হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

সাহসী র‌্যাব ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের গল্প

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::মো. সারওয়ার আলম র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দেশজুড়ে হচ্ছেন প্রশংসিত। এবার রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসায় ভাসছেন কিশোরগঞ্জের এই কৃতী সন্তান।

প্রতিদিনই ঢাকার কোনো না কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা কিংবা খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন মো. সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে কিশোরদের মাদকসেবন থেকে শুরু করে রাজধানীতে ঘটা নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সমানতালে অভিযান চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এসব অভিযানের ছবিসহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও সচেতনতামূলক পোস্ট দেন তিনি।

ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় মো. সারওয়ার আলম। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গর্বিত সন্তান তিনি। পাকুন্দিয়া বড়বাড়ির ব্যবসায়ী বাবা বোরহান উদ্দিন এবং ‘গরবিনী মা’ মোছাম্মদ আমেনা খাতুনের একমাত্র ছেলে। বাবা ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান আমি দাদার সান্নিধ্য বেশি পেয়েছি। আমার তিন বছর বয়স থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়া পর্যন্ত দাদা আমাকে গাইড করতেন।’ সারওয়ার আলমের স্কুল এবং কলেজ কিশোরগঞ্জে। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে মো. সারওয়ার আলম যোগ দেন প্রশাসনে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে।

নিজের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ নিয়ে বলেন, আমাদের এইখানে যে কাজগুলো করছি আপনারা জানেন যে আগামী দিনের জন্য আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য। পাশাপাশি ঔষধ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিরাপদ করা পাশাপাশি সমাজে যে অনিয়মগুলো রয়েছে এগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এখানে একটি অসুবিধা হচ্ছে যে এই অপরাধের সাথে যারা যুক্ত তারা সমাজের বেশি প্রভাবশালী মানুষ। কিছু রয়েছে যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অপরাধগুলো করেন বা ভেজালগুলো করেন তারা কোন না কোন পাওয়ার স্ট্যাকচারের সাথে লিংক রাখতে চান। তারা তাদের ছত্রছায়ায় কাজ করতে চান সুতরাং এখানেই যখন হাত দিই বা কাজ করতে চাই একধরনের প্রতিকূলতা থাকবেই এটাই স্বাভাবিক আমরা সেটা মাথায় নিয়েই কাজ করি। কারন এই জায়গাটা এমন একটি জায়গা যেখানে কম্প্রমাইজ করার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষথেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

নিজের সফলতার মূলমন্ত্র নিয়ে বলেন, সফলতার মূলমন্ত্র হচ্ছে কয়েকটি বিষয়। প্রথমত কমিটমেন্ট, এটি একটি বড় বিষয়। সততা, সিরিয়াসনেস, সিনসিয়ারিটি। যদি কোন কাজে সফল হতে চাই তাহলে প্রথমে একটি প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে আমি এটা করতে চাই বা করবো এই ধরনের প্রতিশ্রুতি যদি আপনার না থাকে তাহলে আপনি কখনও সফল হতে পারবেন না। এটা আমরা কেউ পারিনা সহজে। প্রথমত আমি সফল হতে চাই এই কাজটি করতে চাই এই ধরনের প্রতিজ্ঞা বা প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। সেটির ক্ষেত্রে সিনসিয়ারিটি, ডেডিকেশন, ডিভোশন,অনেষ্টলি থাকতে হবে। অসৎভাবে বেশিদূর পর্যন্ত আগানো যায়না। পাশাপাশি কখনও হতাশ হতে নেই যে কোন কাজ করতে গিয়ে হোচট খেলেই বা কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে পিছপা হয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ আমরা মনে করি যে সঠিক পথে যারা থাকে যাদের সততা থাকে সিরিয়াসনেস থাকে তাহলে অবশ্যই কাঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে পারবো আমরা। একশর মধ্যে একশতে না পৌছালেও নব্বইয়ের উপরে থাকবো বলে আশা করতে পারি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.