টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সীমান্তে তৈরি হচ্ছে ইয়াবা!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

দীর্ঘদিন থেকে মিয়ানমারের নাফ নদী সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার শুধু মিয়ানমার না। দেশের তিনদিকে ছড়িয়ে থাকা ভারত সীমান্ত দিয়েও আসছে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট। এমন তথ্য জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত একাধিকবার যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক ইয়াবা জব্দ করেছেন বিজিবি সদস্যরা। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বেনাপোল সীমান্তে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গত মাসে ভারত থেকে ইয়াবা এসেছে ২৯১পিস। বিজিবি’র যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে মিয়ানমারের নাফ নদী দিয়ে দেশে যে ইয়াবা আসছে তার সঙ্গে ওই ইয়াবার আকার ও রঙ্গে বেশ পার্থক্য রয়েছে। বিজিবি ধারণা করছে সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকায় ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের ১৬ই আগস্ট পর্যন্ত ৪২ লাখ ২০ হাজার ৬শ’ ২পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে। তার আগে ওই সীমান্তে ২০১৫ সালে ৫২ লাখ ১২ হাজার ৮৫৭ পিস, ২০১৪ সালে ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৮,  ২০১৩ সালে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৮, ২০১১ সালে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯১, ২০১০ সালে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৬৪১ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি। সম্প্রতি ওই সীমান্ত এলাকা ছাড়াও বেনাপোল ও অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের আশঙ্কাজনক এই তথ্য জানিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ইয়াবা যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য বিজিবি সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ ভারত থেকে চোরাইপথে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে ফেনসিডিল। প্রায়ই ফেনসিডিল জব্দ করা হচ্ছে সীমান্ত এলাকায়। রিজিয়ন কমান্ডার খলিলুর রহমান জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে ফেনসিডিল তৈরি করা হতো। চোরাইপথে আসার সময় প্রায়ই বিপুল সংখ্যক ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। এই ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে দেশের যুব সমাজ অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয়। বিজিবি’র পক্ষ থেকে ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়। বিএসএফ অনুরোধ রেখেছে। তবু চেরাইপথে ফেনসিডিল আসছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার বিজিবি’র যশোর রিজিয়ন সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভারতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন খলিলুর রহমান।
উপস্থিত ভারতীয় সাংবাদিকরা জানান, ফেনসিডিল তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। তবু অবৈধভাবে তৈরি করে ফেনসিডিল পাচার করা হচ্ছে। তবে ভারত থেকে গরু পাচারের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। গত দুই বছর আগের তুলনায় এখন চোরাইপথে এক ভাগ গরু আসে ভারত থেকে। গরু পাচারের বিষয়ে রিজিয়ন কমান্ডার জানান, ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে সীমান্ত এলাকায় গরু পৌঁছে দেয় ভারতের চোরাকারবারিরা। সেখান থেকে বাংলাদেশের কিছু দরিদ্র ও অসৎ লোকজন টাকার বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে গরু নিয়ে দেশে প্রবেশ করে। চোরাকারবারিরা টাকার বিনিময়ে তাদের ব্যবহার করে বলে জানান তিনি।
সীমান্তে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ টহল থাকার কারণে এবার তেমন সুবিধা করতে পারেনি গরু চোরাকারবারিরা। গত বছর থেকে গরু পাচার নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তারা। গত বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ১১ হাজার ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে পাচার করে চোরাকারবারিরা। এবার প্রায় ২শ’ গরু সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে। এ ছাড়াও সীমান্ত দিয়ে জাল মুদ্রা, স্বর্ণ, মোটরযানের পাস ও মানব পাচার হয়ে থাকে। বিজিবি’র সতর্ক অবস্থানের কারণে আগের তুলনায় তা এখন অনেকটা কমে গেছে। ভারতের বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি’র টহল জোরদার থাকলে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলেই মনে করেন বিজিবি কর্মকর্তারা।

সুত্র- মানবজমিন

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT