টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মেয়াদ শেষ হলেও অব্যবহৃত মোবাইল ডাটা ফেরতের নির্দেশ মন্ত্রীর টেকনাফ পৌরসভার এক গ্রামেই ক্যাম্প পালানো ১৮৩ রোহিঙ্গা স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে মায়ের গর্ভে ১৩ সপ্তাহ্ বয়সী শিশুর নড়াচড়া হারিয়াখালী থেকে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে তথ্যকেন্দ্রের সহযোগিতায় মীনা দলের সদস্যদের নিয়ে ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হ্নীলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আশ্রয় নেওয়া লোকদেরকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ টেকনাফের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকা হতে ২ জন গ্রেফতার এসএসসির অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা মাউশির টেকনাফে’ ষষ্ঠ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী ধর্ষনের শিকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে একজনকে অপহরণ

রোহিঙ্গাদের কারণে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কক্সবাজারবাসী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ৪০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি []

কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম এর উদ্যোগে গতকাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ২০১৮ উদযাপন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সিভিল সোসাইটি ও এনজিওর নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন অনুষ্ঠানের মডারেটর হিসেবে ছিলেন আবু মোরশেদ চৌধুরী এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাহী পরিচালক কোস্ট ট্রাস্ট, মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নিবার্হী বিমল চন্দ্র সরকার, ব্রাকের আঞ্চলিক প্রধান অজিত নন্দি, সাংবাদিক মোঃ আলী জিন্নাত, ফজলুল কাদের চৌধুরী, নুরুল ইসলাম ও কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মকবুল আহমেদ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তি, কোস্ট ট্রাস্ট, একলাব, ব্র্যাক, নোঙ্গর, ইপসা, পালস, রেডিও টেকনাফ এর প্রতিনিধিবৃন্দ। ফোরাম কক্সবাজারে দিবসটির প্রতিপ্রাদ্য বিষয় ঠিক করে- “কক্সবাজারের সমাজ, মানবাধিকারের সমাজ, রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়দের অধিকারকেও সমুন্নত রাখুন”।
কোস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মায়ানমারের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী মি. মং জার্নি বলেছেন, গনহত্যা এখন একটি লাভজনক ব্যবসা। মায়ানমারে যে গণহত্যা চলছে তাতে মায়ানমারে সামরিক জান্তা, চীন ও ভারতের কোম্পানীগুলো লাভবান হবে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা এসেছে, এতে অনেকেরই লাভ হচ্ছে। কারণ কক্সবাজারে প্রায় ১০০০ বিদেশী আইএনজিও ও ইউএন এক্সপার্ট কাজ করছে এটা কক্সবাজারের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন। প্রতিজনের পিছনে দৈনিক ব্যয় হচ্ছে কমপক্ষে ৩০০ ডলার। অর্থাৎ তাদের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। অথচ কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও কাজ করতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, নেপালে ভুমিকম্পের পরে আইএনজিওদের সরাসরি কাজ করা থেকে সরকার নিষিদ্ধ করে এবং ফিলিপাইনের সরকারও সাইক্লোন হাইওয়ানের পর একই রকম সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বাংলাদেশ সরকার ও রাজনীতিবিদদের কে এইরকম সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয় এনজিওদের মাধ্যমে কাজ করাতে হবে।
মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নিবার্হী বিমল চন্দ্র সরকার বলেন, সারা বিশ্বে আজ মানবাধিকার লংঘিত। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথমে কক্সবাজার বাসিই গ্রহন করেছে। কিন্তু এখন স্থানীয় কক্সবাজারবাসীই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। স্থানীয় মানুষের কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। তাদের নেই পর্যাপ্ত খাদ্য, কর্মসংস্থানও কমে গেছে। তাই স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমাদের দীর্ঘ দিনের প্রশিক্ষিত কর্মী বেশি বেতনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এগুলো বন্ধের জন্য আইএনজিওদের আহ্বান জানাচ্ছি। সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী জিন্নাত বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তা শুধু মানবাধিকার লংঘন নয়, গনহত্যা। অথচ বিশ্ব জনমত কার্যকরভাবে মায়ানমারের উপর কোন চাপই প্রয়োগ করতে পারছে না। পাশাপাশি এই জন¯্রােতের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগন। কক্সবাজারের বিশিষ্ট সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী রাখাইন রাজ্যের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্র ভারত, চীন, রাশিয়া আমাদের প্রস্তাবে সমর্থন দেয়নি। বরং তারা বাধা দিয়েছে। বাংলাদেশ যেই দিন মায়ানমারের সাথে চুক্তি করেছে, সেইদিনই আরো রোহিঙ্গা মায়ানমার হতে বাংলাদেশে এসেছে। তাহলে কিসের চুক্তি হলো? তিনি অং সাং সুচির কর্মকান্ডের কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।
মানববন্ধনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপরোক্ত বিষয়ের উপর একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারনে কক্সবাজারের আর্থ ও সামাজিক জীবন কি প্রভাব পরবে তার উপর গবেষণা প্রনয়ণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মানববন্ধন এবং সেমিনারের মডারেটর কক্সবাজার সিএসও ফোরামের কো-চেয়ার আবু মোর্শেদ চৌধুরী গত ৮ ও ৯ ই ডিসেম্বর টেকনাফ ও উখিয়াতেও এধরনের সমাবেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, শরণার্থীদের জন্য আসা বিদেশী সাহায্যের প্রায় ৭০% বিদেশী এক্সপার্টদের জন্য ব্যয় হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশীরা দুযোর্গ ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ব খ্যাত। তিনি আইএনজিও ইউএন এর সকল বিদেশী সহায়তার পুর্ণ স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগন ও সরকারের প্রতি দায়বদ্ধতা দাবি করেন। সবশেষে তিনি দিবসটি পুরো কক্সবাজার জেলায় সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সকল সিএসও এনজিও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT