টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

সংঘাত-সংঘর্ষের শঙ্কা গোয়েন্দাদের

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের গুরত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করতে হামলা-মামলা-পাল্টা হামলাসহ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও সংঘাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এসব বিষয় বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দারা।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ২৪৫টি পৌরসভায় এবং আগামী বছরের শুরুতে কয়েক ধাপে ৪ হাজার ৫৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এরই মধ্যে নির্বাচনের উপযোগী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘যে সংঘাত শুরু হয়েছে_ সেটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। কারণ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনও অনেক দেরি। ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন

আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ নির্দলীয় এই নির্বাচন দলগতভাবে হওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এমনটি হলে পৌর নির্বাচন আরও পেছাতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের এ কর্মকর্তা।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংঘাতের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরকারি দলের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ প্রার্থীরা মনে করছেন, সরকারি দলের সমর্থন পেলে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হয়ে উঠবে। এজন্য তারা আগেভাগেই শক্তি প্রদর্শন করছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে একজন নির্বাচন কমিশনার সমকালকে বলেন, যে কোনো নির্বাচনের তফসিল প্রস্তুত করার আগেই গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া হয়। এবারও তাই হবে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে। ওই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, এর আগেও ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে হয়েছে। কারণ একসঙ্গে এত বড় নির্বাচন করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথেষ্ঠ সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজনে ২৪৫টি পৌরসভার নির্বাচনও একাধিক ধাপে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সম্ভাব্য নির্বাচনী এলাকাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে হঠাৎ করেই তৃণমূলের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনী আমেজের তুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেশি দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেক এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরকারি দলে যোগ দিয়ে অবস্থান সুসংহত করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ মাহমুদ ও সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। চেয়ারম্যান অদুদের অভিযোগ, জয়নাল আবেদীন বিএনপির নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে তার সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন। তবে যুবলীগ নেতা জয়নালের দাবি, আগামী ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পোস্টার করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে বর্তমান চেয়ারম্যান তার সমর্থকদের নির্যাতন করছেন।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সামা একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সমকালকে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন তিনি প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য এলাকার প্রভাবশালীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। আবু সামার দাবি, যাকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে, সে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাহিদুর রহমান মুক্তিও গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গত নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তার বিরুদ্ধে পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সাহিদুর রহমানের অনুপস্থিতিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের স্থানীয় নেতা জামিলুর রহমান মিলন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। জেলার দু’জন সাংসদ মিলনকে দলে ভেড়াতে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও সম্ভাব্য প্রার্থী সাইদুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও তার অন্যতম প্রতিপক্ষ শাহজাহান আলী ঘুরংয়ের সমর্থকদের মধ্যেও নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করলে মারামারি-কাটাকাটি তো হবেই। তবে এসব দেখার জন্য দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য আইন পরিবর্তন করা হলে নির্বাচনের অনেক বিধিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। আইন পরিবর্তন অনেক সহজ। মাত্র তিনটি ধারায় পরিবর্তন আনলেই হবে। কিন্তু এ সংক্রান্ত বিধিগুলো পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনকে অনেক কাজ করতে হবে। এজন্য কমিশনকে সময় দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না।’
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পাঠানো ইউপি তালিকার সঙ্গে ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো তালিকা সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন_ রংপুর, টাঙ্গাইল, শেরপুর ও আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT