছড়ি পর্যটন স্পটে আগত হাজারো পর্যটক খাবার- পানি সংকটে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।

ভুক্তভোগি ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে হিমছড়ি ঝর্ণা স্পটে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বাজার গড়ে উঠে। যার প্রেক্ষিতে জঙ্গল খুনিয়াপালং মৌজা ৪ একর ৮০ শতক জমিকে বাজারের জন্য ফেরি ফেরি ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। মিস মামলা নং-৭৩/ ০৯/১০ নথিতে বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে জেলা প্রশাসকের আদেশের প্রেক্ষিতে বি,এস ১৬ দাগের ০.১০ একর, বি,এস ২০ দাগের ৪ একর ২০ শতক ও বি, এস ৪৩ দাগের ০.৫০ একর জমিকে বাজারের জন্য ফেরিফেরি ঘোষণা করে সেখানে উপজেলা প্রশাসন ১৩২ টি দোকান ঘর ইজারা দেয়। যার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা ডিসিআর কেটে উক্ত দোকান নির্মাণ করে।

উক্ত জমিতে বনবিভাগের কোন স্বত্ত্ব না থাকলেও পূর্বের দখল দাবি করে বিভিন্ন সময় বনকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বনবিভাগের বিরোধ দীর্ঘদিনের। যার জের ধরে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডিএফও আলী কবিরের নেতৃত্বে উচ্ছেদে নাম করে ব্যবসায়ীদের উপর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে হিমছড়ি পর্যটন স্পটে আগত হাজার হাজার পর্যটকের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় মহিলা ও শিশুরা আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটাছুটি করে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ভাংচুরের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ, হলদিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলমসহ কয়েকজন পর্যটক ও ব্যবসায়ী।

হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মেম্বার জানান, ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ডিএফও’র অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত হিমছড়ির সমস্ত দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিনা নোটিশে উচ্ছেদের নামে এ ধরণের লুটপাটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। হিমছড়ি বাজার কমিটির সহ সভাপতি নুরু মেম্বার জানান, উচ্ছেদের নামে এধরনের অরাজকতা চালালে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি উচ্ছেদের নামে লুটপাটের সময় হাজারো পর্যটকের দূর্ভোগের জন্য বন বিভাগকে দায়ী করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT