টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সাঈদীর বিচার নতুন করে শুরু করতে হবে: এইচআরডব্লিউ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ২০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় আটক মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার নতুন করে শুরু করতে হবে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তিন বিচারিক প্যানেলের ট্রাইব্যুনালে একাধিকবার পরিবর্তন আনার কারণে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার আর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় এবং এ ক্ষেত্রে নতুন করে বিচার শুরু করতে হবে।

একই সাথে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তাদের বিচারকাজ পরিচালনার পক্ষে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে বলে এতে দাবি করে।

এইচআরডব্লিউর মনে করে, স্কাইপি কেলেঙ্কারির জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। এরপরও ১৩ ডিসেম্বর দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীতে এ সংক্রান্ত আরো তথ্য প্রকাশ করা হয়, যাতে দেখা যায় বিচারক, প্রসিকিউটর ও উপদেষ্টার মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে।

বিবৃতিতে হয়, ট্রাইবুনালের তিন বিচারিক প্যানেলের মধ্যে বিচারপতি নিজামুল হক ছিলেন মাওলানা সাঈদীর মামলার একমাত্র সার্বক্ষণিক বিচারক। তার পদত্যাগের পর বাকি দুই প্যানেলে পরিবর্তন আনা হয়। এতে করে মাওলানা সাঈদীর মামলার আর কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকল না।

এইচআরডব্লিউ বলছে, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৬ ডিসেম্বর সাঈদীর মামলা বিচারকাজ শেষ করা হয়। বলা হয়, যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু নিজামুল হকের পদত্যাগের পর ১২ ডিসেম্বর সেখানে বিচারপতি ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেয়া হয়, যিনি এই মামলার শুধুমাত্র প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য উপস্থাপন পর্বে অংশ নিয়েছেন।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, কোনো বিচারক যদি মামলার সব সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পর্কে অবগত না থাকেন তাহলে তার জন্য বিচারকাজ পরিচালনা করা কিংবা রায় দেয়া চরম দায়িত্বহীনতা ও অপেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু তা-ই নয়, বিচারক মামলার সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার করতেও সক্ষম হবেন না, বিশেষ করে ৪০ বছর আগের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জটিল ইস্যুর মতো এই মামলার ক্ষেত্রে তো নয়-ই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইবুনালের বিচারপতি চেয়ারম্যান নিজামুল হক ছিলেন একমাত্র বিচারপতি যিনি সাঈদীর মামলার সব সাক্ষ্য-প্রমাণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবগত আছেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেছেন। এখন নতুনভাবে বিচারকাজ শুরু করাই হতে পারে এই মামলার এই একমাত্র উপায়।

প্রসঙ্গত, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি আলাপ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি।

এরআগে গত ২৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম জহির আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন। এছাড়া অপর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান করা হয়।

Facebook

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT