টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোহিঙ্গারা কবে ফিরবে: ভাবতে হবে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৭৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গারা কবে ফিরবে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে

বর্ষা আসন্ন। পাহাড়ের ঢালে কোনো রকমে মাথা গুঁজে থাকা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিদেশি ত্রাণ সহযোগিতার প্রবাহ ক্রমেই কমছে। মিয়ানমার মুখে প্রত্যাবাসনের কথা বললেও কার্যত তাদের অনাগ্রহই স্পষ্ট হচ্ছে। বরং তাদের আগ্রাসী চরিত্রের প্রকাশ ঘটছে দেশটির অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ওপরও। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ কী করবে? জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে। গতকাল রবিবার তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছে। আজ তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এরপর তারা মিয়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। সেখানে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও তাদের কথা হবে। ফিরে গিয়ে তারা রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরবে। নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুই সদস্য দেশের ভিন্নমত থাকায় এই উদ্যোগের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই বাংলাদেশকে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়েই ভাবতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রেলিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক তুলে ধরে তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার জোরালো ভূমিকা আশা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার এবং মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টির আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ বাংলাদেশকে একইভাবে আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু এত চাপের মুখেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাস্তব কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। শুধু নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। এদিকে লাখ লাখ রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশে রীতিমতো বিপর্যয় নেমে এসেছে। একের পর এক পাহাড় কেটে সমান করা হচ্ছে। বন ধ্বংস করা হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এর সামাজিক-অর্থনৈতিক অভিঘাতও কম নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দিনমজুর বা দরিদ্র জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আবার রোহিঙ্গাদের শিবির থেকে পালিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও বাড়ছে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, নানা উপায়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ম্যানেজ করে দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে এবং সেসব দেশে গিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়গুলো কোনোভাবেই অবজ্ঞা বা অবহেলা করার মতো নয়।

বিশেষজ্ঞদের মত, কক্সবাজারের মতো ছোট একটি জায়গায় এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন রাখা হলে তা হবে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ভাসানচরে কিছু রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একইভাবে আরো কিছু স্থানে তাদের সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ আরো বাড়াতে হবে, যাতে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জাতিসংঘকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। চীন ও রাশিয়া যাতে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করে, তার জন্যও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। আমরা চাই, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT