টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

লবণ শিল্প ও প্রান্তিক চাষী বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Newsপ্রেস বিজ্ঞপ্তি:
চলতি বছর জাতীয় চাহিদার চাইতে প্রায় ৪ লাখ মে.টন লবণ উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ লবণ চাষী কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
৪ জুন দুপুর ১ টায় বাংলাদেশ লবণ চাষী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল চৌধুরীর নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে লবণ চাষী নেতারা বলেন, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কক্সবাজারের প্রায় ৬৫ হাজার লবণ চাষীর কথা মাথায় রেখে সরকার লবণ নীতিমালা প্রণয়ন করে। উক্ত লবণ নীতিমালায় লবণের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপনন, আমদানি/রপ্তানি ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। ২০১১-১২ সালে লবণ মৌসুমে জাতীয় চাহিদার তুলনায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে লবণ চাষীরা লবণ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। প্রণীত লবণ নীতিমালার আলোকে শুধুমাত্র ঘাটতি পরিমাণ লবণ আমদানির ব্যবস্থা করা হয় এবং সেই ঘাটটি পরিমাণ লবণ ছিল ২ থেকে আড়াই লাখ টন। অথচ বিগত বছর জাতীয় লবণ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে লবণের উচ্চ মূল্যের অজুহাতে প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট লাখ টন লবণ বিনা প্রয়োজনে আমদানি করার সুযোগ করে দেয়। ২০১২-১৩ লবণ মৌসুমের প্রথম দিকে লবণ মাঠ পর্যায়ে মূল্য ভালো থাকার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১ মাস পূর্বে লবণ চাষীরা লবণ উৎপাদনে নেমে পড়ে।
নেতৃবৃন্দ জানান, এ বৎসর লবণের জাতীয় চাহিদা নিরূপন করা হয় প্রায় ১৫ লাখ ৬ হাজার টন। আবহাওয়া সম্পূর্ণভাবে লবণ উৎপাদনের অনুকূলে থাকার কারণে লবণের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ টনের মত অতিরিক্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় লবণ নীতিমালার নির্দেশনার আলোকে ৩টি ক্যামিকেল ফ্যাক্টরিকে প্রায় দেড় লাখ টন লবণ প্রতি বছর ভারত থেকে আমদানি করার নির্দেশনা রয়েছে। বিগত বছরের অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত আমদানি, এ বৎসরের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং ৩টি শিল্প কারখানার দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সুযোগ থাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টন লবণ চলতি মৌসুমের জন্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। এতদ্সত্ত্বেও কতিপয় দূর্লোভী ব্যবসায়ী বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে আমাদের সম্পূর্ণ অগোচরে জাতীয় লবণ চাহিদার নিরুপনের নামে কক্সবাজার পরিদর্শন করে গেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হল উৎপাদন কম দেখানো এবং জাতীয় চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত বেশি দেখিয়ে উৎপাদন ও চাহিদা যোজন বিয়োজনের মাধ্যমে লবণের ঘাটতি নিরূপন করে বিনা কারণে কিনা প্রয়োজনে ভারত থেকে অহেতুক লবণ আমদানি করার অপচেষ্টা মাত্র।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, উৎপাদন মৌসুমের ইতোমধ্যে পরিসমাপ্তি ঘটলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো কেজি প্রতি লবণের মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা। অথচ, ৬৫ হাজার মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত লবণ কতিপয় অটো মিল মালিকেরা কর্ণফুলী, মেঘনা এবং বুড়ি গঙ্গার মিষ্টিজলে মিশিয়ে জাতির অমূল্য সম্পদ গ্যাস পুড়িয়ে আবার সেই পানিকে লবণ করে কেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি করছে। এ অসাধু চক্রের অতি লোভের কারণে একদিকে প্রান্তিক চাষী, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তা শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে আগামী লবণ মৌসুমে লবণ চাষীরা উৎপাদনে নাও নামতে পারে। ফলে ১৬ কোটি মানুষের বিকল্পহীন খাদ্য প্রায় ১৫-১৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানীর ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে ভারতের উপর নির্ভর হয়ে পড়তে হবে। সরকারের শাসনামলের শেষ মুহুর্তে ভাবমূর্তি বিনষ্ট ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কুটকৌশল থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবিলম্বে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করার নির্দেশ দিতে লবণ চাষীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন-কক্সবাজার লবণ শিল্প বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মাস্টার আবদুল কাদের চেয়ারম্যান, মিল মালিক নেতা অছিউর রহমান, বাংলাদেশ লবণ চাষী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস কায়ছার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার লবণ শিল্প বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এম.আর মাহবুব ও লবণ চাষী নেতা ফরিদুল আলম প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT