টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সাগরে লাশ ভাসছে…টেকনাফে ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরও ৩টি লাশ উদ্ধার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৩
  • ১২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf pic(dead) 17-6-13 (1)হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম=টেকনাফের উপকূলে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরও ৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে গত দুইদিনে মোট ৬টি লাশ উদ্ধার হলো। ১৭ জুন সোমবার উদ্ধার হওয়া ৩টি মৃতদেহের মধ্যে ১পুরুষ, ১নারী ও ১ শিশু রয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিদের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। টেকনাফের সাবরাং কচুবনিয়া ও কাটাবুনিয়া সৈকত থেকে মৃতদেহ ৩টি উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে বিজিবি সাবরাং কচুবনিয়া সৈকতে ভেসে আসা শিশুসহ ২টি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পরে টেকনাফ মডেল থানার এসআই আব্দুল আওয়াল দুপুরে মৃতদেহ দুইটি উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য জেলা সদর মর্গে প্রেরন করেন। এদিকে টেকনাফ মডেল থানার এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন বিকালে কাটাবুনিয়া সৈকত থেকে অপর ১ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানান। এর আগে দুপুরে সৈকতে নারী মৃতদেহটি ভেসে আসে। এদের মধ্যে আব্দুর রহমান নামে (৪০) এক জেলের লাশ সনাক্ত করা হয়েছে। সে কাটাবুনিয়া এলাকার মৃত খুইল্ল্যা মিয়ার ছেলে। নিহতের স্ত্রী ছুরা খাতুন জানিয়েছেন তার স্বামী কাটাবুনিয়া এলাকার আব্দুল মাজেদের ছেলে শওকতের ফিশিং ট্রলারের জেলে ছিল। এই শওকতই মালয়েশিয়া আদম পাচারকারী দালাল চক্রের অন্যতম হোতা। এ ব্যাপারে ছুরা খাতুন বাদী হয়ে ট্রলার  মালিক শওকতসহ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ৩ নারী ও ২ শিশু মিয়ানমার নাগরিক বলে ধারনা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া গমনের উদ্দেশ্যে এরা দালাল চক্রের সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রম করে এদেশে অনুপ্রবেশ করে।  ১৬ জুন গভীর রাতে টেকনাফের সাবরাং কাটাবুনিয়া ঘাটের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সাবরাং কাটাবুনিয়া ঘাট থেকে মানব পাচারকারী কাটাবুনিয়া এলাকার আব্দুল মাজেদের ছেলে শওকত, আমির হোসেনের ছেলে খুইল্যা মিয়া, আব্দুল আজিজের ছেলে নুর আহমদ প্রকাশ ক্যাপ্টিন, নুর মোহাম্মদের ছেলে মার্কিন, সলিম উল্লাহ, জামালের নেতৃত্বে ৫টি ছোট ট্রলারে করে নারী-শিশুসহ প্রায় দেড় শতাধিক মালয়েশিয়াগামী সাগরে অপেক্ষামান বড় ট্রলারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে ৩টি ট্রলারের যাত্রীরা বড় ট্রলারে উঠে গেলেও অপর ২টি ট্রলার যাত্রীসহ ফিরে আসে। ফিরে আসা ছোট ট্রলার ২টির একটি উপকূলের কাছাকাছি এসে ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে ৩ নারী ৩ শিশুসহ ২৮ যাত্রী ও ৫ মাঝি-মাল্লা ছিল। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক ছিল মার্কিন মিয়া ও এ ট্রলারের মাঝি ছিল জাহান প্রকাশ জাম্পার নামে এক মিয়ানমার নাগরিক। ট্রলার ডুবির এ ঘটনায় এখনো ২৪ জনের অধিক নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজদের অনেকে হয়তো সাতঁরে কূলে উঠে থাকতে পারে এমন ধারনা করছেন অনেকে। এদিকে সোমবার বিকালে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শিকার করে ফিরে আসা সাবরাং মুন্ডার ডেইল গ্রামের আমান ওয়াহিদ ও মোঃ ইউনুচের নৌকার মাঝি মোঃ আলম এবং ফয়েজুর রহমান জানিয়েছেন, মুন্ডার ডেইল ঘাটের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে তাদের ভাষায় ১৩/১৪ বাইন দুরে ১০ থেকে ১২টি মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে। রবিবার ১৬ জুন কোস্টগার্ড সাবরাং কচুবনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত ট্রলার ডুবির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কচুবনিয়া এলাকার মোঃ আইয়ুবের ছেলে মোঃ ইসমাঈল(২৫) ও আব্দুল মোনাফের ছেলে মোঃ কালাম (৩৫) নামে দুইজন দালালকে আটক করে। আটককৃতদের রবিবার রাতে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে কোস্টগার্ড বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরহাদ গতরাতে জানিয়েছেন, ট্রলার ডুবির এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT