টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

স্বতস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ডাকে রোববার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রায় শান্তিপূর্ণ ও স্বতস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই রাজধানীতে রাস্তায় কোনো পিকেটার চোখে পড়েনি। বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও হরতাল ঠেকাতে মাঠে ছিলেন।

পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ করতে না দেয়া, প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে পুলিশি বাধা এবং আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে শনিবার ইসলামী ও সমমনা ১২ দল এ হরতালের ডাক দেয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির হরতালেও যেখানে তেমন সাড়া পাওয়া যায় না সেখানে ছোট কয়েকটি ইসলামী দলের হরতাল তেমন পালিত হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। তবে আজকের হরতাল ছিল অনেকটা স্বতস্ফূর্ত। হরতাল আহ্বানকারীরা মাঠে না থাকলেও রাস্তায় যানবাহন অন্যান্য হরতালের চেয়ে কম ছিল। দূরপাল্লার কোনো যান ছেড়ে যায়নি। অফিস আদালত, ব্যাংক-বিমা খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। ব্যাংকপাড়া মতিঝিল এবং সচিবালয়েও হরতালের ছাপ স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে স্বতস্ফূর্ত হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পিকেটাররা একটি বিআরটিসি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। নগরীতে মিছিল-সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশালে হরতালের পক্ষে তেমন কোনো পিকেটিং চোখে না পড়লেও হরতাল মোটামুটি পালিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা শহরে হরতালের পক্ষে পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। নোয়াখালীতে হরতালের পক্ষে খোদ ছাত্রলীগ কর্মীরা পিকেটিং করেছেন। তবে তারা মহানবী সা.কে অবমাননার ইস্যুতে এ হরতাল করেন। এছাড়া নরসিংদী ও পাবনায় অন্য ইস্যুতে স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই হরতালের ডাক দেয়ায় সেখানে আরো জোরালোভাবে পালিত হয়েছে রোববারের হরতাল।

আজকের হরতালে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো সমর্থন ছিল না। জামায়াতে ইসলামী এতে সমর্থন দেয়নি। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বেসরকারি এক টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ হরতালে তিনি সমর্থন দিয়েছেন। তবে কারা হরতাল আহ্বান করেছেন সে ব্যাপারে তিনি জানেন না বলে জানান। উল্লেখ্য, তার দলের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীও শনিবার গ্রেফতার হয়েছেন।

এদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ দাবি করছে, ইসলামি কোনো ইস্যু না বরং বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনেই এই হরতাল ডাকা হয়েছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর দাবি করেছেন, বিএনপি জামায়াতের ইশারায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এ হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। তার ভাষায়, ইসলামি কোনো ইস্যুতে এ হরতাল হলে উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় কেন হরতাল পালন করা হবে না। উল্লেখ্য, দিনাজপুরে ১৮ দলীয় জোটের মহাসমাবেশ উপলক্ষে বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুরে একই অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম টুকু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মহানবী সা.কে অবমাননার ইস্যুটি সামনে থাকায় আজকের হরতালটি অনেকটা স্বতস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। এই ইস্যুতে হরতাল ডাকা না হলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়াসহ অনেকেই মনে করেছেন রাসুলের অবমাননার প্রতিবাদেই এ হরতাল ডাকা হয়েছে। এ জন্য ধর্মীয় অনুভূতির কারণে অনেকেই নৈতিকভাবে এ হরতালে সমর্থন দিয়েছেন। মূলত সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও অবিচল বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, নারীনীতি বাতিল, শিক্ষানীতি সংশোধনসহ সব ইসলামবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে গত ২৪ জুলাই সমমনা ও ইসলামি ১২ দল রাজধানীর পল্টন ময়দানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন। শনিবার বিকেলে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর একদিন আগে পল্টন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। মহাসমাবেশ করতে না দিলে হরতাল দেয়া হবে সেই হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন ১২ দলের প্রধান মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।

শনিবার প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে। খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নিজামীসহ ১৮৬ জনের একটি মামলা হয়েছে। বেআইনি সমাবেশ করে পুলিশ এর কাজে বাধাদান ও জখম করা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রোববার এ মামলায় আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও আব্দুল লতিফ নেজামী বাদে ৩০ জনকে দুদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন সিএমএম আদালত।

এদিকে ১২ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর পরিচায় স্পষ্ট নয়। ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ ১২ দল নিয়ে গত বছরের জুনে এ জোটের যাত্রা শুরু হলেও এখন এতে নেই চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন এবং শায়খুল হাদিসের খেলাফত মজলিস। এ জোটের নেতৃত্বে আছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। এছাড়া জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত প্রিন্সিপাল জয়নুল আবেদিন ও খলিলুর রহমান মাদানীও সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT