টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গরু বিতরণের নামে সাড়ে ৪ শত কোটি টাকা লুটপাট মিশন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কফিল উদ্দিন আনু (০১৮৬৭-৫৪৯২৩৪) কক্সবাজার = কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফে ৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গিদের অর্থে এবং কোরবানের ঈদের গরু বিতরণ তৎপরতা ফের শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪ শ গরু উখিয়ার বিভিন্ন বাজার থেকে ক্রয় করে যাচ্ছে। এসব গরু ক্রয়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক রোহিঙ্গাদের অনুদানের প্রায় ৪ শ ৫০ কোটি টাকা ওই সিন্ডিকেটের হাতে এসেছে বলে তাদের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শতাধিক রোহিঙ্গা জঙ্গি এ দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গরু ক্রয় ও বিতরনে হাত বদল করেছে প্রশাসনিক নজরদারী এড়াতে। দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত শরণার্থীদের পূজি করে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে নানা কর্মকান্ড স্থানীয় একটি শক্তিশালী পক্ষ নিয়ন্ত্রন করলেও গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক নজরদারী এড়াতে নতুন করে অভিনব পন্থা অবলম্বন করছে। সূত্র মতে, কয়েকটি এনজিওর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনুদানের বিপুল অর্থ কোরবান ঈদে গরু বিতরণের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে অন্তত কয়েকশ কোটি টাকা। এই টাকার সিংহভাগ ওই সব প্রভাবশালী লোপাট সহ জঙ্গি রোহিঙ্গারা জঙ্গি তৎপরতা ফের শুরু করতে নগদ টাকা ও গরু বিতরনের মধ্য দিয়ে ফের জঙ্গি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ার আশংকা রয়েছে। উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প এলাকার এক সময়ে চায়ের দোকানের কারিগর থেকে পরবর্তীতে ইউপি সদস্য হয়ে ক্যাম্পের অভ্যান্তরে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নায়ক মৌলভী বখতিয়ার বর্তমানে হাজার কোটি টাকার মালিক বটে। তবে তার আয় উৎস বিগত সময়ের উখিয়ার রেজিঃ নন রেজিঃ দুইটি শরণার্থী শিবির থেকে ১০ হাজারের অধিক লোক মালয়েশিয়ায় পাচার করে অভিযোগ রয়েছে। এ সব লোকদের মধ্যে অধিকাংশ মালয়েশিয়ায় পৌঁছতে পারলেও বাকীদের স্থান হয়েছে গণ কবর, আবার অনেকের স্থান বিভিন্ন দেশের কারাগার। মালয়েশিয়া পাচার হয়ে যাওয়া এ সব স্বজন হারানো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত আত্মীয় স্বজনেরা নিরবে চোখের জ্বল ফেলছে। কিন্তু কেউ বখতিয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহজ পাচ্ছে না। অথচ উখিয়া টেকনাফের মালয়েশিয়ার মানবপাচারকারী হয়ে মানবপাচারের গন্ধও তার গায়ে লাগেনি। এ ভাবে তার নেতৃত্বে ক্যাম্পে পতিতা ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসা ২০ থেকে ৩০টি আস্তেনা রয়েছে। যেখান থেকে তার দৈনিক আয় লক্ষাধিক টাকা। তবে এদিকে উখিয়া-টেকনাফের মানবপাচারকারী প্রধান হোতা হয়েও তার গাঁয়ে এখনো পর্যন্ত মানবপাচার শব্দের আচর লাগেনি। তিনি প্রায় সময় দাম্ভোক্তি করে কক্সবাজার জেলার আইন-শৃংখলা বাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সবাই আমার বন্ধু বান্ধব। সবাই আমার কাছে আসে তাদের প্রয়োজনে। এমন দাম্ভোক্তির সত্যতা অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রায় অনুধাবন করা যায়। প্রায় সাংবাদিকেরা আমার কাছে আসে? আমার বিরুদ্ধে লিখে এমন সাংবাদিক উখিয়াতো দুরের কথা পুরো কক্সবাজারের নেই। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ আবদুর রহমান বদি আমার সবচেয়ে কাছের লোক। থাকে নানান সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ইতিপূর্বে ৩টি রোহিঙ্গা জঙ্গিকে আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই রোহিঙ্গা জঙ্গি দিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা জানান, ৪ বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকে কক্সবাজার শহরে আসে পাঁচ-ছয় মাস আগে। এই দু’জন ধরা পড়ার পর রোহিঙ্গা জঙ্গিদের গোপনে সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আটক ব্যক্তিরা হলো মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু শহরের উকিলপাড়ার মোহাম্মদ ইউনুছ ও মংডু শহরের জামবইন্না এলাকার মোহাম্মদ রফিক বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারস্থ র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর আহমদ হোসেন মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নতুন করে তৎপরতার তথ্য র‌্যাব সহ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। তবে জঙ্গিদের গোপন কোনো প্রশিক্ষণ ক্যাম্প রয়েছে কি-না এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ব্যাব সূত্রে জানা যায়, কতিপয় রোহিঙ্গা জঙ্গি অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে। আর নগদ অর্থ ও গরু সহ বিভিন্ন খাদ্য ও ব্যবহার পণ্য সামগ্রী বিতরনের নামে ফের জঙ্গি তৎপরতা শুরু করায়, ২ উপজেলায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের নানা শংকা ও আতংক দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া দুই রোহিঙ্গা জঙ্গিকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় জঙ্গি সহ সরকার বিরোধী কর্মকান্ড ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের কাজে লিপ্ত রয়েছে। এসবের নেপথ্যে অর্থ যোগান দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। যারা মানবতার দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করে নগদ অর্থ, গরু ও নানা পণ্যসামগ্রী বিতরনের মধ্য দিয়ে বাগে আনছে অপরাধী রোহিঙ্গাদের । এমনকি গোপন সূত্রে জানা যায়, কুতুপালং রেজিষ্ট্রাট ও আন-রেজিষ্ট্রাট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ১০ সহস্রাধিক পরিবার রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট অংকের মাসিক বেতন ভাতা পেয়ে থাকে মধ্য প্রাচ্য ভিত্তিক ওইসব জঙ্গি সংগঠন থেকে। প্রতি বারের ন্যায় এবারও আসন্ন কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে সম্প্রতি উখিয়ার বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ক্রয় করে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী গ্রাম থাইংখালী, মোছারখোলা, ধইল্যাঘোনা, হাজমের রাস্তার মাথা, মাছকারিয়া, মধুরছড়া, ঘুমধুম কচুবনিয়া বড়–য়াপাড়া সহ অর্ধ শতাধিক জায়গায় গরু মজুদ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। পূর্বের সিন্ডিকেট কৌশল পাল্টিয়ে গরু ক্রয় ও বিতরণ সহজলভ্য করার জন্য ইতিমধ্যে সিন্ডিকেটে আরো নতুন করে সরকার দলীয় কতিপয় সদস্য যুক্ত হয়েছে। ক্যাম্প সংশিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন র‌্যাবের হাতে আটক ২ ব্যক্তি আরএসও প্রশিক্ষিত জঙ্গি। তারা বিস্ফোরক তৈরিতে সক্ষম। এছাড়াও কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপড়ার রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছে ৫ শতাধিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জঙ্গি। বর্তমানে নয়াপাড়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে দিনের বেলায় ঘুরাফেরা করলেও রাতের বেলায় স্বশস্ত্র অবস্থায় পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান নেয়। বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সংগঠিত করে পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তারা তৎপরতা চালাচ্ছে। এই জঙ্গি গ্র“পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরএসওর এক অংশের কমান্ডার আফগানিস্তান ফেরত মুজাহিদ মাস্টার আইয়ুব। সমান তালে কোরবানির ঈদের গরু ক্রয় ও মজুদ করে চলছে। উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১৩ সহস্রাধিক। অথচ এই ক্যাম্পে তালিকাবহির্ভূত আরও লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। যাদের সিংহভাগ রয়েছে আইন শৃংখলা অবনতিতে জড়িত। এসব রোহিঙ্গাদের উপর ক্যাম্প সংশিষ্ট প্রশাসন সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এছাড়া তাদের চলাফেরা ও গতিবিধির ওপর কারও কোনো নজরদারি নেই বললেই চলে। এই সুযোগে রোহিঙ্গারা অনুদানের বিশাল অর্থ এনে এ দেশীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজসে নামে মাত্র গরু রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিলি করে (জনপ্রতি ১ কেজি করে) আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উক্ত আলোচিত মৌলভী বখতিয়ার এবং দেশীয় কতিপয় দুঃস্কৃতিকারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করে চললেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি নেই। উখিয়া-টেকনাফের সচেতনমহল জেলা পুলিশ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবী তুলেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT