টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
১০ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দল ভাসান চরে যাচ্ছে ‘ চকরিয়ায় সৌদিয়া বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত আটক : বন্দুক ও লুল্টিত মালামাল উদ্ধার টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিল ৪৩ সাঁতারুঃ প্রথম পৌঁছেন ১৩ বছরের রাব্বি ওষুধ ছিটিয়ে রোদে শুকালেই টকটকে লাল হয়ে যাচ্ছে সবুজ টমেটো তিন মাস পর আবারও একদিনে শনাক্ত আড়াই হাজার ছাড়ালো আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল রোহিঙ্গা, ইসলামোফোবিয়া ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্বেগ নেটং পাহাড়ে ৮০ বছরের বাঙ্কার- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক মোঃ আমিন আর নেই:টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটি ও মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের শোক জাপানে করোনার চেয়েও বেশি মৃত্যু আত্মহত্যায়!

সেন্টমার্টিন রক্ষায় মহাপরিকল্পনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৬২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ঃ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জলজ, উভয়চর প্রাণী এবং পাখিসহ নানা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, অপরিকল্পিতভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণ, নির্বিচারে গাছ কেটে বন উজাড় করা, প্লাস্টিকসামগ্রীর বর্জ্যসহ বিভিন্ন কারণে দ্বীপের নানা প্রজাতির প্রাণীকুল বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এ ছাড়া পর্যটকদের পানির চাহিদা মেটাতে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে ভূগর্ভস্থ মিষ্টি পানি উত্তোলনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে কোরালসহ জীববৈচিত্র্য। সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এমতাবস্থায় প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বিআইডব্লিটিএর সচিব মোহাম্মদ আবু জাফর হাওলাদার সেন্টমার্টিন রক্ষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণকারী পর্যটকসহ সর্বসাধারণের সচেতন করার জন্য প্রচার, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কঠিন তরল বা যে কোনো বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে না ফেলা, মূল ভূখণ্ড থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ, লঞ্চে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিন স্থাপন ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। পানি বা অন্য জলজ প্রাণীকে চিপস বা যে কোনো ধরনের খাবার পরিবেশন না করা, দ্বীপে ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনলাইন নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করা।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিরুৎসাহিত করা; যদি কোনো পর্যটক একান্তই সেখানে রাত কাটাতে চান, তাহলে জাহাজে বা নৌযানে অবস্থান করা এবং টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌরুট এবং সেন্টমার্টিন এলাকাকে অর্থনৈতিক সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দুর্যোগকালীন পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের জন্য আরোহণ ও অবরোহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের জেটি স্থাপন করা।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহম্মদ মেজবাহ্‌ উদ্দীন চৌধুরী সমকালকে বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে এবং পর্যটকদের অসচেতনার ফলে প্রবাল দ্বীপটি হুমকির মুখে। এটি রক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। স্বচ্ছ পানি ও চারপাশজুড়ে প্রবাল পাথরবেষ্টিত মনোলোভা পুরো দ্বীপটিই যে নৈসর্গ। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের পার্শ্ববর্তী ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটারজুড়ে এটির অবস্থান। দেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্রও। এখানে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ট বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির বসবাস ছিল। এসব প্রজাতির অনেকগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন সময়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এসব জীববৈচিত্র্য। অতিরিক্ত পর্যটক দ্বীপের ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছেন।
দ্বীপটিতে প্রায় নয় হাজার স্থায়ী বাসিন্দা বসবাস করে। প্রতিদিন গড়ে আরও নয় হাজার পর্যটক সেখানে অবস্থান করেন। এতে ১৮ হাজার মানুষের চাপ নিতে হয় দ্বীপটিকে। এ কারণে প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য হারাতে বসেছে দ্বীপটি।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুদ্দোহা বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ আরও অনেক আগে নেওয়া উচিত ছিল। প্রবাল দ্বীপ বাঁচাতে হলে রাতে পর্যটকরা সেখানে থাকতে পারবে কিনা কিংবা বছরের কোন মৌসুমে পর্যটকদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে, সেটা আগে ঠিক করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পর্যটক নন; সেখানে যারা স্থায়ী বাসিন্দা রয়েছেন তারাও পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। স্থায়ী বাসিন্দা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই দ্বীপের ধারণক্ষমতা কতটুকু সেটাও গবেষণা করে নির্ধারণ করে দিতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু আইন করলে হবে না, সেটার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। দ্বীপটি রক্ষায় নিয়মিত তদারকি দরকার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT