টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত জলদস্যু

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের প্রায় ১০০ কিলোমিটার সাগর উপকূলে মাছ ধরতে পারছেন না পাঁচ হাজার ট্রলারের অন্তত ৭০ হাজার জেলে। কারণ, ১৪টি জলদস্যু বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন আর লুটপাট।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাত দিনে দস্যুরা ১৫টির বেশি ট্রলারের মাছ ও জাল লুট করেছে। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জেলে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, ইলিশ ধরার মৌসুমে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধ করা দরকার। অন্যথায় ইলিশ আহরণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। ইতিমধ্যে তাদের ভয়ে দেড় হাজারেরও বেশি ট্রলার বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা আছে।
গত শনিবার রাতে শহরের সিলভারসাইন হোটেলের সম্মেলনকক্ষে ট্রলারমালিকেরা জরুরি সভায় সাগরে দস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধ, সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নৌবাহিনীর টহল তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানান। কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাগরে মাছ ধরতে নামলেই জেলেরা সশস্ত্র দস্যুবাহিনীর কবলে পড়ছেন। তারা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে আহরিত মাছ ও জাল লুট করছে। এবং জেলেদের সাগরে ফেলে ট্রলার লুট করে নেয়।
ট্রলারমালিক ও জেলেরা জানান, শনিবার রাতে গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ঘাটে ফেরার সময় সোনাদিয়া চ্যানেলে একটি ট্রলারকে জিম্মি করে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ লুট করে দস্যুরা। এ সময় তাদের প্রহারে ১০ জেলে আহত হন।
৭ ডিসেম্বর রাতে একই এলাকার নাজিরারটেক সাগরে দস্যুদের গুলিতে আহত হন পাঁচ জেলে। তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের রাস্তারমাথা গ্রামের মো. ইউনুস (২৬), রহিম উল্লাহ (২৪) ও রহমত উল্লাহকে (২৫) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৫ ডিসেম্বর রাতে সোনাদিয়া চ্যানেলে চট্টগ্রামের একটি ট্রলারের ১৪ জেলেকে সাগরে নিক্ষেপ করে আহরিত মাছসহ ট্রলারটি লুট করে। একই দিন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার সিরাজুল্লাহ ও আমির সোলতানের দুটি ট্রলারের মাছ লুট করে দস্যুরা।
কক্সবাজার সদর মডেল ও মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যথাক্রমে মো. জসীম উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান জানান, গভীর সাগরে ট্রলারে ডাকাতি হলে পুলিশের এ ক্ষেত্রে করার কিছু থাকে না। কারণ, গভীর সাগরে নেমে দস্যুদের প্রতিরোধ করার মতো জনবল ও আধুনিক জলযান পুলিশের নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে ডাকাতি করছে মহেশখালীর ফরিদ, জাম্বু, খলিল, জসু ও কালাবাঁশি বাহিনীর দুই শতাধিক জলদস্যু। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী সাগরে ডাকাতি করে কুতুবদিয়ার বাদল, বাবুল, বাঁশখালীর আবদুল হাকিম, ছনুয়ার গফুর, পেকুয়ার শুক্কুর, টেকনাফের ধলু হোসন বাহিনীর আরও আড়াই শ সদস্য। অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র থাকায় দস্যুদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বরকত’ সম্প্রতি সাগরে পৃথক অভিযান চালিয়ে চারটি ট্রলারসহ ৩৬ জন দস্যুকে আটক করে। তার পরও দস্যুতা বন্ধ হচ্ছে না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT