টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সংস্কারের সম্ভাবনা নেই’জেলার ১২০ কি.মি মহাসড়ক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২
  • ১৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম.ইব্রাহিম খলিল মামুন:..পিচঢালা পথের কোথাও গর্তের সৃষ্টি হলে ঢালা হয় আস্ত ইটের সঙ্গে কাদামাটির মিশ্রণ। এরপর একপসলা বৃষ্টি আর অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী গাড়ির চাপে ছোট গর্ত আরো বড় হয়। যেখানে রাস্তা ভাঙে, সেখানেও এমন জোড়াতালি দেওয়া হয়। ফলে ভাঙা রাস্তা আরো বেশি ভেঙে যায়। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার অংশে লামার আজিজ নগর পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশই এখন এমনই দুর্দশা। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের চিত্রও সুখকর নয়। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ঈদগাঁও এবং খরুলিয়া ব্রীজ। পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ঝুকির মধ্যে থাকলেও ঈদ কিংবা পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে সংস্কার কাজ শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তবে বৃষ্টি কমে গেলে মহাসড়কের কাজ শুরু করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অথচ একটি গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দ্রুত সংস্কার করতে সরকারকে তাগিদও দিয়েছে সরকারকে। সড়ক বিভাগ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার চিহ্নিত এই মহাসড়কটি ঈদের আগেই সংস্কার ও মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে (সওজ) নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলেও রির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু বৃষ্টি ও অর্থের অভাবে ঈদের আগে সড়ক সংস্কার শুরু করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সড়ক বিভাগ। অথচ ঈদের দিন থেকে পর্যটকের ঢল নামবে কক্সবাজারে। আর এসব পর্যটক কক্সবাজারে আসবে ঝুকিপূর্ণ এ মহাসড়ক দিয়ে।
কক্সবাজার জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, প্রায়শই বাস সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পড়ে যন্ত্রপাতি নষ্ট ও দুর্ঘটনায় শিকার হওয়ায় মালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
গতকাল শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজারের লিংক রোড, বাংলাবাজার, খরুলিয়া, রামুর চা বাগান, হাসপাতাল গেইট, রাবার বাগান, গুচ্ছগ্রাম, জেটি রাস্তা, পানির ছড়া, রশিদনগর, নয়াবাজার, জোয়ারিয়ানালা, ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজ, ঈদগাঁও, নয়াপাড়া, খুটাখালী, মালুমঘাট দরগাহ, ফাঁসিয়াখালী, ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, আর্মি ক্যা¤প, ভেণ্ডি বাজার, চকরিয়া বাস টার্মিনালসহ প্রায় ৩০টি ¯পটে অসংখ্য গর্ত। ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শুধু ইটের খোয়া ও বালি দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করার কারণে ফের গর্তের সৃষ্টি হয়।
ইনানি পরিবহনের চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৩০ টিরও বেশি স্থানে গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়। দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। তিনি আরো বলেন, ‘ঈদগাঁও এবং খরুলিয়া ব্রিজে গাড়ি উঠলে অনেকেই কান্নাকাটি শুরু করেন।­­­­­­­
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, টেকনাফ সীমান্তের স্থল বাণিজ্যের ভারী পণ্যের ট্রাক চলাচলের কারণে এ সড়কটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে টেকনাফের তুলনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অনেক ভালো রয়েছে। তিনি আরো জানান, এবারের টানা ভারি বর্ষণ, সামুদ্রিক ও পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে মহাসড়কটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের সড়ক-মহাসড়কের এরকম নাজুক অবস্থা সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমদ শিবিবের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন । দলটি দুই দিন ধরে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়ক পরিদর্শন করে। কক্সবাজার সওজের আওতায় টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটিও সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়ে খন্ড খন্ড হয়ে পড়েছে। দেশের সর্বশেষ সীমান্ত শাহপরীর দ্বীপের সঙ্গে বর্তমানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এ কারণে বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অফিস সুত্রে আরো জানা গেছে, কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৩৭০টি ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে। এ সবের মধ্যেও কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু দায়সারাভাবে কাজ হওয়ায় চলতি বর্ষায় সড়কটি আগের ভাঙাচোরা রূপে ফিরে গেছে।
সওজের টেকনাফের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি সেতু ও থাইংখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এলাকার পর্যটনশিল্প ও সীমান্ত-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে সেতু ও সড়ক সংস্কারের একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ পর্যন্ত কয়েক দফা পাঠানো হয়েছে।
পরিবহনমালিকদের অভিযোগ , সওজ বিভাগ বর্ষার শুরুতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে সড়কের গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি। এ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর রেলিংয়ে হলুদ ও লাল রং লাগিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার টাকা অপচয় করা হচ্ছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক ও নাগরিক কমিটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, এমনিতেই গেল বছর নানা কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন কম ঘটেছে। এবারও যদি সড়কের বেহাল দশার কারণে ব্যবসা মন্দ হয় আমরা যাব কোথায়?

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT