টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সেন্টমার্টিন দেশীদের চেয়ে বিদেশী পর্যটকের কাছে বেশী প্রিয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৪৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ::: মাথার ওপরে নীল আকাশ আর চারদিকে স্বচ্ছ জলের নীল সাগর।  নীল জলের সীমানা ধরে বালুময় সৈকত, প্রবালের প্রাচীর, কেয়া গাছের বেষ্টনি আর সারি সারি নারিকেল গাছ। দূর থেকেই যা মন্ত্রমুগ্ধ করে আগত অতিথিদের। উত্তাল সাগরের নোনা জল যখন আছড়ে পরে কেয়া গাছের ফাঁকে, ঝিরিঝিরি বাতাসে তৈরি হয় সফেদ ফেনা, সে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

পড়ন্ত বিকেলে নীল জলে রক্তিম সূর্যের নুয়ে পড়া শুষে নেয় মনের সমস্ত ক্লান্তি আর অবসাদ।  রাতের জোৎস্না যখন লুটোপুটি খায় চিকচিকে বালুচরে, নীল আকাশ তখন আরও নীল হয়। রুপালি চাঁদের আলোকছটায় রুপালি বালুতে আছড়ে পড়া রুপালি ঢেউয়ের রুপালি ফেনা, সে এক মাতাল করা দৃশ্য।

রাতের সাগরের হুংকার আর ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার গর্জন শুনে প্রফুল্ল হয় মন। হিমেল হাওয়ার ওই নীল সাগরে ভেসে যায় সকল দুঃখ আর কষ্ট। তখনি নিজের অজান্তেই মনের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে অপূর্ব, অসাধারণ, ভয়ংকর সুন্দরসহ নানা বিশেষণ।

হ্যাঁ, বলছিলাম প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের দারুচিনি দ্বীপের দেশ আখ্যায়িত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের কথা।  বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণাংশের মূল ভূখণ্ড বদর মোকাম থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে দ্বীপটির অবস্থান। মিয়ানমারের উত্তর পশ্চিম উপকূলের প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় বাংলাদেশে একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের অবস্থান। কক্সবাজার থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপটি।

দ্বীপের আয়তন মাত্র ৮ কিলোমিটার যা প্রবল জোয়ারের সময় মাত্র ৫ কিলোমিটার সংকুচিত হয়। ভৌগলিকভাবে এটি তিন ভাগে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় উত্তরপাড়া বা নারিকেল জিঞ্জিরা। এ অংশটি ২১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১৪০২ মিটার প্রশস্ত। দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশটিকে দক্ষিণপাড়া বলা হয়। এর আয়তন ১৯২৯ মিটার দীর্ঘ। এর সাথে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বদিকে লেজের মতো একটি এলাকা যা ছেঁড়া দ্বীপ নামে পরিচিত।  এর সর্বোচ্চ প্রশস্থতা ৯৪৫ মিটার। মধ্যপাড়ার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৫২৪ ও ৫১৮ মিটার যা গলাচিপা নামে পরিচিত।

টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রগর্ভে মনোরম দ্বীপ সেন্টমার্টিন।  আনুমানিক ১৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এ দ্বীপের মূল আকর্ষণ সৈকতজুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারি নারিকেল গাছ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া নীল জলরাশি। দ্বীপটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত।

রাতে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। পূর্ণিমা রাতে দ্বীপটি যেন আরও বেশি সৌন্দর্যের পসরা সাজায় ভ্রমণার্থীদের জন্য।

সেন্টমার্টিনের একেবারে শেষপ্রান্তে রয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ। একসময় এ জায়গাটি মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও কালের আবর্তে বর্তমানে মূল দ্বীপের সাথে প্রায় মিলে গেছে। তবে এখনো জোয়ারের সময় এ দুই দ্বীপের সংযোগস্থলে সমুদ্রজল বিচ্ছেদ রচনা করে। তাই ছেঁড়া দ্বীপে প্রবেশ করতে হয় ভাটার সময়। ছোট একটি কেয়াবন রয়েছে এখানে। বাকিটা শুধু প্রবাল আর প্রবাল। কোনো মানুষের বসবাস নেই এই দ্বীপে।

সেন্টমার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়ার জন্য ট্রলার রয়েছে।  তবে দ্বীপের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে এখানে হেঁটে যাওয়াই ভালো। দ্বীপের পূর্ব সৈকত ধরে সকালবেলা হাঁটা শুরু করলে পুরো দ্বীপটি ঘুরে আসা যাবে সন্ধ্যার মধ্যেই। এর মাঝে দুই তিন ঘন্টা স্মরণীয় সময়ও কাটিয়ে নেয়া যাবে ছেঁড়া দ্বীপে।  তবে এজন্য সাথে অবশ্যই দুপুরের খাবার নিয়ে যেতে হবে। কেননা ছেঁড়া দ্বীপে তেমন কোনো খাবার কিনতে পাওয়া যাবে না।

সেন্টমার্টিনের সমুদ্র সৈকতে স্নান করার মজাই আলাদা।  তবে এখানে গোসলে নামার সময় জোয়ার ভাটার খেয়াল রাখবেন অবশ্যই। এখানে কিন্তু কোনো সিগনাল হাউস নেই। ফলে নিজেই হিসেব করে নামতে হবে সৈকতে।  নতুবা যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

কীভাবে যাবেন:

সেন্টমার্টিন যেতে হবে নদীপথে লঞ্চ, টলার, নৌকা বা জাহাজে করে। একসময় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হতো কাঠের নৌকা কিংবা রেসকিউ বোটের মাধ্যমে।  তবে ২০০২ সালে দিকে পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে টেকনাফ থেকে সমুদ্রপথে ‘সী ট্রাক’ চলাচল শুরু করে। বর্তমানে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন, বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল, এলসিটি কুতুবদিয়া, কাজল,  গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজ চলাচল করে।  মৌসুমে আরও কিছু সংখ্যক জাহাজ চলাচল করে।

জাহাজে উঠে মনে হবে আসমানি আকাশ, সবুজ পাহাড় আর নীল জলরাশি মিলেমিশে ভুস্বর্গ তৈরি করেছে।  জাহাজ চলা শুরু হলেই নাম না জানা অসংখ্য সামুদ্রিক পাখি পিছু নিবে।  গাংচিল আর ডলফিন দেখতে দেখতে দুই থেকে আড়াইঘণ্টার ভ্রমণটি মুহূর্তেই কেটে যাবে। আর দূর সাগরের নীলাভ অথৈ পানির মাঝে যখন সবুজে ঢাকা দ্বীপটির দেখা মিলবে ভ্রমণটি হয়ে উঠবে আরও মধুর। দ্বীপটি যতই কাছে আসতে থাকবে মনের ব্যকুলতা ততই বাড়তে থাকবে। ইচ্ছে করবে সাগরে ঝাঁপ দিয়েই সৈকতে পৌছাতে। বর্ষা মৌসুমে কোন অবস্থাতে এ দ্বীপে যাওয়া নিরাপদ নয়। পর্যটন মৌসুমেও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে সেন্টমার্টিন যাওয়া উত্তম।

কোথায় থাকবেন:

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এক অপূর্ব পর্যটন এলাকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত রেস্টহাউজ ছাড়াও রয়েছে অর্ধশতাধিক মালিকানাধীন রিসোর্ট। জোৎস্না রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থান করার মজাই আলাদা। সমুদ্রের কুল ঘেঁষে নির্মিত কটেজের জানালা থেকে সাগরের টালমাতাল ঢেউ সহজে অবলোকন করা যায়। এসব হোটেলে ৫’শত থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT