টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

লবণের কেনা ৩ টাকা বিক্রি ৩৫ টাকায়!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৩
  • ১৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার :::প্রান্তিক লবণ চাষিদের ঘাম শ্রমে উৎপাদিত লবণের লাভের ফায়দাটা একচেটিয়া লুটেন লবণ সিন্ডিকেট। প্রান্তিক চাষিদের সামান্য দাদন দিয়ে মজুদ করেন সারাবছরের উৎপাদন। অবিশ্বাস্য সত্য যে, মুনাফালোভী এই লবণ সিন্ডিকেট মৌসুমে প্রান্তিক চাষিদের দেন মাত্র কেজিপ্রতি ৫ টাকা। আর লবণ মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করেন ৭-১০ টাকায়। খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে প্যাকেটজাত লবণের দাম পড়ে ৩২-৩৫ টাকা। লবণ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও একদিকে সিন্ডিকেট গলা কাটে উৎপাদক চাষিদের। অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মুনাফার বলি হন খুচরা ক্রেতা। প্রয়োজনহীন হওয়ার পরেও প্রান্তিক চাষিদের আরেক দফা গলা কাটতে আমদানি করা হচ্ছে শুল্ক ফাঁকির আন্ডার ইনভয়েসের ২ লাখ টন লবণ। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার ইনভয়েস ও হুন্ডির তথ্য প্রকাশিত হলে লবণ সিন্ডিকেট ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে মোটা অঙ্কের লেনদেনে ম্যানেজ করে।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সরকারি উচ্চ মহলকে প্রভাবিত করা হয় লবণের দাম কেজিপ্রতি ৩ টাকা কমিয়ে। লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা জানান, ৩ টাকা দাম কমানোর ফলে কেজিপ্রতি একচেটিয়া ১২ টাকা মুনাফা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৯ টাকায়। এই ঘাটতি পোষাতেই চলতি মৌসুমে উৎপাদক-প্রান্তিক চাষিদের বাধ্য করা হচ্ছে ২-৩ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রির দাদন নিতে।

কক্সবাজারে উৎপাদিত হয় দেশের লবণের সিংহভাগ। উৎপাদক এলাকা থেকে কেনা অপরিশোধিত লবণ এখন উৎপাদক কক্সবাজারেই প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকায়। উৎপাদকরা জানান, লবণের ন্যায্যমূল্য না পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তারা। তখন লবণ হয়ে পড়বে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর এক শিল্প। সেই সঙ্গে বেকার হবেন লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ লাখ শ্রমজীবী। তারা লবণ শিল্পকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রার জোর দাবি জানিয়ে আশু সরকারি হস্তপে কামনা করেন। =========== কক্সবাজারে পাহাড় ভাড়ায় নিশ্চিন্ত বন বিভাগ মাসিক আয় কোটি টাকা ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার ::: নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসকারী প্রায় ২ লাখ পরিবারের ১০ লাখ মানুষ নামছেন না। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের প থেকে মাইকিং করেও তাদের কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব হয়নি, এখানে থাকলে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। বর্ষা এলেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেসময় স্থানীয় প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, কক্সবাজার উত্তর ও দণি বন বিভাগে দায়িত্বশীলরা কোনোদিনই মন থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন না। অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে, জেলার ৮ উপজেলায় বর্তমানে মোট কত একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়েছে সে ব্যাপারে স্থানীয় বন বিভাগ মোটেও মাথা ঘামান না। কারণ মাস শেষ হলেই অবৈধ বসবাসকারী প্রায় সব বাড়িঘরের মালিকদের কাছ থেকে কক্সবাজারে কর্মরত বন বিভাগ কর্মীরা ভাড়া তোলেন। বন বিভাগের কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আস্কারায় এলাকাভিত্তিক গার্ড, ভিলেজার ও বিট কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে এসব ভাড়ার টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের প্রায় বেশিরভাগ বনভূমি রয়ে গেছে সরকারের হাতছাড়া। বর্তমানে সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা, স্থানীয় চোর, ডাকাত এবং বিভিন্ন শ্রেণীর অপরাধীর স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৫ জুন জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ৬ সেনা সদস্যসহ ৫৭ জনের প্রাণহানির পর ২০১২ সালের ২৭ জুন একই ঘটনায় মারা গেছেন আরও ৪৯ জন। পাহাড় কর্তন, বৃ নিধনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের ফলে পাহার ধসে যেন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এরপরও প্রাণের মায়া নেই কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, মহেশখালীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের। সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পাহাড় ধস হয়েছে। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীরা। শুধু কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে কয়েক লাখ মানুষ। গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধস হওয়ায় শহর ও আশপাশের এলাকার হাজারও পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছে। আতঙ্কে ভুগছে অনেকেই। অব্যাহত পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আর প্রশাসনের প থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে সতর্ক করার পরও সেখান থেকে সরছেন না কেউই। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অভিযোগ, তাদের পুনর্বাসন না করায় তারা যাওয়ার কোনো উপায় না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঝুঁকিতে থাকার পরও এখনও বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা। বৃষ্টি এলেই পাহাড় কাটার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ফলে পরিবেশ হয়ে ওঠে সংকটাপন্ন। প্রতিদিন পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে নিত্যনতুন বসতি। ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে মারাত্মকভাবে। সবচেয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে ২০১১ সালের ১৫ জুন। ওই সময় বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে রামু উপজেলার হিমছড়ির সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পের ছয় সদস্যসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মারা যায় ৫৭ জন। আর এর পর চলতি বছরের ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও বান্দরবান জেলার লামা এবং নাই্যংছড়িতে মারা যায় অর্ধ শতাধিক। এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বর্ষা মৌসুম এলেই জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার প থেকে মাইকিং করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা চলে নিত্যনতুন কায়দায়। আর এ পাহাড় কাটার পেছনে জড়িত রয়েছে একশ্রেণীর ভূমিদস্যু। এসব ভূমিদস্যু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পাহাড় কাটার মতো হীন কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে পাহাড় কাটার ঘটনা বেশির ভাগ ঘটছে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং এলাকা, পাহাড়তলী, ইউসুফের ঘোনা, বাদশাঘোনা, ঘোনারপাড়া, বৈদ্যঘোনাসহ শহরের একাধিক এলাকায়। প্রতিদিন শত শত ঠেলাগাড়ি করে এক শ্রেণীর লোক মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দিচ্ছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকতসমৃদ্ধ পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার শহর মনোরম পাহাড়বেষ্টিত। কিন্তু বর্তমানে কক্সবাজারের রাকবচ এ পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে ভূমিদস্যুরা। ফলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুম কিছুই বুঝে না, পাহাড় কাটতেই থাকে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় অত্যাসন্ন কক্সবাজারের জন্য। এ বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদপে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, প্রশাসনের প থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে এবং প্রশাসনের লোকজনও তাদের প্রাণহানি থেকে বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রমতে, কক্সবাজার জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের কাছ থেকে বন বিভাগ কমপে মাসে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি টাকা উপার্জন করে। পরিবারপ্রতি ৩শ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার এবং ত্রেবিশেষে দেড় হাজার টাকা করে প্রায় ২ লাখ পরিবার থেকে উপার্জিত হচ্ছে এ টাকা। জানা গেছে, মতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহারকারী এলাকাভিত্তিক কিছু টাউট-বাটপার ও দুর্নীতিবাজরা মিলেই বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে এ প্রথা জিইয়ে রেখেছে। মূলত তাদের কারণেই জেলার কোটি কোটি টাকার সরকারি বনজ সম্পদ উদ্ধার করা যাচ্ছে না। ======= ‘সাদা সোনা’ থেকে বছরে আয় ৩ কোটি টাকা ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার ::: পাহাড়ের বুকে বেড়ে ওঠা রাবার গাছের দেহ নিংড়ানো কষ ‘সাদা সোনা’ নামেই যাকে চেনে সবাই। ঢালা হচ্ছে বড় বড় ট্রেতে। জমানো সাদা সাদা পাতকে রোলারের সাহায্যে আরো চ্যাপ্টা করছেন শ্রমিকরা। ব্যবসায়িক ভাষায় যার নাম রাবার শিট। পর্যটন জেলা কক্সবাজারের সীমানা ছাড়িয়ে এ রাবার চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে। যাচ্ছে দেশের বাইরেও। কক্সবাজার জেলার এক মাত্র রাবার বাগানই (রামু রাবার বাগান) উৎপাদন হচ্ছে বছরে প্রায় দেড় লাখ কেজি রাবার। এ থেকে আয় হচ্ছে প্রায় তিন কোটি টাকা। জবর-দখল ও বন্য হাতির উপদ্রব বন্ধ করা গেলে এ বাগান থেকেই বছরে দুই লাখ কেজি রাবার উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বাগান দখলের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ১০৩ জনের একটি তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রামু থানা এবং রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আয়ুব আলী জানান, গত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এ বাগান থেকে রাবার উৎপাদন হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩১ কেজি। এ থেকে আয় হয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৮৭ টাকা। চলতি অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত রাবার উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৮ কেজি। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৫ টাকা। উৎপাদন আরও বাড়াতে আগামী জুলাই মাসে বাগানে নতুন করে ১২ হাজার গাছ লাগানো হবে। রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা, কাউয়ারকূপ ও গর্জনিয়া ইউনিয়নে বন বিভাগের ৬০০ একর জমি ইজারা রাবার বাগানটি গড়ে তোলা হয় ১৯৬০ সালে। পরে বাগানটির পরিসর বেড়ে দুই হাজার ১৩১ একরে দাঁড়ায়। বর্তমানে বাগানে গাছ আছে এক লাখ ৫৬ হাজারটি। এর মধ্যে ৮৭ হাজার ১২০টি গাছ রস উৎপাদন মতা হারিয়ে ফেলেছে। বন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বাগানটির তত্ত্বাবধান করছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন রামু রাবার বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের হাজার হাজার গাছে ঝুলছে ছোট ছোট পাত্র। গাছ থেকে সাদা রঙের কষ ঝরে পড়ে ওই সব পাত্রে। শ্রমিকেরা জানান, কাঁচা কষ বালতিতে ভরে প্রথমে কারখানায় সরবরাহ করা হয়। সেখানে কষের সঙ্গে পানি ও এসিড মিশিয়ে নির্ধারিত স্টিলের ট্রেতে জমা রাখা হয়। এরপর রোলার মেশিনের সাহায্যে কষ থেকে পানি বের করে ড্রিপিং শেডে শুকানো হয়। পরে ধুম ঘরে (আগুনে পোড়ানো হয় যেখানে) তা পোড়ানো হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে রাবার বস্তাভর্তি করে গুদামজাত করা হয়। রাবারশ্রমিক মো.হাবিবুর রহমান ও আলী আকবর বলেন, প্রতিদিন গড়ে একজন শ্রমিক ৩৫ থেকে ৪০ কেজি কষ সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি কেজি কষ সংগ্রহের জন্য তাঁরা পারিশ্রমিক পান ৫ টাকা । মো. আয়ুব আলী জানান , কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার কেজি রাবার উৎপাদন হয়। সারা বছরই রাবার উৎপাদন চলে। তবে বর্ষায় কষ আহরণ কিছুটা কমে গেলে উৎপাদনও কমে। শীত মৌসুমে গাছ থেকে বেশি কষ পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের চাহিদা বাড়ায় চলতি বছর এর দামও বেড়েছে। গত বছর প্রতি কেজি রাবার ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৮৫ টাকায়। এ রাবার দিয়ে তৈরী হচ্ছে জুতা, ফুটবল, টায়ার-টিউব, গাড়ির যন্ত্রাংশ, আঠা , ওষুধ, ব্যাগ, বেল্ট। সরকারিভাবে দেশে ১৬ টি রাবার বাগান রয়েছে। এ গুলোকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্রগ্রাম জোনে ৭ টি, সিলেট জোনে ৫ টি ও মধুপুর জোনে ৪ টি বাগান রয়েছে। এ ১৬ টি বাগানের মধ্যে কক্সবাজারের এক মাত্র রামু রাবার বাগানটি অন্যতম। গত অর্থবছরে সব চেয়ে বেশি আয় হয়েছিল এ বাগান থেকে। ===========

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT