টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শ্রীলংকায় উদ্ধার পাওয়া টেকনাফের ৪৮ জনকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর..ঢাকা এয়ারপোর্টে দালাল গ্রেফতার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ মে, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম=  kashem teknaf pic 20-05-2013সাগর দিয়ে চোরাইপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সাগরে ভাসমান অবস্থায় শ্রীলংকান নৌবাহিনী কর্তৃক উদ্ধার প্রাপ্ত ১৩৯ জন যাত্রীর মধ্যে ৬১ জন বাংলাদেশী নাগরিক ঢাকা হয়ে গতকাল সোমবার ২০ মে ভোরে টেকনাফ এসে পৌঁছেছে । তম্মধ্যে ১ জন নারীসহ ৪৮ জনই টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা । তাছাড়া ময়মনসিংহের ১ জন, কক্সবাজারের ৬ জন, মহেশখালীর ৪ জন, নাইক্ষ্যংছড়ির ১ জন, চকরিয়ার ১ জন । যাত্রীদের দাবীর মুখে ঢাকা বিমান বন্দরে ডিবি পুলিশ দালাল শরীফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে । দালাল শরীফ হোসেন (৩৭) কক্সবাজার কুতুবদিয়াপাড়া লাল মিয়ার পুত্র হিসাবে তালিকায় উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তার বাড়ি মায়ানমারে এবং অন্ততঃ তার ৮ টি নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি মুক্তিপ্রাপ্তদের স্ব-স্ব ঠিকানায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ২ টি বাসযোগে ১৯ মে দুপুরে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ২০ মে ভোররাতে টেকনাফ পৌঁছেন । বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঢাকা সদর দপ্তরের যুব রেডক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, সুমন কুমার শীল, পিন্টু সরকার ও হৃদয় এসময় তাদের সাথে ছিলেন । টেকনাফ পৌঁছার পর-পরই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে তাদেরকে স্ব-স্ব আতœীয়-স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা হয় । টেকনাফ রেডক্রিসেন্ট অফিসের ইনচার্জ মোঃ আবদুল মতিন ও উপজেলা টিম লীডার মোঃ আবু হানিফ এসময় উপস্থিত ছিলেন । সরকারী উদ্যোগে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একমাত্র নারী যাত্রী হলেন- সাবরাং নয়াপাড়া আবু ছিদ্দীকের কন্যা আনোয়ারা বেগম (২০) । সে ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্র আবদুল্লাহকে মায়ের কাছে রেখে মালয়েশিয়ায় গত ৭ বছর ধরে অবস্থানরত স্বামী নুর আহমদের নিকট যাচ্ছিল বলে এ প্রতিবেদককে জানান। তাছাড়া মায়ানমারের এক গৃহবধু তার ষোড়শী এক কন্যা ও ৩ শিশু সন্তান মায়ানমারের অন্যন্য যাত্রীদের সাথে শ্রীলংকায় রয়ে গিয়েছে। ফেরৎ আসা ভাগ্যবিড়ম্বিত যাত্রীরা জানান- শ্রীলংকান নেভী তাদের নতুন জীবন দিয়েছে । জেলখানায় থাকলেও খাওয়া-পরায় কোন সমস্যা হয়নি উল্লেখ করে তারা আরও জানায়- শ্রীলংকান সরকার, শ্রীলংকান নেভী ও কলম্বোস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনের আন্তরিকতা ভোলার মতো নয় । তাদেরকে দেখে ও মনে হয়েছে তারা সেখানে সুখেই ছিল।  ফেরার সময় শ্রীলংকান নেভী তাদের প্রত্যেককে ১টি করে লুঙ্গি ও একমাত্র নারী যাত্রীকে একখানা শাড়ি এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রত্যেক যাত্রীকে ঢাকা থেকে বাড়ি পৌছাঁর যাতায়ত খরচ বাবদ ১০ মার্কিন ডলার করে উপহার দিয়েছেন। অবশ্য ঢাকা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যাবতীয় খরচ বহন করেছে। ফেরত আসা টেকনাফ উপজেলার ৪৮ জন হচ্ছে- সাবরাং নুরুল ইসলামের পুত্র নুরুল আলম (২৫), আলী হোছাইনের পুত্র আবদুল গফুর (১৯), আলী হোছাইনের পুত্র নজির আহমদ (২৫), আবদুল মোনাফের পুত্র মোঃ রফিক (২৫),  মুন্ডারডেইল বশির আহমদের পুত্র শামসুুদ্দীন (২৩), একলাছ মিয়ার পুত্র মোঃ হোছাইন (২৫), ছাদেক হোছাইনের আবদুর রাজ্জাক(২৬), নয়াপাড়ার সিরাজ মিয়ার পুত্র আব্দুল্লাহ (১৫), আবদুল জব্বারের পুত্র জবুল (২২), কবির আহমদের পুত্র নুরুল ইসলাম (৩০), নজির আহমদের পুত্র মোঃ আলম (২৭), আবু ছিদ্দিকের মেয়ে আনোয়ারা বেগম (২০), কবির আহমদের এনায়েত উল্লাহ (১৮), আব্দুল্লাহর পুত্র জিয়াবুল হক (২২), আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ ইসমাইল (২৪), আবদু জব্বারের পুত্র আব্দুল্লাহ(২৮),গুচ্ছগ্রাম মুহিবুল্লাহর পুত্র জাফর আলম (২২), লালমিয়ার পুত্র নুরুল আলম(২৩), দুদুমিয়ার পুত্র ছৈয়দ আলম(২৯), গোলাম শরীফের পুত্র আবদুল গফুর (৪২), দুদুমিয়ার পুত্র মোঃ ইসমাইল (২২), মোঃ হোছনের পুত্র ছৈয়দ আলম (২০),আলীরডেইল আমিন উল্লাহর পুত্র মোঃ আলম (৩২),  আনুমিয়ার পুত্র আবুল হোছাইন (৪৮), কবির আহমদের পুত্র জাফর আলম(২৯), আনুমিয়ার পুত্র ছৈয়দ আলম (২৮), কোয়াইছড়ি আলী আহমদের পুত্র রহমত উল্লাহ (২২),আবুল হাসেমের পুত্র মোঃ হোছেন (১৬),  নুরুল হকের পুত্র মোঃ হোছন (২৫), আবদুস সালাম ফকিরের পুত্র আলী আহমদ (২২), হারিয়াখালীর নুরুল কবিরের পুত্র মোঃ রফিক (১৮), আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ শফিক (১৬), পুরানপাড়া মোঃ হোছাইনের পুত্র মোঃ তৈয়ুব (২২), জহির আহমদের পুত্র মোঃ ইসহাক(২৪),পানছড়িপাড়ার  আবুল কালামের পুত্র আবুল বশর (২২), মকবুল আহমদের পুত্র মোঃ ইউনুছ(২৫), বেইঙ্গাপাড়া জালাল আহমদের পুত্র আবদুস শুক্কুর (২৭), দক্ষিণপাড়ার আলী আকবরের পুত্র নুরুল আলম (২৬),  গোলারপাড়ার  মোঃ হানিফের পুত্র জিয়াবুল হক(২৫), লাফারঘোনা আব্দুস শুক্কুরের পুত্র নুরুল ইসলাম(২৩),  নতুন পল্লানপাড়া আবদুস শুক্কুরের পুত্র মোঃ রফিক (২৮), মিঠাপানিরছড়া কালা মিয়ার পুত্র আব্দুল্লাহ(২৪), চৌধুরীপাড়া মৌং রশিদ আহমদের পুত্র এনামুল হক (২৩), আবদুল গফুর (১৮), আবু শামার পুত্র আবদুল হক (৪২), কানজর পাড়ার জাফর আলীর পুত্র কবির হোছাইন (৩৫), হাবিবপাড়ার ইসহাকের পুত্র নুর মোহাম্মদ (৪০)। ইসলামাবাদ আবুল হোছাইনের  পুত্র রমজান আলী (২০), কক্সবাজার সদর উপজেলার উত্তর নুনিয়ারছড়া আবদুল জলিলের পুত্র মোঃ ইসমাইল (২০), মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়া মোঃ ইসহাকের পুত্র আজমুল করিম(২৯), লাল মিয়ার পুত্র দালাল শরীফ হোছন। মোঃ ছালেহ এর পুত্র মোঃ ওসমান (২৫),সমিতিপাড়ার নুর আহমদের পুত্র আবদুল হামিদ(২৫), ভারুয়াখালী সালেহ আহমদের পুত্র রশিদ আহমদ (২৮)। মহেশখালী গোরকঘাটা খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র রাহামত উল্লাহ(২৫), মুক্তার হোছেনের পুত্র ওসমান(২০), পুটিবিলা রহিম সিকদারের পুত্র এরশাদ উল্লাহ (২৩) ও আজিজুল হক(২৮), নাইক্ষ্যংছড়ির লেমুছড়ি মোঃ তৈয়ুবের পুত্র নুর উদ্দীন (২০), চকরিয়া কুমিরারছড়া শামসু দোহার শামসুজ্জাহান (১৯) এবং ময়মনসিংহ নন্দাইল মাদারীনগর গোলাম রব্বানীর পুত্র মোঃ মামুন (২০)।  উল্লেখ্য , টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চোরাইপথে আদম পাচারকারী দালাল সিন্ডিকেট গত ১১ জানুয়ারী রাতে সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া ঘাট দিয়ে ১৩৯ জন যাত্রীকে ট্রলারে উঠিয়ে দিয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য মতে, রওয়ানা দেওয়ার ১ সপ্তাহ পর এরা মায়ানমারের ইয়াংগুন উপকূলে পৌছলে মায়ানমার নৌবাহিনী এদেরকে আটক করে বেদম মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর তারা আবার ২০ জানুয়ারী ধরা পড়েছিল থাইল্যান্ড নেভীর হাতে। মায়ানমার নেভীর দেয়া মারের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার ২য় দফা থাই নেভীর মার খেয়ে যাত্রীদের সকলেই অত্যন্ত কাহিল হয়ে পড়েছিল। থাই নেভী নাকি তাদের আটকপূর্বক সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর না করে গভীর সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। ট্রলারে জ্বালানী তেল না থাকায়, সাথে নেয়া খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় পুরিয়ে যাওয়া সর্বোপরি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় যাত্রীরা অসহায় ভাবে সাগরে ভাসতে ভাসতে উজানে চলে গিয়েছিল। ২০ জানুয়ারী থাই নেভীর হাতে ধরা পড়ার দিন সর্বশেষ দলটির সাথে টেকনাফের আত্মীয়-স্বজনরা স্বল্প সময়ের জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়েছিল। শ্রীলংকা দ্বীপের কাছাকাছি ভাসমান অবস্থায় শ্রীলংকান ধনাঢ্য এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলার এদের আবিস্কার করে নৌবাহিনীকে খবর দিলে ৩ ফেব্র“য়ারী এরা উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়। ১৩৯ জন বনি আদমের মধ্যে উদ্ধারের দিনই ১জন মারা গিয়েছিল। উদ্ধার হওয়ার পর শ্রীলংকান নেভী এবং সংশ্লিষ্ট ষ্টেশনের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছিল টেকনাফের আতœীয় স্বজন। বর্তমানে ৭৭ জন মায়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিক শ্রীলংকায় রয়েছে। শ্রীলংকায় উদ্ধারপ্রাপ্তদের সরকারী উদ্যোগে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে টেকনাফের আতœীয়Ñ স্বজনরা সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৪মাস ১০দিন পর তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। #########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT