টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
২৩ জন রোহিঙ্গা ও টেকনাফের ৬ জনসহ ১৭ মে জেলায় ১১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত কোয়ারেন্টাইনে তরুণীকে ধর্ষণ : সেই এএসআই বরখাস্ত ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘন চোখে পড়েনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের’ সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখল প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সাবরাংয়ের জাফর ও রফিক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বাড়ছে তাপমাত্রা সঙ্গে দাবদাহ ও অস্বস্তি: থাকবে ৫ দিন টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়,ইউনিটে ইউনিটে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কওমি মাদ্রাসায় সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ লকডাউনে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে যেভাবে টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, ইউনিটে ইউনিটে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

‘সনদ’ মিলছে টাকা দিলেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

নগদ টাকার বিনিময়ে নামসর্বস্ব ও অবৈধ দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্তরের সনদ। গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির সনদ তো বটেই, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরেটসহ বিভিন্ন প্রফেশনাল ডিগ্রির সনদও এভাবে কেনাবেচা করার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির তথ্যমতে, এ মুহূর্তে সাতটি অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ও ঢাকার বাইরে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইউজিসি থেকে এগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট আবেদন করে স্থগিতাদেশ পায়। ফলে সেগুলো বন্ধ করা যায়নি। এগুলো ছাড়াও আরও প্রায় অর্ধশত অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান সারাদেশে একাধিক শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে ‘সনদ বিক্রি’তে জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এগুলোর কয়েকটির নাম রাখা হয়েছে সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের কাছাকাছি। চটকদার বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি নজরকাড়া প্রচারও চালাচ্ছে তারা।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ টেলিফোনে সমকালকে বলেন, ‘আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চলা অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিস্তারিত তথ্য পেলে ভুয়া ডিগ্রি প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেবল দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, যারা সরকারের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে তাদের সবার বিষয়েও তদন্ত করা হবে।’
ইউজিসি চেয়্যারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ভুয়া ও অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা প্রদানের নামে এসব দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান মূলত সনদ বিক্রি করে চলেছে। আমার ধারণা, ঢাকা মহানগরের বাইরেও এমন অনেক অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।’
রাজধানীতে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো_ ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ইউএসএ, ভূঁইয়া একাডেমি, ব্রিটিশ স্কুল অব ল, নিউ ক্যাসেল ল একাডেমি, দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকোনমিকস এবং এশিয়ান সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি। ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব (লিগ্যাল) মৌলি আজাদ সমকালকে বলেন, ‘ওই সাতটি অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করার জন্য ইউজিসি থেকে নির্দেশ দেওয়া হলে তারা উচ্চ আদালতে এ আদেশের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করে স্থগিতাদেশ পায়। মামলাগুলো এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যে সাতটি অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদালতের আশ্রয় নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোর তিনটির নাম অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের মতোই।শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগে গত বছরের ১০ মার্চ ‘সনদ বিক্রি’র দায়ে ছয়টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। যে নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। এ ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো_ ধানমণ্ডির চ্যান্সেরি একাডেমি অব ইংলিশ ল, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ইউএসএ, ভূঁইয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, এসএএফএস, লালমাটিয়ার নর্থ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরার দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী, বাংলাদেশে যে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা অবৈধ। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বা স্টাডিসেন্টার অনুমোদনের জন্য নীতিমালা করা হলেও এখনও কোনো প্রতিষ্ঠানকেই অনুমোদন দেওয়া হয়নি; কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক অবৈধ শাখা খুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় নিয়ে এক শ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশি শাখা পরিচালিত হচ্ছে।

ইউজিসি সদস্য প্রফেসর আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে পড়লেই আইনের আশ্রয় নেয়। তাই মামলায়ও ইউজিসি শক্তভাবে লড়ছে।’ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব (লিগ্যাল) মৌলি আজাদ সমকালকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে চ্যান্সেরি একাডেমি অব ইংলিশ ল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মামলা হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’ ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর পুরানা পল্টন, ধানমণ্ডি, উত্তরা, লালমাটিয়া, বারিধারাসহ কয়েকটি এলাকার বিভিন্ন অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে সনদ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
এর আগেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনদ বিক্রি করা ৫৬টি অবৈধ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছিল ইউজিসি। জনস্বার্থে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাকরাইলে পরিচালিত আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ, উত্তরায় পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেদার পিএইচডি ডিগ্রি বিক্রি করছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা চলতি মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। মৌলি আজাদ জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে তারা দেখেছেন আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউএসএ এখন আর চলছে না। তবে সমকালের পক্ষ থেকে সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড নামিয়ে অন্য নামে সনদ বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT