টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সেন্টমার্টিন বিশ্বের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩
  • ২৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ুডসটটেকনাফ নিউজ ডেস্ক…এক সময় বিশ্বের মানচিত্র থেকে এই দ্বীপ হারিয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। ভয়াবহ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যার ফলে দ্বীপে এই প্রথম বারের মতো ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষনা করে সরকার। এর পর থেকেই সেন্টমার্টিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত দুই বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী সেন্টমার্টিনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শেষে সেন্টমার্টিনকে রক্ষায় সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ, পর্যটকদের রাত্রী যাপন নিষিদ্ধ, অতিরিক্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত পর্যটক আগমন বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেসব এখনো ফাইল বন্দি হয়ে আছে। যার কারণে সেন্টমার্টিন দিন দিন বিপদজ্জনক হয়ে উঠছে।
গত কয়েক দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ারে সেন্টমার্টিনের ভূমি ভেঙ্গে সাগরে বিলীণ হতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা বালির বস্তা দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেও তা রক্ষা করতে পারেনি। জোয়ারের পানিতে ২১ বসতবাড়ী, ১০টি দোকান, বড় কবরস্থান সহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমাংশ ও গলাচিপা এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র হয়। ‌৮০ বছর বয়সী দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আবদুল গফুর এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ বয়সে এমন ভাঙ্গন ও জলোচ্ছ্বাস দেখিনি। ১৯৯১ সালেও এ দ্বীপ ছিল অক্ষত। এখন এমন কি হলো যে হঠাৎ করেই দ্বীপে ভাঙ্গন দেখা দিলো-এই প্রশ্ন সবার।’ কিন্তু এসব প্রশ্নের হিসেব মিলাতে পারছেন না আবদুল গফুরের মতো অনেকেই। দ্বীপের আরেক প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল খালেক বলেন,‘দ্বীপ এখন আগের মতো নেই। আগে এই দ্বীপ ছিল কেয়া বাগান, নারিকেল বাগান, নিশিন্দা বাগান সহ গাছ-গাছালীতে পরিপূর্ণ। ঘন জঙ্গলে ছিল বিচিত্র সব প্রাণীর দল। ছোট-বড় পাহাড় ছিল বিভিন্ন ধরনের পাথরের। আর এখন সে সবের অধিকাংশই নেই। দ্বীপে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। দ্বীপ নিয়েই চলছে এক ধরণের ব্যবসা।’ আর এসবই দ্বীপে ভাঙ্গন সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এই প্রবীণ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন-‘ইট, সিমেন্ট, লোহা সহ সব ভারী বস্তুই উঠছে একটি দ্বীপের উপর। অতি দ্রুতই দ্বীপটি একটি কংক্রীটের দ্বীপে পরিণত হতে চলেছে। আর এই দ্বীপ দাঁড়িয়ে আছে শুধু পাথরের উপর। সেসব পাথরও ধ্বংস করা হচ্ছে। এই অবস্থায় দ্বীপ টিকিয়ে রাখা কঠিন।’ দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন,‘জোয়ারের পানি আটকাতে আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে বালির বস্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আর সেখানে বাধা দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অথচ পরিবেশ ধ্বংস করে অনেক প্রভাবশালী স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছেন।’ দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে দ্বীপবাসীকে সাথে নিয়ে তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে বলে জানান এই চেয়ারম্যান।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন রক্ষায় এখনি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। সেন্টমার্টিনের প্রথম ভাঙ্গন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে সামনে কি ভয়াবহ দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফরহাদ ইকবাল বলেন,‘প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষনা করা হয়েছে অনেক আগেই। ইসিএ নিয়ে শাস্তির বিধান রেখে আইনও গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীরা দ্বীপকে ধ্বংস করে ব্যবসায় নেমেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করা না গেলে এক সময় পুরো দ্বীপই সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সর্দার শরীফুল ইসলাম জানান, পরিবেশগত দিক দিয়ে সেন্টমার্টিন এমনিতেই ঝুঁকিতে। এর উপর নিয়ম না মেনেই সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ, পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ চলে আসছে। এসব বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সেখানে কাজ করে আসছে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা হামলা পর্যন্ত চালিয়েছে। এর পরও সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। খবর পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এসব কাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেদের স্বার্থেই দ্বীপবাসীকে সেন্টমার্টিন রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় তারা সেন্টর্মাটিনকে হারাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,‘দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন নিয়ে সত্যিই দুঃখ হয়। কিন্তু সচেতন লোকজনই সেন্টমার্টিনকে ধ্বংসে মেতে উঠেছে। প্রবাল, শৈবাল, কেয়া বাগানসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র সেন্টমার্টিনকে টিকিয়ে রেখেছে। এখন সেসবের ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT