টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

স্বপ্ন ভঙ্গদের ঘরে ফেরার গল্প

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১১১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নুপা আলম, কক্সবাজার…

কেউ এক বছর। অনেকেই আছে তারও কম সময় ধরে টানা ভোগান্তি ও দূর্ভোগের গল্প তৈরী করেছেন নিজের মত করে। আর এ গল্পের ফাঁদ দিয়ে যে অভিজ্ঞতা তৈরী করেছেন ওটা স্বপ্নভঙ্গ ও প্রতারণার। কিছু চিহ্নিত দালাল তাদের কাউকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সহজ ও কম খরচে মালয়েশিয়া গিয়ে ভাল বেতনে চাকুরি পাওয়া যাবে। এতে হয়তো বদলে যেত তাদের জীবন। আবার অনেকেই আছেন যারা জিম্মি হয়ে দালালের হাত ধরে উঠেছিলো ট্রলারে। তারপর পাড়ি দিতে চেয়েছিল বিশাল সাগর। তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি। প্রতারণার শিকার এসব মানুষের স্বপ্নভাঙ্গার পর ছিল মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরার আকুতি। তবে নানা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার উচ্ছ্বাস ছিল তাদের।

বুধবার কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে ঘরে ফেরার আগে মিয়ানমার ফেরত অভিবাসি প্রত্যাশীদের কয়েকজনের কাছে পাওয়া যায় এমন তথ্য।

সূত্র মতে, সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় গত ২১ মে ২০৮ জন এবং ২৯ মে ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে দেশটির নৌ-বাহিনী। উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসন প্রত্যাশীদের মিয়ানমার প্রথম থেকে বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি জানিয়ে আসছিল। এদের মধ্যে বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্তদের ৮ জুন, ১৯ জুন, ২২ জুলাই, ১০ আগষ্ট ও ২৫ আগষ্ট পাঁচ দফায় দেশে ফেরত আনা হয় ৬২৬ জনকে। গত সোমবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সিদ্ধান্ত দিয়ে ষষ্ঠ দাফয় ফেরত আনা হয় আরো ১০৩ জনকে। তাদের কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাখার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়িতে পৌঁছানো হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুস সোবাহান জানান, সোমবার ষষ্ঠ দফায় ফেরত ১০৩ জনের মধ্যে ৬ শিশুকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে ৬ শিশুকে রেডক্রিসেন্টের জিম্মায় স্বজনদের কাছে পৌঁছানো হয়। বুধবার অপর ৯৭ জনকে আইওএম’র অধিনে বাড়িতে প্রেরণ করা হয়।

স্বজনদের কাছে ফেরার আগে বগুড়ার হেদায়ত আলী, ফিরোজ আহমদ ও শুক্কুর জানান, দালালদের মিষ্টি কথায় স্বপ্ন দেখেছিলাম। যখন স্বপ্ন ভাঙ্গল তখন আর ফিরে আসার সুযোগ ছিলনা। মৃত্যু কাকে বলে তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনাহারে-অর্ধাহারে ও নির্মম অত্যাচার সহ্য করে ৭ মাস পর দেশে ফিরলাম। এখন খুব খুশি লাগছে। মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।

ফরিদপুরের রহমান ও ইলিয়াছ জানান, দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। অনেক কষ্টের পর এখন ঘরে ফিরে মা-বাবা, ভাই বোনকে দেখতে পাবো এটা বলার মতো না। এখন মনে হচ্ছে ঈদ উদযাপন করছি।

অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখের জল মোছে দালালদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন তারা। আর কেউ যেন এ ভুল পথে পা না বাড়ায় এটাই অনুরুধ তাদের।

কক্সবাজারের সহকারি পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা জানান, ১০৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১০৩ জন দালালের নাম পাওয়া গেছে। এরমধ্যে কক্সবাজারের রয়েছে ২৮ জন। এসব দালালদের বিরুদ্ধে ১৮ জেলায় মামলা হবে। ফেরত আসা লোকজন নিজ জেলায় গিয়ে এ মামলা দায়ের করবে। এ পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে তার আসামীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে দাবি করেছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আইওএম’র ন্যাশনাল প্রোগাম কর্মকতা আসিফ মুনীর জানান, ১০৩ জনকে বাড়িতে পৌঁছানো হচ্ছে। মিয়ানমারে আর কোন বাংলাদেশী নেই বলে সরকারী সূত্রে অবহিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

কিন্তু এরপরও অনেক স্বজন কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে ঘুরতে দেখা গেছে। এসব স্বজনরা বলছেন তাদের সন্তান মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।

ছেলে এবং ভাইয়ের জন্য কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে কথা হয় কক্সবাজার শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার ছফুরা খাতুন ও রামু উপজেলার গর্জনিয়া এলাকার কলিম উল্লাহর সাথে। এ স্বজনরা বলছেন তাদের সন্তান ও ভাই সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।

ছফুরা খাতুন বলেন, দালালের হাত ধরে ৩ বছর আগে আমার ছেলে রমজান আলী টেকনাফ সমুদ্র পথ দিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য যান। এখনো পর্যন্ত তার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে থানায় ও বিজিবিকে জানানো হয়েছে দেড় বছর আগে। কিন্তু তার কোন খবর নেই। তাই বার বার ছেলের সন্ধানে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে চলে আসি। কিন্তু এবারও আমার ছেলেকে পাওয়া গেল না।

কলিম উল্লাহ বলেন, ভাই দুদু মিয়াকে পাওয়া যায় কিনা এ জন্য কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আসি। কিন্তু এবারও পাওয়া গেল না।

অথচ নিখোঁজদের সম্পর্কে কোন তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। মিয়ানমার থেকে ফেরত আনার প্রক্রিয়াও শেষ বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুস সোবাহান।

মানবপাচারের মামলা নিয়ে সন্দিহান আইওএম। এটার জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে শীতের মৌসুমে ফের মানবপাচার হয় কিনা তার জন্য সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন আইওএম কর্মকর্তা আসিফ মুনীর।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT