টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknafnews: টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়নে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদ নামের একটি সংগঠন বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচি সমুহ হলো, ১২ অক্টোর শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়, ১৪ অক্টোবর টেকনাফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়, ১৫ অক্টোবর শাহপরীর দ্বীপে তিন কিলোমিটার লম্বা মানববন্ধন ও সমাবেশ, ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসুচি এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরণ।
সংগঠণের ৭ দফায় দাবিতে রয়েছে, শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়া, দক্ষিনপাড়া হয়ে জালিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান, বেড়িবাঁধের পাশে পতেঙ্গা সৈকতের মত বড়বড় সিসিব্লক স্থাপন , স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে সেনা বাহিনীর তত্বাবধান নিশ্চিত করা, ১০ বছরে ক্ষতিগ্রস্থ ও বিলীন ঘরবাড়ির মালিককে ক্ষতিপুরণ প্রদান অথবা পুর্নবাসন করতে ক্ষতিগ্রস্তদের খাস জমি বন্দোবস্তি দিতে হবে। বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য বাঁধের পাশে সবুজ বেষ্টনী অথবা বনায়ন সৃজন, ঘুর্ণিঝড় থেকে রক্ষার জন্য শাহপরীর দ্বীপের আরো ৫টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ এবং ‘টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ’ ভাঙ্গা সড়কের দ্রুত সংস্কার এবং সড়কের উচ্চতা আরো তিন ফুট উঁচু করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠণের সভাপতি মাষ্টার জাহেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের শেষ বিন্দুটি হচ্ছে ‘শাহপরীর দ্বীপ’। এক সময় ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই শাহপরীর দ্বীপ। সামুদ্রিক মৎস্য, লবণ, পান, সুপারী ও তরমুজ উৎপাদনের প্রধান স্থান এই শাহপরীর দ্বীপ। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের তিনটি ( ৭, ৮ ও ৯ ) ওয়ার্ড নিয়ে এই শাহপরীর দ্বীপের অবস্থান। বর্তমানে এখানকার লোক সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এখানকার মানুষের প্রধান পেশা সাগরে মৎস্য শিকার ও চাষাবাদ। প্রতি বছর এই শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ সরবরাহ করা হয় সারাদেশে। তাছাড়া মাঠে উৎপাদিত লবণ, পান ও সুপারি বিক্রি হয় আরো ৩০০ কোটি টাকার। যা দেশের বহু জেলার পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়না। এক সময় এই শাহপরীর দ্বীপের মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করলেও এখন রাত কাটে মানুষের মহাটেনশনে। কারণ একটাই; বঙ্গোপসাগর। সাগরের করাল গ্রাসে বসতবাড়ি হারিয়ে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশি পরিবার পথে বসেছে। এখনও জোয়ার-ভাটার কবলে পড়ে ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। ঝড় জলোচ্ছাসে পুরো শাহপরীর দ্বীপ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড়ে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়া অংশে আধা কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছিল। তখন জোয়ারের পানি প্রবেশ করে শাহপরীর দ্বীপের ৭ হাজার একরের বেশি ফসলি জমি, চিংড়ি ঘের সাগরে বিলীন হয়েছে। ওই সময় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ওই ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা হলেও কয়েক মাসের মাথায় তা আবার বিলীন হয়। এভাবে কয়েক বছরে প্রায় ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। এসময়ে সাগরের জোয়ারে বিলীন হয়েছে আরো কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, লবণ মাঠসহ ১ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি।
এর পর গত ১৯ বছরে এই ১ কিলোমিটার ভাঙ্গাবাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু শাহপরীর দ্বীপবাসী এখনও স্থায়ী একটা প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ পায়নি। প্রতি বছর সরকারি ও বিদেশি কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ তহবিলে ভাঙ্গা বাঁধের সংস্কার হচ্ছে। কিন্তু টেকসই বাঁধ নির্মিত না হওয়ায়-তা জোয়ারের ধাক্কায় বিলীন হচ্ছে। যা সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি বলেন, গত ২০ জুলাই সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম অংশে আরো এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পশ্চিম পাড়া, দক্ষিনপাড়া, মাঝরপাড়া, ঘোলাপাড়া, বাজারপাড়া, জালিয়াপাড়াসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কাটাবুনিয়া এলাকায় কয়েকশ একরের ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে। জোয়ারের পানিতে ডাঙ্গরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়া, হারিয়াখালী ও কাটাবনিয়া গ্রামের শতশত বসতবাড়ি, পানবরজ, সুপারি বাগান ও বীজতলা ডুবে গেছে। টেকনাফ থেকে সড়ক পথে শাহপরীর দ্বীপ যাতায়াতের পাকা সড়কটি জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে।
তাই আগামি ১১ অক্টোবরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কার বা মেরামত না করলে আন্দোলনে নামবে তারা। এরপর আরো কঠোর কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান, শাহপরীর দ্বীপ উন্নয়ন ও রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ ইসমাইল, মৌলভী হোসাইন আহমদ, মোহাম্মদ আলম, মাহিলা ইউপি মেম্বার সনজিদা বেগম, মোহাম্মদ সৈয়দ, মনির উল্লাহ, রেজাউল করিম, জাকারিয়া আলফাজ, মৌলভী সৈয়দ হোসাইন, মোস্তাফা কামাল, মোহাম্মদ জুবাইর, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন”

  1. মোহাম্মদ ইউনুছ আজগরী says:

    “শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদ” কতৃক ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করায় পরিষদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।আমরা দ্বীপবাসীরা যে যেখানে বসবাস করি না কেন,যে যেভাবে পারি ঘোষিত কর্মসূচী বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT