টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শাহপরীরদ্বীপে ৮ ফুট জলোচ্ছ্বাস..৩৫ হজার মানুষ পানিবন্দী..১০ বছর ধরে ইমার্জেন্সী ওয়ার্ক নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৩
  • ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf news & pic 28-5-13 (1)hhhhh হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম.টেকনাফ =  শাহপরীরদ্বীপের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। জোয়ার এলে পানিবন্দী আর ভাটা নামলেই চলাচল। যেন পানিই তাদের নিত্যসঙ্গী। এছাড়া প্রধান সড়কটি ভেঙ্গে গিয়ে মূল ভূখন্ডের সাথে বিচ্ছিন্ন রয়েছে দ্বীপটি এবং বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে প্রতিদিন সাগরের জোয়ারের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভেসে যাচ্ছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। দূর্ভোগ আর দূঃচিন্তায় কাঠছে দিন রাত। ছড়াচ্ছে মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার রোগ ব্যাধি। এ অবস্তা এক সপ্তাহ বা এক মাস নয়। গত বর্ষা থেকে চলে আসছে তাদের এ দূর্ভোগ ও কষ্টের দিন। এদিকে ইউএনও’র নির্দেশে পিআইও ২৮ মে সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বাঁধের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ভাঙ্গন ধরেছে। সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙ্গন এবং প্লাবিত হয়ে ২ শতাধিক পানের বরজ, শত শত একর রবি শস্য, ১৫টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার বসত বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শফিক মিয়া ২৮ মে দুপুরে উক্ত তথ্য নিশ্চিত করে জরুরী ভিত্তিতে এলাকাবাসীর জানমাল রক্ষার্থে “ ইমার্জেন্সী ওয়ার্ক ”এর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান- ২৫, ২৬ ও ২৭ মে টানা বর্ষণেল সাথে পূর্ণিমার ‘জো’ মিলে সাগরের প্রবল জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬/৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে । এতে গত ৮/১০ বছর ধরে ‘ইমার্জেন্সী ওয়ার্ক’ না করা ক্ষয়প্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮নং ফোল্ডারের বেড়িবাঁধ ডুবে গিয়ে সাবরাং এর উপকুলবর্তী গ্রাম কচুবনিয়া, হারিয়াখালী, লাফারঘোনা, পুর্ব নয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে বসতঘর,পানবরজ, রবিশষ্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে । তাছাড়া চিংড়ি ঘের ও পুকুর ডুবে গিয়ে কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়েছে । সাবরাং ৩নং স্লুইচ এবং টেকনাফ বিজিবি ক্যাম্পের পাশে নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । ইমার্জেন্সী ওয়ার্কের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে টেকনাফের উপকুলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার মেরামত করা সা হলে তা যেকোন সময়ে সম্পুর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে জানমালের অপুরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন । উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শফিক মিয়া অতীতের সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করে টেকনাফের উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭-৮ ফুট উচু  জলোচ্ছ্বাস হয়েছে । তার মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির খেয়ালে এমন হচ্ছে দাবী করে তিনি আরো বলেন- প্রকৃতির এ আচরণের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলের মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। এদিকে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ মোজাহিদ উদ্দীনের নির্দেশে টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মোঃ জহিরুল ইসলাম ২৮ মে দুপুরে সরেজমিন শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিকালে টেকনাফ ফিরে হাজার হাজার মানুষের পানিবন্দী এবং ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছেÑ শুধু শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং নয়, টেকনাফ পৌর এলাকা, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ডুবে গিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৮ মে সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকায় জলোচ্ছ্বাস, প্লাবিত, পানিবন্দীসহ সেন্টমার্টিনদ্বীপের পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশ দিন যাবত থেকে এ অবস্থা চলতে থাকলেও এখনো কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সকল মানুষের খোঁজ ও বেড়ীবাঁধ নির্মাণের বার বার আশ্বাস দিয়ে আসলেও এখনো ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। বেড়ীবাঁধের দাবিতে দিন দিন ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন দ্বীপের হাজার হাজার সাধারন মানুষ। শাহপরীরদ্বীপের কয়েক বাসিন্দা জানান, লোকালয়ে জেয়ারের পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে মানুষের ঘর ভিটা, ফসলি জমি, মাছের ঘের, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুপ্তপূর্ন স্থাপনা। ইতিমধ্যে গত বছর পশ্চিম পাড়ার জামে মসজিদসহ বেশ কয়টি ঘরবাড়ী সাগরের পানির তোড়ে ভেঙ্গে সাগরের সাথে একাকার হয়ে গেছে। শাহপরীপানিদ্বীপ ছেড়ে অনেক পরিবার অনত্র আশ্রয়ও নিয়েছে। দলে দলে ছেড়ে যাচ্ছে অনেক পরিবার। আর যারা রয়ে যাচ্ছেন তারা বন্ধি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, প্রত্যেক দিন ও রাতে ২ বার জোয়ারের পানিতে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়া, জালিয়াপাড়াসহ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে। প্রয়োজনের সাপেক্ষে শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে সড়ক পারাপার করছে। জোয়ারের পানিতে শাহপরীরদ্বীপ নিয়মিত প্লাাবিত হয়ে শত শত বড়ীঘর , শিক্ষা প্রতিষ্টান ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্টান ধ্বংস হচ্ছে। অবহেলার কারণে হয়ত একদিন ঘোলার চর বদর মোকামের মতো দেশের মানচিত্র হতে মুছে যেতে পারে শাহপরীর দ্বীপের ভূ-খন্ড। সরকারকে দেশের ভু-খন্ড রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে অতি শীগ্রই পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।###

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT