টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সারা দেশে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মধ্যদিয়ে শেষ হলো অবরোধ:নিহত ৪:গ্রেপ্তার ৪৫০

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

রোববার রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি শেষে নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সংঘর্ষে ঢাকাতে দুজন, সিরাজগঞ্জে এক জামায়াতকর্মী এবং কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা আফজালুর রহমান মারা গেছেন। এছাড়া সারা দেশে প্রায় সহস্রাধিক নেতা-কর্মী আহত ও প্রায় সাড়ে চারশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আর ভাঙচুর দিয়ে শুরু হয় অবরোধ।

শাঁখারি বাজার
রাজধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার এলাকায় বিশ্বজিৎ দাস (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে আজ সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা জজ কোর্ট এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়।

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আইনজীবীদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বনাথ দাস দৌড়ে সেখানকার একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় নেন।

তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্বনাথকে এক রিকশাচালক পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিত্সক বিশ্বনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

নিহত ব্যক্তির বড় ভাই উত্তম কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, ৫৩ নং ঋষিকেশ দাস রোডের বাসা থেকে সকালে কাজের উদ্দেশে শাঁখারি বাজারে যাচ্ছিলেন বিশ্বনাথ। ছাত্রদলের কর্মী মনে করে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়েছে। বিশ্বনাথ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন বলেও তিনি দাবি করেন।

 


 

গাবতলী
অবরোধকারী ও সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গাবতলী। সংঘর্ষ থামাতে অন্তত ৪০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়ে পুলিশ। আরো ছোঁড়ে অসংখ্য শটগানের গুলি। এখানে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষের মুখে গুলিবিদ্ধ হন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম। তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সকাল ছয়টায় অবরোধের শুরু থেকেই গাবতলী স্ট্যান্ড ও রাজপথ দখলে রাখা অবরোধকারীদের সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আন্ডারপাসের ওপাশে আমিনবাজারের দিকে হটিয়ে দেয় সরকার সমর্থকরা। পরে বেলা ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

মালিবাগ
১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি পালনে রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মালিবাগের আবুল হোটেলের সামনের গলি এলাকায় উপর্যুপরি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আবুল হোটেলের গলি থেকে স্থানীয় ছাত্রদল একটি মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে ছাত্রদল কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় চার-পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র্যা ব বর্তমানে ওই এলাকায় অবস্থান করছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। সকাল সাতটার দিকে এ এলাকা থেকে আরো তিন ছাত্রদল কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

পান্থপথ
রাজপথ অবরোধের শুরুতেই রোববার ভোর ছটার পরপর রাজধানীর পান্থপথে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

এখানে শেরেবাংলানগর থানার কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ায় দুই পুলিশ আহত হয়।

ফকিরাপুল
ফকিরাপুল পানির ট্যাংঙ্কি এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় অবরোধ করে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা।

সকাল সাতটার দিকে কয়েকজন অবরোধকারী টায়ারে আগুন দেয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন অবরোধকারী গরম পানির গলি থেকে এসে চারটি টায়ারে আগুন লাগিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

বংশাল
রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর বংশাল মোড়ে অবরোধের পক্ষে মিছিল বের করে ছাত্রদল।

এসময় সেখানে কমপক্ষে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে পুলিশ ৯ ছাত্রদল নেতাকর্মীকে আটক করে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটানোর পর পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা পুলিশকে পাল্টা ধাওয়া করে। পুলিশ এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পঞ্চাশ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে।

অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছুঁড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

বাবুবাজার
রাজধানীর বাবুবাজার এলাকায় পিকআপভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্র শিবিরের কর্মীরা। সকাল সোয়া সাতটার দিকে জিন্দাবাহার এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে তারা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে গাড়িতে আগুন দেয়। এ সময় তারা দোকানপাট ভাঙচুর। পরে পুলিশ এসে টিয়ারশেল মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ধোলাইখাল
ধোলাইখাল এলাকায় ছাত্রদলের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে তারা রায় সাহেবের বাজার এলাকায় এসে একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে।

পোস্তাগোলায় লেগুনা, মাইক্রোবাস ও সিএনজিতে আগুন দেওয়ার পর হকার্স মার্টেকেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায় অবরোধকারীরা।

পরে সেখান থেকে তিনটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

কাজীপাড়া
মিরপুর কাজীপাড়া এলাকায় মাদ্রাসা রোডে মিছিল বের করে অবরোধ সমর্থকরা। পিকেটাররা এ সময়  কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। মাদ্রাসা রোড সংলগ্ন বিভিন্ন গলিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, জনমনে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক।

জজকোর্ট এলাকা
সকালে পুরনো ঢাকার কোর্ট কাচারীর সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সৃষ্টি করে। পুলিশ এ সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি সজল আহত হয় বলে জানা গেছে।

বাসাবো
দক্ষিণ বাসাবো খেলার মাঠের সামনে ছাত্রদল রাস্তা অবরোধ করেছে। এসময় রাস্তার মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয় পিকেটাররা।

কাঁচপুর
নারয়াণগঞ্জের কাঁচপুরে শিবির কর্মী ও পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। শিবির কর্মীরা মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

এর আগে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডেও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় অবরোধকারীদের। এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা দলের সভাপতি সামছুর রহমান খান বেলু, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সভাপতি এবিএম কামালসহ সাত থেকে আট জন আহত হয়।

এদিকে, রাজধানীর কদমতলী ব্রিজের ঢালে অবরোধকারীদের সাথে ‍ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার সময় শট গানের গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। ছুঁড়েছে টিয়ারসেলও।

রোববার সকালে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির শুরুতেই এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে মিছিল বের করে অবরোধকারীরা। তারা রাস্তায় কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ও ফুটপাতে থাকা টঙ দোকান জ্বালিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। মিছিল থেকে তিন জনকে আটক করে পুলিশ।

এরা হলেন- ‍রিয়াদ হায়দার(২০), ইকবাল ইউসুফ(৪৫) ও আরিফ(৩৫)।

পুলিশের দাবি এরা অবরোধের পক্ষে মিছিলকারী এবং সিএনজি ও টঙ দোকানে অগ্নিসংযোগে জড়িত। তবে তারা নিজেদের সাধারণ পাবলিক দাবি করে অফিসে যাচ্ছেন বলে জানান।

সাভার
রোববার ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি পালনে সাভারের নয়ার হাট এলাকায় সকাল ৭টা থেকে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে।

অবরোধকারীরা ২০ থেকে ২৫ টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরীফার্ম গেটে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। আমিন বাজারে ৫টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সেখানে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

গাজীপুর
গাজীপুর ও টঙ্গীর বিভিন্ন রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভোর থেকেই ১৮ দলের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-ঘোড়াশাল মহাসড়কের কালিগঞ্জ এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।

এছাড়া টঙ্গী কলেজ রোড ও ঢাকা-কালিয়াকৈর মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অবরোধে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নয়াপল্টনের ভিন্ন চিত্র

 

ফকিরেরপুল-কাকরাইল ভিআইপি রোড অবরোধ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে বিক্ষোভ করে দলটির নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকাল থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি মিছিল নয়াপল্টনের আশা-পাশের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অবরোধেকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

যত সময় গড়ায় ততোই নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি সমান তালে বাড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মিছিল আসছে। বিক্ষোভকারীরা সড়কগুলোতে রিক্সা পর্যন্ত চলতে বাধা দেয়।

তারা নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করে। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে অবস্থান নেন।

নয়াপল্টনের আশ-পাশের এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হলেও অবরোধকারীদের সাথে তাদের সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটেনি, এমন কি পুলিশ মিছিল করতে কাউকে বাধা দেয়নি।

এদিকে, অবরোধের সমর্থনে সকালে কাকরাইল মোড়ে বেশ কয়েকটি ট্রায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে অবরোধকারীরা। যদিও পুলিশ আসার আগেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোটেল অর্চাডের সামনে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অবরোধের পর বেলা আড়াইটার দিকে আরো তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয় নয়াপল্টন এলাকায়।


সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT