টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শ্রীলংকায় উদ্ধারপ্রাপ্ত ১৩৯ জনের মধ্যে ৫৪ জন টেকনাফের বাসিন্দা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ/সাগর দিয়ে চোরাইপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সাগরে ভাসমান অবস্থায় শ্রীলংকান নৌবাহিনী কর্তৃক উদ্ধার প্রাপ্ত ১৩৯ জন যাত্রীর মধ্যে ৫৪ জনই টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। তম্মধ্যে আবার ৭২ জন বাংলাদেশী ও ৬৬ জন মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিক। এতে ২ জন বাংলাদেশী যুবতী, ৩ জন শিশু এবং মিয়ানমারের একজন রোহিঙ্গা নারী রয়েছে। ১৬ ফেব্র“য়ারী বিকালে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে পুত্র শোকে মুহ্যমান দু’জন মা-বাবা গতকাল মারা গিয়েছেন। আটকা পড়াদের ফিরিয়ে আনতে বিলম্ব হওয়ায় স্বজনদের পরিস্থিতি ক্রমে অবনতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়- টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ইমান শরীফ, আবুল হাশেম ও লিটনের নেতৃত্বে গঠিত চোরাইপথে আদম পাচারকারী দালাল সিন্ডিকেট জানুয়ারী মাসের ১১ তারিখ রাতে সাবরাং ইউনিয়নের কাটবনিয়া ঘাট দিয়ে ১৩৫ জন যাত্রীকে ট্রলারে উঠিয়ে দিয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য মতে, রওয়ানা দেওয়ার ১ সপ্তাহ পর এরা মিয়ানমারের ইয়াংগুন উপকূলে পৌছলে মিয়ানমার নৌবাহিনী এদেরকে আটক করে বেদম মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর তারা আবার ২০ জানুয়ারী ধরা পড়ে থাইল্যান্ড নেভীর হাতে। মিয়ানমার নেভীর দেয়া মারের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার ২য় দফা থাই নেভীর মার খেয়ে যাত্রীদের সকলেই অত্যন্ত কাহিল হয়ে পড়েছিল। থাই নেভী নাকি তাদের আটকপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর না করে গভীর সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। ট্রলারে জ্বালানী তেল না থাকায়, সাথে নেয়া খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় পুরিয়ে যাওয়া সর্বোপরি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় যাত্রীরা অসহায় ভাবে সাগরে ভাসতে ভাসতে উজানে চলে গিয়েছিল। ২০ জানুয়ারী থাই নেভীর হাতে ধরা পড়ার দিন সর্বশেষ দলটির সাথে টেকনাফের আত্মীয়-স্বজনরা স্বল্প সময়ের জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়েছিল। শ্রীলংকা দ্বীপের কাছাকাছি ভাসমান অবস্থায় শ্রীলংকান ধনাঢ্য এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলার এদের আবিস্কার করে নৌবাহিনীকে খবর দিলে ৩ ফেব্র“য়ারী এরা উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়। ১৩৯ জন বনি আদমের মধ্যে উদ্ধারের দিনই ১জন মারা যায়। টেকনাফ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে কর্মরত আব্দুল গণি জানান- উদ্ধার প্রাপ্তদের মধ্যে সাবরাং নয়াপাড়া মৃত আবুল কাসেমের পুত্র মোঃ ইসমাইল(১৯) ও রয়েছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে সকলের অগোচরে সেও চোরাইপথে সাগর দিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছিল। উদ্ধার হওয়ার পর শ্রীলংকান নেভী এবং সংশ্লিষ্ট ষ্টেশনের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার আলাপ করে নিশ্চিত হয়। চিকিৎসা করার পর কিছুটা সুস্থ হলে ৭২ বাংলাদেশী এবং ৬৬ জন মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিককে পৃথক করে ফেলেছে। প্রথমে উলুবিল ক্যাম্পে এরপর মাহিয়ানা পুলিশ ক্যাম্পে এদেরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে না পৌঁছা এবং এসংক্রান্ত কোন খবরাখবর না পাওয়ায় আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছিল। ৩ ফেব্র“য়ারী গভীর সমুদ্র থেকে শ্রীলংকান নৌবাহিনী কর্তৃক তাদেরকে উদ্ধারের সচিত্র সংবাদ বিভিন্ন টেলিভিশনসহ মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। তাদের কাহিল অবস্থা দেখে পুত্র শোকে স্বজনরা অত্যন্ত ভেঙ্গে পড়েন। এই শোক সইতে না পেরে নুনিয়ারছড়া বসবাসকারী ইসমাইলের পিতা এবং হারিয়াখালীর বাসিন্দা শফিকের মা মারা গিয়েছেন। আব্দুল গণি আরও জানান- উদ্ধার হওয়ার ১সপ্তাহ পর বাংলাদেশী ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিকদের পৃথক করে ফেলায় আর তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশী ৭২জন নাগরিকদেরকে আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ফলে কোথায় কোন ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়েছে তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিকদের সাথে এখান থেকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে কোথায় রাখা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরকারী উদ্যোগে উদ্ধারপ্রাপ্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন। #########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT