টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্মুক্ত প্রার্থিতার দাবি বাড়ছে আ’লীগে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ::
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাণহানি, রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গৃহদাহ এড়াতে উন্মুক্ত প্রার্থিতার দাবি বাড়ছে আওয়ামী লীগে। দলের কয়েকজন এমপি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে আবেদনও করেছেন।

দলের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে নিহত সাতজনের সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী। এ নিয়ে দলের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারা চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত করার দাবি করছেন।

অবশ্য আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৮৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত রয়েছে। দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড শরীয়তপুরে ৫৫, মাদারীপুরে ২৬ ও গোপালগঞ্জে সাতটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ এসব ইউনিয়নের ভোটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা থাকবে না। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের সবক’টি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য সমকালকে জানিয়েছেন, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের সাতজন এমপির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিন জেলার ৮৮টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই এমপিরা হলেন- গোপালগঞ্জ-২ আসনের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাদারীপুর-১ আসনের নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান, মাদারীপুর-৩ আসনের ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শরীয়তপুর-১ আসনের ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-২ আসনের এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক।

সর্বশেষ নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে তার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। নোয়াখালী-১ আসনের এমপি চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম সমকালকে জানিয়েছেন, তিনিও একই দাবিতে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবেন। নরসিংদী-১ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করছেন।
সর্বশেষ নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে তার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। নোয়াখালী-১ আসনের এমপি চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম সমকালকে জানিয়েছেন, তিনিও একই দাবিতে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবেন। নরসিংদী-১ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করছেন।

এর আগে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নাটোর-৪ আসনের অধীন সব ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি তৃণমূল নেতাদের মতামত পেলে দলের প্রার্থিতা উন্মুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সার্বিক অবস্থা বিশ্নেষণের পর প্রয়োজন হলে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার আবেদন করা হবে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার বিষয় নিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এমপি এবং বেশ কয়েকটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেছেন। অবশ্য এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অনেকেই মুখ খুলতে চাননি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার প্রসঙ্গ নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নেতারা মনে করছেন। আগামী ১৯ নভেম্বর এই বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন আগামীকাল রোববার।
আগামী ২৩ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের কাছে মনোনয়নের আবেদনপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রার্থিতা উন্মুক্ত করার বিষয় নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।

প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করলেও তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল বাধিয়ে এবং চক্রান্ত করে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত সৃষ্টি করছে। চিঠিতে তিনি দলের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত সংঘাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তার এলাকার ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে উন্মুক্ত প্রার্থিতার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত আওয়ামী লীগের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন এমপি। তাদের দৃষ্টিতে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। ওই বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছেন স্থানীয় পর্যায়ের অনেক জনপ্রতিনিধি। তাদের মধ্যে মন্ত্রী, জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা মেয়র রয়েছেন।

বিদ্রোহ দমনে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়কদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ওই চিঠিতে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও লাভ হয়নি। উল্টো স্থানীয় এমপিদের কারও কারও বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে অনেক ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ওবায়দুল কাদের সমকালকে জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উস্কানিদাতাদের তালিকা তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের পাশাপাশি তাদের মদদদাতা নেতা ও জনপ্রতিনিধিরাও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হবেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT