টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সমুদ্র পাহাড় আর দ্বীপের হাতছানি যেখানে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
তুষার তুহিন কক্সবাজার **
ঈদের ছুটিতে বেড়নোর কথা ভাবছেন, তাহলে চলে আসেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। আপনাকে স্বাগত জানাবে  নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, জানা অজানা বৃক্ষরাজি আর সাগরের বুক চরে গড়ে উঠা প্রবালদ্বীপ। উপভোগ্য করে তুলবে আপনার ভ্রমনের পুরো সময়টাকে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকতে বালুকাবেলায় বসে সূর্যাস্ত দর্শন।, ইনানীর পাথুরে সৈকতে বসে নোনা পানির ঢেউ অবলোকন আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের দুনিয়ায়। রামুর বৌদ্ধ বিহার, চা বাগান আর রাবার বাগান আপনার মনে কোনে ফুটিয়ে তুলবে এক চিলতে হাসি। দ্বীপ মহেশখালির আদিনাথ মন্দিরের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত। প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য্য আপনার বহুদিনের মনের ‘খোরাক’ মেটাবে। এছাড়াও কক্সবাজারে দেখার আছে অনেক কিছুই।
পর্যটন নগরীতে ঈদের ছুটি কাটাতে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটে। অগ্রিম বুকিং না দিলে যাওয়া-আসার বাসের টিকিট এবং হোটেল কক্ষ ভাড়া পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। শেষ পর্যন্ত পুরো আনন্দ ভ্রমনটাই তিক্ততায় রূপ নিতে পারে।
কি কি দেখত পাবেন কক্সবাজারে
কক্সবাজারে প্রবেশ মুহুর্তেই পর্যটকদের স্বাগত জানাবে দুপাশের পাহাড়। পাহাড়ি পথ ধরে এগুলেই আপনাদের বরণ করে নিবে সবুজ মাঝের লাল গোলাপের বাগান। সুবাসিত ওই বাগান দেখতে দেখতেই আপনি পৌছে যাবেন আকাশচুম্বী শালবন বিহারে। যার সৌন্দর্য ্আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। যাত্রাপাথেই আপনার ভ্রমনকে স্মরনীয় করে রাখতে রাস্তার দুধারে রয়েছে পাহাড় আর সবুজ গাছগাছালির অপরূপ সমারোহ। কক্সবাজার শহরে প্রবেশ মুহুর্তেই আপনার আনন্দকে দ্বিগুন করে দিব দুরের নীল সাগর । আপনি  মনের অজান্তেই খুশিতে আত্নহারা হয়ে হবেন। আপনার ভ্রমনের সমস্ত ক্লান্তি শুষে নিবে ওই নোনা জল। দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্র সৈকত, জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অগ্গমেধা ক্যাং, প্যাগোডা, রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনের করা ঐতিহ্যবাহি বার্মিজ মার্কেট,দরিয়ানগর পিকনিক স্পট,  হিমছড়ির পাহাড়ি ঝর্ণা, হিলটপ সার্কিট হাউজ, দারুণ স্থাপত্যশৈলীতে নতুনভাবে গড়া রামুর বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার, ১০০ ফুট সিংহশয্যা বুদ্ধমুর্তি, রাবার বাগান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গোলাপ বাগান, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের মাথিনের কূপ, কুদুং গুহা, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, ছেঁড়াদ্বীপ, উখিয়ার ইনানীর পাথুরে সৈকত, কানা রাজার গুহা, কুতুবদিয়ার বাতিঘরসহ নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন।
কোথায় কিভাবে যাবেন
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা হতে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। আট কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট সেন্টমার্টিনের দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার আর প্রস্থ দুই কিলোমিটার। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, নীল আকাশ, নানা রকমের প্রবাল, সারি-সারি নারিকেল গাছ দ্বীপটিকে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে ভরিয়ে তুলেছে। এখানে একটি লাইট হাউস রয়েছে যা গভীর সমুদ্রে চলাচলরত জাহাজ, নৌকা ও নাবিকদের দিক নির্দেশনা দেয়। ২০০২ খ্রিস্টাব্দের দিকে পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন টেকনাফ হতে সমুদ্র পথে ‘খিজির-৩’ নামে দ্বিতল বিশিষ্ট একটি সী ট্রাক চালু করে। সম্প্রতি এরূপ ব্যক্তিমালিকানায় অনেক সী-ট্রাক আছে যা দিয়ে পর্যটকরা অনায়াসে প্রবাল দ্বীপ ঘুরে আসতে পারেন। কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল, এলসিটি কুতুবদিয়া, সী-ট্রাক, কাজল, সোনারগাঁ নামে ছয়টি জাহাজযোগে পর্যটকরা টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপে যাতায়াত করছেন। আড়াই ঘন্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনে পৌঁছা যায়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে সেন্টমার্টিন যাওয়া উত্তম। দ্বীপে পর্যটকদের আবাসনের জন্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত রেস্টহাউজ ছাড়াও ইদানিং অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন রিসোর্ট  রয়েছে।
সেন্টমার্টিন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছেঁড়াদ্বীপের অবস্থান। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত একটি ভূখন্ড। জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিন হতে ছেঁড়াদ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই সময় ট্রলার ভাড়া নিয়ে এই দ্বীপে যান পর্যটকরা। আবার ভাটার সময় হেটেও ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়।
চারদিকে সাগর বেষ্টিত মহেশখালী দ্বীপের অন্যতম দর্শনীয় স্থান আদিনাথ মন্দির। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৮৮ ফুট উঁচু মৈনাক পাহাড় চূঁড়ায় মন্দিরটির অবস্থান। জেলা শহরের ৬নং জেটিঘাট থেকে স্পীড বোট অথবা ট্রলারযোগে মহেশখালী যাওয়া যায়। মহেশখালী জেটিঘাট থেকে রিক্সা, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আদিনাথ মন্দিরে যাওয়া যায়। মহেশখালী উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও কম দামের কয়েকটি হোটেলে পর্যটকরা রাত যাপন করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ পর্যটক জেলা শহর থেকে সকালে মহেশখালী গিয়ে বিকেলে ফিরে আসেন।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণে ইনানী সমুদ্র সৈকত। প্রবাল পাথরের অপূর্ব সমারোহে ইনানী সমুদ্র সৈকতটি এখন অত্যন্ত আকর্ষনীয় একটি পর্যটন গন্তব্যে পরিনত হয়েছে। জেলা শহরের কলাতলী থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন সড়ক দিয়ে যেকোন যানে ইনানী যাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনেক হ্যাচারি রয়েছে ইনানীতে। আছে বিশাল আয়তেরন সুপারী বাগান। ওখানে বন বিভাগের একটি সুন্দর রেস্ট হাউস এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক রেস্টহাউস ও হোটেল-মোটেল-কটেজ রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্যুটিং স্পটও।
জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে এবং চকরিয়া বাসষ্টেশন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অবস্থান। প্রায় নয়শ হেক্টর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সাফারি পার্কটি আটটি ব্লকে ভাগ করে গড়ে তোলা। এ পার্কে মুক্ত পরিবেশে হাঁটা যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনায়াসে বেড়ানো যায়। পার্কে আছে সিংহ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নানা প্রজাতির হরিণ, হনুমান, বাঁশ ভল্লুক, ময়ুর, বন্য শুকর, নানা প্রজাতির পাখি, সাপ, কুমির, জলহস্তি, বানর, হরিণ, হাতি, বনগরু ইত্যাদি। এখানে স্থাপিত একাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে নয়নাভিরাম সৌর্ন্দয ও পশু পাখিদের বিচরণ নিরাপদে পর্যবেক্ষণ করা যায়। নানা প্রজাতির বড় বৃক্ষ, মূল্যবান গাছ গাছালি আর দুর্লভ ও ঔষধী লতা পাতা গুল্ম রয়েছে এই পার্কে। জেলার শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, মিনিবাস ও বাসযোগে সাফারি পার্কে যাওয়া যায়। পার্কের আশেপাশে রাত যাপনের মতো বেশ কিছু হোটেল মোটেল কটেজ রয়েছে।
জেলা সদর হতে ৯ কিলোমিটার দূরে পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণা সমন্বয়ে অপরূপ পর্যটন স্পট হিমছড়ির অবস্থান। এখানে কয়েকটি প্রাকতিক ঝর্ণা রয়েছে। এখানে সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌর্ন্দয উপভোগ করা যায়। হিমছড়ি যাওয়ার পথে দরিয়ানগরসহ  অনেক পিকনিক স্পট আছে।
মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে। কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কম্পপ্লেক্স এর পাশে রাখাইন পল্লীতে এই বৌদ্ধ মন্দিরের অবস্থান। রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সাযোগে যাওয়া যায়। কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ হতে ৪ কিলোমিটার দুরে রয়েছে ঐতিহ্যবাহি বার্মিজ মার্কেট। পর্যটন মৌসুমে বার্মিজ স্টোরগুলোলে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটে। বেচা বিক্রির ধুম পড়ে যায়।
যেখানে থাকতে পারেন
পর্যটক সেবায় কক্সবাজারে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ।  এর মধ্যে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লি. (০৩৪১ ৫২৩৭০-৯),  সায়মান বিচ রিসোর্ট (০৩৪১-৫১৩৫০),  রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট (০৩৪১-৫২৬৬৬৮০), হোটেল লংবীচ (৮৮০ ১৭৫৫ ৬৬০ ০৫১), হোটেল দ্য কক্স টু-ডে (০১৮৪৪-১১৪-৮২২, ০১৭৫৫-৫৯৮-৪৪৬, ০১৭৫৫-৫৯৮-৪৪৭) হোটেল সীগাল (০৩৪১-৬২৪৮০-৯১)  হোটেল সী প্যালেস (০৩৪১-৬৩৬৯২,৬৩৭৯২,৬৩৭৯৪,৬৩৮২৬),  হোটেল সী ক্রাউন (০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪),   হোটেল মিডিয়া ইন্টার ন্যাশনাল (০৩৪১-৬২৮৮১-৮৫)  উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪), লাবনী (০৩৪১-৬৪৭০৩)ও প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১)। এখানে এক রাত যাপনের জন্য রয়েছে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ। তারকা মানের হোটেলগুলোর নিজস্ব ওয়েব সাইট রয়েছে। ওয়েবসাইটেল রিজার্ভেশন ফর্ম পূরণ করে ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অগ্রিম বুকিং করা যায়।
কক্সবাজার যেভাবে যাওয়া যায়
ঢাকা  থেকে কিংবা অন্য যে কোন  জেলা থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার যাওয়া যায়। এটি বাংলাদেশের সর্ব  দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি জেলা। ঢাকা থেকে সড়ক পথে কক্সবাজারের দূরত্ব  ৪৪০ কিলোমিটার।  ঢাকার গাবতলি, কল্যানপুর , কলাবাগান ,ফকিরাপুল , সায়দাবাদ  থেকে েেসৗদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেন্জ, গ্রীণ লাইন,  হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক , ঈগল , সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ণ লাইন,  শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিন, সৌদিয়া পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় যাওয়া যায়। মান অনুসারে ভাড়া পড়বে ৮০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। যাদের অর্থকড়ি আছে তারা যেতে পারেন আকাশ পথে। নিয়মিত বাংলাদেশ বিমান,  নভোএয়ার,  ইউএস-বাংলা ও ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য বিমান আসা যাওয়া করে। ঢাকা-কক্সবাজার আকাশ পথে ভাড়া মানভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT